প্রকাশ: সোমবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২৬, ৪:৩৭ এএম
সংগৃহীত ছবিব্যালট বাক্সের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করতে সামনের নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাই নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে এবং বিশ্বাসযোগ্য ও স্বচ্ছ উপায়ে অনুষ্ঠিত হওয়া অত্যন্ত জরুরি।
নির্বাচনের দুদিন পর ১৪ ফেব্রুয়ারি, ইইউ ইওএম (ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন) একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ করবে এবং ঢাকায় একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করবে। ২০০৮ সালের পর এটিই বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রথম পূর্ণাঙ্গ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন। ইইউ ইওএমের প্রধান পর্যবেক্ষক ইভার্স ইজাবস রোববার ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান।
ইইউ ইওএম রোববার ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানায়, বাংলাদেশ সরকারের আমন্ত্রণের পরিপ্রেক্ষিতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য একটি নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন (ইইউ ইওএম) মোতায়েন করেছে। এরপর লাটভিয়ার ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য ও প্রধান পর্যবেক্ষক ইভার্স ইজাবসের নেতৃত্বে ইইউ ইওএম ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের শেষ দিকে কার্যক্রম শুরু করে এবং রোববার ৫৬ জন দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষকের আগমনের মাধ্যমে এর কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত হচ্ছে, যাদের বাংলাদেশের ৬৪টি প্রশাসনিক জেলায় মোতায়েন করা হবে। ২০০৮ সালের পর এটিই বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রথম পূর্ণাঙ্গ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন।
পূর্ণ সক্ষমতায় এই মিশনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি সদস্য দেশের পাশাপাশি কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডের প্রায় ২০০ পর্যবেক্ষক অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। এর মধ্যে ঢাকাভিত্তিক ১১ জন বিশ্লেষক নিয়ে একটি কোর টিম, ৫৬ জন দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষক, ৯০ জন স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষক, যাদের ভোটের ঠিক আগে মোতায়েন করা হবে এবং ইইউ সদস্য রাষ্ট্র ও অংশীদার দেশগুলোর কূটনৈতিক মিশনের পর্যবেক্ষকরা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।
ইউরোপীয় পার্লামেন্টের একটি প্রতিনিধি দল এই মিশনে যোগ দিয়ে এর কার্যক্ষমতা আরও বৃদ্ধি করবে। নির্বাচনের দুই দিন পর, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ইইউ ইওএম একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ করবে এবং ঢাকায় একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করবে। প্রায় দুই মাস পর একটি পূর্ণাঙ্গ চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা হবে, যেখানে ভবিষ্যৎ নির্বাচনের জন্য সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
মিশনটি তাদের কার্যক্রম চলাকালে নির্বাচন প্রস্তুতি, আইনগত কাঠামো ও তার বাস্তবায়ন, নির্বাচনি প্রচার কার্যক্রম এবং নির্বাচনি বিরোধ নিষ্পত্তিসহ বিভিন্ন দিক পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ করার লক্ষ্যে নির্বাচন প্রশাসন, রাজনৈতিক দল, বিচার বিভাগ, সুশীল সমাজ ও গণমাধ্যমের সঙ্গে সম্পৃক্ত হবে। এ ছাড়া নারী, তরুণ প্রজন্ম ও ঝুঁকিতে থাকা অন্যান্য জনগোষ্ঠীসহ সবার রাজনৈতিক ও নাগরিক অংশগ্রহণের সামগ্রিক পরিসর মূল্যায়ন করা হবে।
ইইউ ইওএম-এর প্রধান পর্যবেক্ষক ইভার্স ইজাবস দেশে তার এই প্রথম সফরের সময় চলমান নির্বাচনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে সরাসরি তথ্য পেতে তিনি বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাচনি অংশীজনদের সঙ্গে দেখা করেছেন।
ইভার্স ইজাবস রোববার এক ব্রিফিংয়ে বলেন, এই নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনটি পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং গণতান্ত্রিক নীতির প্রতি অভিন্ন অঙ্গীকারের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা বাংলাদেশের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অংশীদারত্বের গুরুত্বকে পুনরায় নিশ্চিত করে।
এই নির্বাচনগুলোর জন্য আমাদের কারিগরি মূল্যায়ন তিনটি মূল নীতির মাধ্যমে পরিচালিত হয় : স্বাধীনতা, নিরপেক্ষতা এবং হস্তক্ষেপহীনতা। আমরা দীর্ঘমেয়াদি এবং দেশব্যাপী পর্যবেক্ষণের একটি শক্তিশালী ও সুপ্রতিষ্ঠিত পদ্ধতি অনুসরণ করব। আমরা নির্বাচন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করব, তবে ফল প্রত্যয়ন করব না। এই নির্বাচন একান্তই বাংলাদেশের জনগণের।
প্রধান পর্যবেক্ষক ইভার্স ইজাবস ব্রিফিংয়ে জোর দিয়ে বলেন, ব্যালট বাক্সের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করতে এই ঐতিহাসিক নির্বাচনগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাই নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে এবং বিশ্বাসযোগ্য ও স্বচ্ছ উপায়ে অনুষ্ঠিত হওয়া অত্যন্ত জরুরি।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধান পর্যবেক্ষক ইভার্স ইজাবস বলেন, আমি মনে করি আমাদের দৃষ্টিতে প্রথমত অন্তর্ভুক্তি মানে হচ্ছে, বাংলাদেশি নাগরিকদের সামাজিক সব গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তি; নারী, জাতিগত-ধর্মীয় সংখ্যালঘু এবং আঞ্চলিক গোষ্ঠীর মতো পক্ষগুলো যাতে অংশ নিতে পারে। আর অংশগ্রহণমূলক হওয়ার ক্ষেত্রে আমরা নির্বাচনে বিশ্বাসযোগ্য ভোটার উপস্থিতির দিকে ভালোভাবে নজর রাখব। যার মাধ্যমে আমরা ইঙ্গিত পাব যে, বাংলাদেশের নাগরিকরা নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের ক্ষেত্রে তাদের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সত্যিকার অর্থে ব্যবহার করছে।
বর্তমান পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণের উপযোগী কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার প্রাথমিক আভাস হচ্ছে, বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ ঝুঁকির বিষয়ে সচেতন।
ইইউ পর্যবেক্ষণ মিশন নির্বাচনের ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ দেখছে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ইভার্স ইজাবস বলেন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের বিষয়টি আমরা বিভিন্ন প্রেক্ষাপট থেকে দেখব। উদাহরণস্বরূপ গণমাধ্যমে প্রবেশাধিকারের বিষয়ও আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। সংশ্লিষ্ট মিডিয়ায় প্রত্যেক প্রার্থী কতটা প্রবেশাধিকার পাচ্ছে, সেটা বহু দেশেই একটা ইস্যু। ভোটে প্রার্থীদের নিবন্ধনের মতো বিষয়ও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের আরেকটি দিক। আমরা জানি, প্রার্থিতার বিষয়ে আপিল চলছে। এদিকটাও আমরা পর্যবেক্ষণ করব।
সময়ের আলো/এআর