ভারতে অনুষ্ঠিতব্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ ঘিরে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ও ভেন্যু প্রশ্নে চলমান জটিলতার মধ্যে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। আইসিসির কাছ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত না আসায় অনিশ্চয়তা কাটেনি বলেই জানাল বোর্ড। একই সঙ্গে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের বক্তব্য ঘিরে যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে, সেটিরও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে বিসিবির পক্ষ থেকে।
সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে ড. আসিফ নজরুল বলেন, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে দুটি চিঠি আইসিসিকে পাঠানো হয়েছে এবং সেগুলোর জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে সরকার। এর মধ্যেই আইসিসির নিরাপত্তা টিম বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে একটি চিঠি দিয়েছে, যেখানে বাংলাদেশের জন্য সম্ভাব্য নিরাপত্তাঝুঁকির বিষয়গুলো স্পষ্ট করে তুলে ধরা হয়েছে।
আসিফ নজরুল জানান, ওই চিঠিতে তিনটি বিষয়কে বড় ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রথমত যদি বাঁ-হাতি পেসার মোস্তাফিজুর রহমান বাংলাদেশের স্কোয়াডে থাকেন। দ্বিতীয়ত যদি বাংলাদেশি সমর্থকরা জাতীয় দলের জার্সি পরে চলাফেরা করেন। তৃতীয়ত টুর্নামেন্টের সময় যদি বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনের সময়ের কাছাকাছি হয়, তা হলে নিরাপত্তাঝুঁকি আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে আইসিসির নিরাপত্তা টিম।
তবে ক্রীড়া উপদেষ্টার কথার সঙ্গে মিল পাওয়া যায়নি বিসিবির। সোমবার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বিসিবি জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত আইসিসির চিঠিটি মূলত আইসিসির নিরাপত্তা বিভাগের সঙ্গে বিসিবির অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের অংশ। বিশ্বকাপকে সামনে রেখে বাংলাদেশ দলের সম্ভাব্য নিরাপত্তাঝুঁকি মূল্যায়নসংক্রান্ত এই যোগাযোগকে আইসিসির আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা বিসিবির আবেদনের জবাব হিসেবে দেখা ঠিক নয়।
বিসিবির বিবৃতিতে বলা হয়— যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা যে চিঠির কথা উল্লেখ করেছেন, সেটি আইসিসির সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট এবং বিসিবির মধ্যে হওয়া একটি অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ। এটি ভারতের বাইরে বাংলাদেশের ম্যাচ সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে বিসিবির আনুষ্ঠানিক আবেদনের বিপরীতে আইসিসির চূড়ান্ত বা আনুষ্ঠানিক কোনো জবাব নয়।
বোর্ড আরও জানায়, বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। সে কারণেই ভারতীয় ভেন্যু নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আনুষ্ঠানিকভাবে আইসিসির কাছে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারতের বাইরে আয়োজনের অনুরোধ জানানো হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে আইসিসির কাছ থেকে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা লিখিত জবাব পাওয়া যায়নি।
বিবৃতিতে বিসিবি স্পষ্ট করে জানায়, বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তার স্বার্থে ভেন্যু পুনর্বিন্যাসের অনুরোধ জানিয়ে আমরা আইসিসির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি উত্থাপন করেছি। এই মুহূর্তে আমরা আইসিসির অফিসিয়াল প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় আছি।
এদিকে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের বক্তব্যের পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার উপপ্রেস সচিব আজাদ মজুমদার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ক্রীড়া উপদেষ্টা যে আইসিসির যোগাযোগের কথা বলেছেন, সেটি আসলে ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ঘিরে নিরাপত্তা হুমকি মূল্যায়নের জন্য আইসিসির একটি আন্তঃবিভাগীয় নোট।
আজাদ মজুমদার আরও জানান, বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারতের বাইরে সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধের জবাবে আইসিসির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো উত্তর এখনও পাঠানো হয়নি।
সব মিলিয়ে বিশ্বকাপ ঘিরে চলমান এই অনিশ্চয়তার মধ্যেও বিসিবির বার্তা পরিষ্কার— চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত কোনো অভ্যন্তরীণ যোগাযোগকে আইসিসির অবস্থান হিসেবে ধরা যাবে না। আর বোর্ড এখনও তাকিয়ে আছে আইসিসির আনুষ্ঠানিক জবাবের দিকেই।
এফআর