নীলফামারীর ডোমারে অপরিকল্পিত ও অনুমোদনহীন ইটভাটার কারণে বায়ু, মাটি ও পানি দূষণ বাড়ছে। এর প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও কৃষির ওপর। ডোমারে শালকী ব্রিকস, থ্রি ব্রাদার্স ব্রিকস ও এমএসবি ব্রিকস নামে তিনটি ইটভাটা ছাড়পত্র ছাড়া পরিচালিত হচ্ছে। তবে পরিবেশ অধিদপ্তরের বলছে, কোনো ধরনের ছাড়পত্র বা জেলা প্রশাসনের নিবন্ধন ছাড়াই এসব ইটভাটার কার্যক্রম চালাচ্ছে মালিকপক্ষ।
জানা যায়, এসব ইটভাটায় ব্যবহৃত কয়লা ও অন্যান্য জ্বালানি পোড়ানোর ফলে কার্বন ডাই-অক্সাইড, সালফার ডাই-অক্সাইড ও কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে মানুষের স্বাস্থ্য ও পরিবেশের ওপর। এছাড়া ইট তৈরির জন্য কৃষি জমির উর্বর উপরি স্তর (টপ সয়েল) কেটে নেওয়া হচ্ছে। ফলে জমির উৎপাদন ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে কৃষকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
পরিবেশবিদদের মতে, ইটভাটাগুলো নির্দিষ্ট নিয়মের আওতায় না আনলে ভবিষ্যতে এই দূষণ আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। পরিবেশ রক্ষার জন্য আধুনিক ও পরিবেশ বান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার, কৃষিজমিতে ইটভাটা স্থাপন বন্ধ এবং কঠোর নজরদারি জরুরি।
ডোমার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, কৃষি জমির টপ সয়েল বা উপরি স্তর কেটে নেওয়া হলে জমির উর্বরতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। টপ সয়েল কাটার ফলে জমির স্বাভাবিক শক্তি ও উর্বরতা নষ্ট হয়ে যায়। এভাবে উর্বরতা হ্রাস পেতে থাকলে ভবিষ্যতে উৎপাদন কমে গিয়ে খাদ্য সংকট দেখা দেবে।
ইটভাটার নির্গত ধোঁয়ার কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. রায়হান বারী বলেন, ইটভাটার ধোঁয়ায় থাকা ক্ষতিকর গ্যাস ও সূক্ষ্ম ধূলিকণা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। দীর্ঘদিন এসব ধোঁয়ার সংস্পর্শে থাকলে শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, ব্রংকাইটিস-সহ শ্বাসযন্ত্রের নানা রোগ হতে পারে। বিশেষকরে শিশু ও বয়স্করা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়াও চোখে জ্বালা, ত্বকের সমস্যা ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে।
এ বিষয়ে নীলফামারী জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আবদুল্লাহ্-আল-মামুন বলেন, অনুমোদনহীন ইটভাটার বিরুদ্ধে আমাদের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এসব অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের অংশ হিসেবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। পরিবেশ রক্ষা ও জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে।
এ প্রসঙ্গে নীলফামারী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান বলেন, পরিবেশ ও কৃষিজমি রক্ষায় আইন অনুযায়ী এসব অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে নিয়মিত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
আআ/আরআর