চরম আতঙ্কে সীমান্তের বাসিন্দারা

টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

সারাদেশ

কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্ত এলাকায় মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে হুজাইফা সুলতানা আফরান নামে এক বাংলাদেশি শিশু গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গুলিতে

2026-01-11T21:20:08+00:00
2026-01-11T21:20:08+00:00
 
  মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬,
৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
চরম আতঙ্কে সীমান্তের বাসিন্দারা
টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
প্রকাশ: রোববার, ১১ জানুয়ারি, ২০২৬, ৯:২০ পিএম 
টেকনাফে চরম আতঙ্কে সীমান্তের বাসিন্দারা। ছবি : সময়ের আলো
কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্ত এলাকায় মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে হুজাইফা সুলতানা আফরান নামে এক বাংলাদেশি শিশু গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গুলিতে আহত শিশু হোয়াইক্যং লম্বাবিল তেচ্ছিব্রীজ এলাকার জসিম উদ্দিনের মেয়ে। এ ঘটনার প্রতিবাদে ৩ ঘন্টা সড়ক অবরোধ করে রাখেন স্থানীয় ক্ষুদ্ধ জনতা।

রোববার (১১ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের চলমান যুদ্ধে গোলাবর্ষণের শব্দে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী টেকনাফ উপজেলায়। নিরাপত্তাহীনতায় অনেক সীমান্তবাসী ঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার চিন্তা করছেন।

হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সিরাজুল মোস্তফা লালু জানান, গত তিনদিন ধরে মিয়ানমারের রাখাইন সীমান্তে ব্যাপক গোলাগুলি ও বোমা বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে। বিশেষ করে রাতের বেলা শব্দগুলো আরও তীব্র হওয়ায় সীমান্ত এলাকার মানুষ চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। অনেক পরিবার ভয়ে ঘর ছেড়ে অন্যত্র সরে যাওয়ার কথা ভাবছে। শিশু, নারী ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি আতঙ্কিত রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সশস্ত্র সংঘর্ষ চলছে। সেখানে আরাকান আর্মির সঙ্গে আরসা, আরএসও, আরআইএম এবং নবী হোসেন গ্রুপের মধ্যে চলমান গোলাগুলির তীব্র প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকায়। এতে টেকনাফের হোয়াইক্যং সীমান্তে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। একেরপর এক মিয়ানমারের দিক থেকে ছোড়া গুলি এসে পড়ছে টেকনাফের হোয়াইক্যং সীমান্তে। ফলে সীমান্তের বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। ঘর থেকে বের হতেই ভয় পাচ্ছেন হোয়াইক্যং সীমান্তের বাসিন্দারা। কয়েকদিন ধরে আতঙ্কে দু‘চোখভরে ঘুম নেই সীমান্তের বাসিন্দাদের। মিয়ানমারে গুলাগুলির বিকট শব্দে শিশু সন্তানরা ঘুমের মধ্যে কেঁপে উঠেছে। মহিলা ও বৃদ্ধরাও আতঙ্ক হয়ে পড়েছে। শিশু শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে যেতেও ভয় পাচ্ছে। এমনকি মাছের ঘের ও নাফ নদীতে মাছ ধরতেও যেতে পারছেন না মৎসচাষি ও জেলেরা। 

নাফ নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে গেল ৮ জানুয়ারি রাতে উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বালুখালী গ্রামের মৃত ছৈয়দ বলির ছেলে আলমগির নামে এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। গুলিবিদ্ধের বড়ভাই সরওয়ার আলম বলেন, বৃহস্পতিবার মাগরিবের পর আমার ভাই আলমগির ও আরেক জেলে মো. আকবর নাফ নদীর হোয়াইক্যং এলাকার বিলাইরছা দ্বীপ সংলগ্ন এলাকায় মাছ ধরতে যান। নৌকায় অবস্থান করে নদীতে জাল ফেলছিলেন তারা। এ সময় হঠাৎ কয়েক রাউন্ড গুলির ফায়ারের বিকট শব্দ শোনা যায়। 
একপর্যায়ে আমার ভাই আলমগির নৌকার ভেতরে লুটিয়ে পড়েন। পরে দেখা যায়, তার বাম হাত থেকে রক্ত ঝরছে এবং একটি গুলি বাম হাত ভেদ করে বের হয়ে গেছে। পরে সঙ্গে থাকা জেলের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে আহত অবস্থায় আলমগীরকে প্রথমে কুতুপালং এমএমএস হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এভাবে একেরপর এক মিয়ানমারের ছোড়া গুলিতে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হচ্ছেন বাংলাদেশ সীমান্তের স্থানীয় বাসিন্দারা । অনেকের ঘরের টিনের ছাল ভেদ করে ঘরের ভেতরে ঢুকে পড়ছে মিয়ানমারের ছোড়া গুলি । ফলে দিনদিন আতঙ্ক বাড়তেই আছে স্থানীয়দের মধ্যে।

মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা জানান, দেশটির জান্তা সরকারের নিয়ন্ত্রণ থেকে রাখাইন রাজ্যের একাধিক শহর, গ্রাম ও সীমান্ত চৌকি হাতছাড়া হয়ে গেছে। এসব এলাকার বড় একটি অংশ বর্তমানে আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ফলে ওইসব এলাকায় জান্তা বাহিনীর উপস্থিতি দুর্বল হয়ে পড়েছে। অপরদিকে এই সংঘাতের প্রভাব সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতেও পড়ছে। গোলাগুলি ও বোমা বিস্ফোরণের শব্দ ভেসে আসায় সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক জেলেরা নিরাপত্তাহীনতায় নাফ নদী ও চিংড়ি ঘেরে যেতে পারছেন না ভয়ে। সীমান্তবর্তী মানুষ ঘর থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছে। 

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইনামুল হাফিজ নাদিম জানান, সীমান্তের ওপারে গোলাগুলির ঘটনার বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিতভাবে বিজিবির সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে সতর্কতার সঙ্গে অবস্থান করতে বলা হয়েছে। এছাড়া বিষয়টি নিয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে উপজেলা প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে।

সর্বশেষ রবিবার গোলাগুলির ঘটনায় সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন করে বিজিবির রামু সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মহিউদ্দিন আহমদ জানান, বিভিন্ন সময় রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলি হয়, বিজিবি সর্বদা সতর্ক অবস্থায় থাকি এবং সীমান্তে যায় এবং ৫৩ জন রোহিঙ্গা অস্ত্রধারীকে আটক করে থানায় হস্তান্তর করেছি। এ বিষয়ে আরো বিস্তারিত প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে জানানো হবে জানান তিনি।

এএডি/


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: