বিদেশে দীর্ঘদিনের কর্মজীবন শেষে দেশে ফিরে অনেকেই যখন নতুন করে কর্মসংস্থানের পথ খুঁজে হিমশিম খান, তখন কোয়েল ও মুরগির খামার দিয়ে সফলতার পথে এগিয়ে চলেছেন চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার কহলথুড়ি এলাকার উদ্যোক্তা দুলাল মুন্সী। বিদেশে না ফিরে নিজ এলাকায় আত্মকর্মসংস্থানের লক্ষ্যে তিনি শুরু করেন কোয়েল পাখি ও ফাউমি মুরগি পালন। সময়ের সঙ্গে তার ছোট উদ্যোগটি এখন রূপ নিয়েছে বড় পরিসরের খামার ও হ্যাচারিতে।
‘ইলমা টাইগার এন্ড কোয়েল হ্যাচারী’ নামে পরিচালিত এ খামারে বর্তমানে প্রায় ২৫ হাজার কোয়েল পাখি এবং ৬০০টি ফাওমি মুরগি রয়েছে। খামারের নিয়মিত পরিচর্যা ও দেখাশোনার কাজে নিয়োজিত রয়েছেন ৬ জন শ্রমিক। প্রতিদিন সকাল হলেই কর্মচারীদের সঙ্গে নিয়ে খামারে ছুটে যান দুলাল মুন্সী। পাখি ও মুরগির খাবার দেওয়া, পরিচর্যা, ডিম সংগ্রহসহ নানা কাজে ব্যস্ত সময় কাটে তার।
জানা যায়, ফাউমি মুরগি সাধারণত সাড়ে চার মাস বয়স থেকে ডিম দেওয়া শুরু করে এবং প্রায় ১৮ মাস পর্যন্ত নিয়মিত ডিম দেয়। খামারে থাকা ৬০০টি ফাউমি মুরগি থেকে নিয়মিত ডিম সংগ্রহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি ২৫ হাজার কোয়েল পাখি থেকেও প্রতিদিন উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ডিম সংগ্রহ করা হয়। সংগৃহীত ডিম হিসাব করে সংরক্ষণ ও বাজারজাত করা হয়। স্থানীয় বাজারের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকাতেও এসব ডিম সরবরাহ করা হচ্ছে।
উদ্যোক্তা দুলাল মুন্সী জানান, ২০০১ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত তিনি বিদেশে ছিলেন। দেশে ফিরে আর বিদেশে না গিয়ে নিজ উদ্যোগে কিছু করার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর কোয়েল পাখি পালন ও হ্যাচারি গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেন। ইউটিউব দেখে শুরুতে ছোট পরিসরে কাজ শুরু করলেও ধীরে ধীরে অভিজ্ঞতা, পরিশ্রম ও পরিকল্পনার মাধ্যমে খামারটি বড় আকার ধারণ করে।
বর্তমানে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ তার হ্যাচারিতে কোয়েল পাখি ও ফাউমি মুরগি সংগ্রহ করতে আসেন। কেউ খামার গড়ে তুলতে চাইলে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও পাখি সরবরাহের আশ্বাসও দেন তিনি।
দুলাল মুন্সী আরও বলেন, ‘শুরুতে অনেক বাধা থাকলেও ধীরে ধীরে কাজের পরিধি বাড়িয়েছি। এখন এই খামার থেকে নিজের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি কয়েকজন মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়েছে।’ শিক্ষিত বেকার তরুণদেরও চাকরির পেছনে না ছুটে সামর্থ্য অনুযায়ী উদ্যোক্তা হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
খামারে কর্মরত শ্রমিকরাও এ কাজে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা জানান, নিয়মিত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি খামারের পাখি ও মুরগির পরিচর্যা করেন তারা। এ কর্মসংস্থানের মাধ্যমে তাদের পরিবারও উপকৃত হচ্ছে।
স্থানীয়দের মতে, বাড়ির ছাদে ফাউমি মুরগি পালন থেকে শুরু করে এলাকায় কোয়েল পাখির হ্যাচারি গড়ে তুলে দুলাল মুন্সী যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা বেকার তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণার। অল্প পরিসরে শুরু করা একটি উদ্যোগও যে ধীরে ধীরে বড় কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে, তার বাস্তব উদাহরণ হয়ে উঠেছে তার ইলমা টাইগার এন্ড কোয়েল হ্যাচারী।
কোয়েল পাখি ও ফাউমি মুরগির ডিমের ক্রমবর্ধমান চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে খামারটি আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে দুলাল মুন্সীর।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সাওকাত হোসেন সুমন বলেন, ‘দুলাল মুন্সী বিদেশ থেকে দেশে এসে আত্মকর্মসংস্থানের লক্ষ্যে কোয়েল ও মুরগির হ্যাচারী করেছে, তা বিরল দৃষ্টান্ত। তার দেখাদেখি কোনো উদ্যোক্তা খামার করতে চাইলে তাকে সহযোগিতা করা হবে এবং দুলাল মুন্সীর খামার পরিদর্শনে গিয়েও বৃহৎ আকারে তা স্থাপনে তাকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।’
সময়ের আলো/মহু