ক্যাশলেস সোসাইটি গড়ে তোলা সম্ভব হলে দেশে বছরে দেড় থেকে দুই লাখ কোটি টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত রাজস্ব আয় হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। একই সঙ্গে এতে দুর্নীতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। ক্যাশলেস লেনদেন বাড়লে রাজস্ব আহরণে স্বচ্ছতা আসবে এবং সরকার অতিরিক্ত হাজার হাজার কোটি টাকা আয় করতে পারবে বলেও জানান তিনি।
রোববার (১১ জানুয়ারি) রাজধানীর একটি হোটেলে দেশের প্রথম ইসলামিক মোবাইল ব্যাংকিং সেবা এম-ক্যাশের নতুন কার্যক্রম উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন গভর্নর।
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এম জুবায়দুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের এক্সিকিউটিভ ডাইরেক্টর আরিফ হোসেন খান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইসলামী ব্যাংকের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর মো. ওমর ফারুক খান।
ইসলামী ব্যাংকিং প্রসঙ্গে গভর্নর বলেন, ‘দেশের মানুষের জন্য ইসলামী ব্যাংকগুলোতে অবশ্যই শরিয়াহ আইন অনুসরণ করতে হবে। এটি কেবল ধর্মীয় অনুভূতির বিষয় নয়; বরং ব্যক্তি ও বড় গ্রাহক সবাইকে শরিয়াহভিত্তিক সেবা দেওয়ার একটি কাঠামোগত দায়িত্ব।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে ইসলামী ব্যাংকিংয়ের ভবিষ্যৎ অত্যন্ত সম্ভাবনাময়।
তিনি বলেন, গ্রাহকসেবার দিক থেকে ইসলামী ব্যাংকগুলো দেশের সবচেয়ে বড় ব্যাংকিং নেটওয়ার্ক হিসেবে গড়ে উঠেছে, যাদের গ্রাহক সংখ্যা ৩ কোটিরও বেশি। এই বিশাল গ্রাহকভিত্তিকে কাজে লাগিয়ে ক্যাশলেস সোসাইটি গড়তে মাইক্রো ও এসএমই খাতে ঋণ বিতরণ বাড়ানোর পাশাপাশি এম-ক্যাশের মতো ডিজিটাল সেবাকে আরও বিস্তৃত করার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে ইসলামি ব্যাংকের চেয়ারম্যান জানান, এম-ক্যাশকে জনপ্রিয় করতে প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, ডিজিটাল লেনদেন বাড়াতে ব্যাংক সব ধরনের প্রযুক্তিগত ও গ্রাহকসেবামূলক প্রস্তুতি গ্রহণ করছে।
অনুষ্ঠান শেষে গভর্নর পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, পুরোপুরি ক্যাশলেস ব্যবস্থা চালু হলে সমাজে দুর্নীতি কমে আসবে এবং সরকার বছরে দেড় থেকে দুই লাখ কোটি টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত রাজস্ব আহরণ করতে সক্ষম হবে।
সভাপতির বক্তব্যে চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এম জুবায়দুর রহমান বলেন, ইসলামী ব্যাংকের ৩ কোটি গ্রাহককে সঙ্গে নিয়ে এম-ক্যাশ অচিরেই বাজারে শীর্ষ অবস্থানে পৌঁছাবে। তিনি এম-ক্যাশের লেনদেনে সবাইকে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান এবং রিব্র্যান্ডিং অনুষ্ঠানে গভর্নরের উপস্থিতির জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এম-ক্যাশের প্রধান সুবিধাগুলো : প্রযুক্তি ও আধুনিক ব্যাংকিংয়ের সমন্বয়ে এম-ক্যাশ সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন লেনদেনকে করেছে নিরাপদ, দ্রুত ও সহজ। এম-ক্যাশ থেকে এম-ক্যাশে সেন্ড মানিতে কোনো ফি নেই। ক্যাশআউট চার্জ প্রতি হাজারে মাত্র ১৩.৯০ টাকা এবং ইসলামী ব্যাংকের শাখা, উপশাখা ও এটিএম থেকে ক্যাশআউট চার্জ হাজারে মাত্র ৭ টাকা।
বিদেশ থেকে প্রেরিত রেমিট্যান্স সরাসরি এম-ক্যাশে গ্রহণ করা যায়, যেখানে ক্যাশআউট চার্জও হাজারে মাত্র ৭ টাকা। যেকোনো ভিসা বা মাস্টারকার্ড থেকে অ্যাড মানি করা যায় হাজারে মাত্র ৫ টাকা খরচে। এ ছাড়া এম-ক্যাশের মাধ্যমে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির বিল পরিশোধ, মেট্রোরেলের র্যাপিড পাস রিফিল, সমাজসেবা অধিদফতরের বিভিন্ন ভাতা গ্রহণ এবং বেতন পরিশোধ করা যাচ্ছে।
দেশজুড়ে বিস্তৃত এম-ক্যাশ এজেন্ট পয়েন্ট, ইসলামী ব্যাংকের সব শাখা, উপশাখা, এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট এবং ব্যাংকের নিজস্ব এটিএম ও সিআরএম বুথ থেকে গ্রাহকরা দিনরাত ২৪ ঘণ্টা টাকা জমা ও উত্তোলনের সুবিধা পাচ্ছেন।
সময়ের আলো/কেএইচও