বিশ্বভ্রমণ শেষে ২৭ বছর পর ঘরে ফিরছে ছেলে, অপেক্ষায় মা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

৩৬ হাজার মাইল পথ পায়ে হেঁটে পাড়ি দেওয়ার উদ্দেশে ১৯৯৮ সালে কার্ল বুশবি ইংল্যান্ডের হাল শহর ত্যাগ করেছিলেন। দীর্ঘ ২৭

2026-01-12T18:40:59+00:00
2026-01-12T18:40:59+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক
বিশ্বভ্রমণ শেষে ২৭ বছর পর ঘরে ফিরছে ছেলে, অপেক্ষায় মা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২৬, ৬:৪০ পিএম 
মা অ্যাঞ্জেলা বুশবি ও ছেলে কার্ল বুশবি। ছবি : বিবিসি
৩৬ হাজার মাইল পথ পায়ে হেঁটে পাড়ি দেওয়ার উদ্দেশে ১৯৯৮ সালে কার্ল বুশবি ইংল্যান্ডের হাল শহর ত্যাগ করেছিলেন। দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে সেই লক্ষ্য তাড়া করে চলা এই ব্রিটিশ অভিযাত্রী কার্ল বুশবি এখন বাড়ি ফেরার দ্বারপ্রান্তে। আর তার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন ৭৫ বছর বয়সী মা অ্যাঞ্জেলা বুশবি, যিনি নিজের ছেলেকে গত ২৭ বছরে মাত্র তিনবার দেখেছেন। 

কার্লের এই অভিযানের নাম ‘গোলিয়াথ এক্সপিডিশন’। ১৯৯৮ সালের ১ নভেম্বর দক্ষিণ আমেরিকার চিলি থেকে শুরু হয়েছিল তার এই যাত্রা। পরিকল্পনা ছিল কোনো ধরনের যানবাহন ব্যবহার না করে পায়ে হেঁটে ঘরে ফিরবেন। কার্ল ভেবেছিলেন ১২ বছরের মধ্যেই এটি শেষ হবে, কিন্তু ভূ-রাজনীতি, যুদ্ধ এবং ভিসাসংক্রান্ত জটিলতার কারণে সেই সময় বেড়ে এখন ২৭ বছরে ঠেকেছে।

গত বড়দিনের আগেই তিনি পৌঁছেছেন হাঙ্গেরির গিয়র শহরে। সেখান থেকে অস্ট্রিয়া সীমান্ত আর মাত্র কয়েক দিনের হাঁটা পথ। সব ঠিক থাকলে আগামী অক্টোবরেই তিনি বাড়ির দোরগোড়ায় পৌঁছাবেন, দেখা করবেন মা অ্যাঞ্জেলার সঙ্গে।

তবে একনাগাড়ে হাঁটার সুযোগ তার নেই। ভিসার নিয়ম রক্ষার চক্করে পড়ে তাকে এখন অবস্থান করতে হচ্ছে মেক্সিকোতে। সেখান থেকেই কার্ল জানালেন, আগামী মার্চে তিনি আবার হাঙ্গেরি ফিরে যাবেন এবং অস্ট্রিয়া সীমান্ত থেকে হাঁটা শুরু করবেন। বর্তমানে কার্ল হাঙ্গেরি ছেড়ে অস্ট্রিয়ায় প্রবেশ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। 

ছোটবেলার কার্ল বুশবি। ছবি : বিবিসি 

দীর্ঘ এই পথচলাশেষ হওয়ার আগে নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে কার্ল বলেন, বিষয়টি এখন শেষ করা দরকার। তবে আমার মধ্যে মিশ্র অনুভূতি কাজ করছে। হুট করে এই থামাটা বেশ কঠিন হবে; এটা তো একটা জীবনের সমাপ্তি। এরপর কী হবে, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা আছে।

তার এই যাত্রা বারবার থমকে গেছে বিভিন্ন দেশের কঠোর নিয়মের কারণে। বুশবি জানান, অনেক দেশে ১৮০ দিনের মধ্যে ৯০ দিনের বেশি থাকার নিয়ম নেই। তিনি বলেন, আমার নিজের হাতে থাকলে আমি হয়তো না থেমেই চলতাম। কিন্তু নিয়মের বেড়াজালে পড়ে আমাকে বারবার ভিসা নবায়ন করতে এক দেশ থেকে অন্য দেশে ছুটতে হয়।


