রাজধানীর দক্ষিণ বনশ্রীতে স্কুলছাত্রী ফাতেমা আক্তার লিলিকে টাকা ও স্বর্ণ লুট করার উদ্দেশ্যেই গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। পরিবারের অভিযোগ, পূর্বপরিকল্পিতভাবে বাসা ফাঁকা পেয়ে তাদের হোটেলের (রেস্তোরাঁ) কর্মচারী মিলন এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। ঘটনার পর থেকে সন্দেহভাজন মিলন পলাতক রয়েছেন।
দক্ষিণ বনশ্রীর এল ব্লকের প্রীতম ভিলা নামের ওই টিনশেড বাড়ির সামনেই শাহজালাল হোটেল নামে একটি রেস্তোরাঁ রয়েছে। নিহত লিলির বাবা সজিব তালুকদার রেস্তোরাঁটির মালিক। তিনি পরিবার নিয়ে রেস্তোরাঁর পেছনের বাসায় থাকতেন। তার দুই মেয়ে ও এক ছেলের মধ্যে নিহত ফাতেমা আক্তার লিলি ছোট। সে রেডিয়্যান্ট স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। এ ঘটনায় খিলগাঁও থানায় একজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করা হয়েছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের প্রাথমিক ধারণা, মালিকসহ পরিবারের অন্যরা বাসায় না থাকায়, ফাঁকা বাসায় লুটপাট করতে গিয়েছিল দুর্বৃত্তরা। মেয়েটি বাধা দিলে ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে তাকে গলা কেটে হত্যা করা হয়।
রোববার (১১ জানুয়ারি) নিহতের বাবা সজিব তালুকদার জানান, তিনি হোটেল বন্ধ রেখে জমিসংক্রান্ত বিষয়ে গত বুধবার স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে হবিগঞ্জের লাখাইয়ে গ্রামের বাড়িতে গিয়েছিলেন। বাসায় তার দুই মেয়ে ছিলেন। হোটেল বন্ধ থাকায় যাওয়ার আগে মিলনকে বাসা থেকে খাবার দেওয়ার কথা বলে যান তিনি। পরে গত শনিবার বিকালে মেয়ের হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে তিনি ঢাকায় আসেন।
কর্মচারী মিলনের বিষয়ে তিনি বলেন, দেড়-দুই মাস আগে মিলন হোটেলের কাজে যোগ দেন। আগেও তিনি এ হোটেলে কাজ করেছেন। মাঝে তিনি কাজ ছেড়ে চলে যান। আগে থেকেই তার সঙ্গে পরিচয় ছিল।
নিহত লিলির বড় বোন শোভা বলেন, হোটেল বন্ধ থাকায় মিলনকে বাসা থেকে খাবার দিতে বলা হয়েছিল। শুক্রবার রাত ১১টার দিকে সে খাবার নিতে আসে। তবে দেরিতে আসার কারণে লিলি তার সঙ্গে কিছুটা খারাপ ব্যবহার করেছিল। দরজা না খুলে দরজার নিচ দিয়ে খাবার দেয়। শনিবার দুপুরেও মিলন খাবার নিতে বাসায় আসে। আমি তখন জিমে গিয়েছিলাম। পরে বাসায় ফিরে ঘরের দরজা খোলা পাই ও জিনিসপত্র এলোমেলো অবস্থায় দেখতে পাই। বড় একটি পাতিলের মতো জিনিসের নিচে আমার বোনকে কুঁকড়ানো অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখি। প্রথমে ভেবেছিলাম মাথায় আঘাত পেয়েছে। পরে হিজাব খুলে দেখি গলায় রশি প্যাঁচানো এবং গলা কাটা।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, আমাদের হোটেলের কর্মচারী মিলনই আমার বোনকে হত্যা করেছে। হত্যার পর সে লিলির মোবাইল ফোনসহ স্বর্ণ ও টাকা লুটে নিয়ে পালিয়ে গেছে।
গতকাল মতিঝিল বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. হারুন অর রশিদ বলেন, এ ঘটনায় নিহত স্কুলছাত্রীর বাবা মামলা করেছেন। এখনও কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। আশপাশের সিসি ক্যামেরা ফুটেজ বিশ্লেষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তাও নেওয়া হচ্ছে। সন্দেহভাজন মিলনকে গ্রেফতারের চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, জানা গেছে—মিলন মাদকাসক্ত। তাকে গ্রেফতার করার পর জানা যাবে, তিনি হত্যা করেছেন কি না এবং কেন এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হলো। আশা করা যায় খুব দ্রতই তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা যাবে।
প্রসঙ্গত, গত শনিবার সন্ধ্যায় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ থেকে সংবাদ পেয়ে নিহত লিলির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়।
আরআর