পুরোনো দিনের কথা মনে করে বুশবি বলেন, অর্থনৈতিক ধসের কারণে আমি স্পনসর হারিয়ে ফেলি। সবকিছু গুছিয়ে নেওয়ার জন্য মেক্সিকোকেই তখন আদর্শ জায়গা মনে হয়েছিল। শেষমেশ সেখানে দুই বছর আটকে আছি।

মেক্সিকোতে এখন তিনি বিশ্রাম নিচ্ছেন আর শেষবারের মতো নিজেকে প্রস্তুত করছেন বুশবি। তিনি বলেন, অস্ট্রিয়ায় ঢুকতে আর বেশি দেরি নেই। এরপর জার্মানি, বেলজিয়াম ও ফ্রান্স হয়ে সোজা বাড়ি।

বয়স বেড়েছে, তাই হাঁটার গতিও কিছুটা কমেছে। তিনি জানান, আগে দিনে ৩০ কিলোমিটার (১৯ মাইল) হাঁটতেন, এখন তা কমে ২০ থেকে ২৫ কিলোমিটারে (১২ থেকে ১৬ মাইল) নেমে এসেছে।

ছোট ভাই অ্যাড্রিয়ানের সঙ্গে কার্ল বুশবি (ডানে)। ছবি : বিবিসি 

মা অ্যাঞ্জেলা বলেন, আমি চ্যানেলে টানেলে গিয়ে ওকে রিসিভ করব না। আমি এই হালের বাড়িতেই অপেক্ষা করব। ও যখন গেট দিয়ে ভেতরে ঢুকবে, ওকে জড়িয়ে ধরে বলব এতক্ষণ কোথায় ছিলে কার্ল?

কার্লের মা তার লিভিং রুমে বসে ছেলের ফেলে যাওয়া শৈশবের ছবি আর বিভিন্ন দেশ থেকে পাঠানো স্মৃতি চিহ্নগুলো দেখছিলেন। গত ২৭ বছরে তিনি তার ছেলেকে মাত্র তিনবার সরাসরি দেখেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল ২০০৬ সাল, যখন কার্ল প্রথম ব্রিটিশ নাগরিক হিসেবে উত্তর আমেরিকা ও রাশিয়ার মধ্যবর্তী জমে যাওয়া বেরিং প্রণালী পায়ে হেঁটে পার হয়েছিলেন।

সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কার্ল ছোটবেলায় প্রচণ্ড ‘ডিসলেক্সিয়া’ (পঠন-পাঠনে সমস্যা) এবং স্কুলে বুলিংয়ের শিকার ছিলেন। কিন্তু তার অদম্য জেদ তাকে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর প্যারাশুট রেজিমেন্টে জায়গা করে দেয়। 

মা অ্যাঞ্জেলা ছেলের কথা মনে করে বলেন, কার্ল সবসময়ই একগুঁয়ে ছিল। একবার ও মনে যা গেঁথে নেয়, তা করেই ছাড়ে।

সম্প্রতি ২০২৪ সালে ভিসা জটিলতা এড়াতে কার্ল ১৮৬ মাইল পথ ক্যাস্পিয়ান সাগর সাঁতরে পার হয়েছেন। ছেলের এই দুঃসাহসী অভিযাত্রায় মা অ্যাঞ্জেলা অনেক নির্ঘুম রাত কাটিয়েছেন ঠিকই, কিন্তু তিনি সবসময়ই কার্লের এক নম্বর ভক্ত হিসেবে পাশে ছিলেন। এখন শুধু অপেক্ষা ২০২৬ সালের সেই সেপ্টেম্বর মাসের, যখন এক বিশ্বজয়ী ছেলে তার মায়ের কোলে ফিরে আসবে।

সময়ের আলো/এসকে/ 


  বিষয়:   বিশ্বভ্রমণ  মা  ছেলে  কার্ল বুশাব  অস্ট্রিয়া  যুক্তরাজ্য 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: