সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) কেন্দ্রীয় সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, আমাদের নির্বাচনি অঙ্গনে অনেক দুর্বৃত্ত ঢুকে গেছে। একই সঙ্গে আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গনও কলুষিত। নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা আছে, কিন্তু নির্বাচনের ট্রেন উঠে গেছে ট্রাকের মধ্যে। এখন এটাকে ট্রাকচ্যুত একমাত্র একটা পক্ষই করতে পারে। আর সেটা হলো রাজনীতিবিদ ও তাদের মনোনীত প্রার্থীরা। তারা যদি সদাচরণ করে তা হলে মনে হয় নির্বাচন নিয়ে কোনো ঝুঁকি থাকবে না, শঙ্কা থাকবে না।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) জুলাই অভ্যুত্থান আকাক্সক্ষা, সংস্কার ও নির্বাচনি ইশতেহার শীর্ষক বিভাগীয় সংলাপের উদ্দেশ্য বর্ণনায় তিনি প্রধান আলোচকের বক্তৃতায় এ কথা বলেন। নগরীর সদর রোডের বিডিএস মিলনায়তনে সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজন বরিশাল জেলা ও মহানগর কমিটি এ সংলাপের আয়োজন করে।
তিনি বলেন, ‘তোরা যে যা বলিস ভাই আমার এমপি হওয়া চাই’ ওই মানসিকতা থেকে যদি বেরিয়ে আসা যায়, তবে আমরা আশা করতে পারি একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে। আর আমাদের ট্রেনটা রেলস্টেশনে পৌঁছাবে।
বদিউল আলম মজুমদার আরও বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের ক্ষেত্রে একটি বড় বাধা হচ্ছে আমাদের নির্বাচনি অঙ্গন অপরিচ্ছন্ন। নির্বাচনি অঙ্গনে অনেক অনাকাক্সিক্ষত ব্যক্তিরা প্রবেশ করেছে। সুস্পষ্টভাবে বলতে গেলে আমাদের নির্বাচনি অঙ্গনে অনেক দুর্বৃত্ত ঢুকে গেছে। একই সঙ্গে আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গনও কলুষিত। যত অন্যায় অবিচার হয়, তা রাজনৈতিক ছত্রছায়া হয়। আর বড় বড় দুর্নীতি হয় বড় বড় আমলা ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদের জোকসাজেসে।
তাই নির্বাচনি অঙ্গনকে পরিষ্কার করা দরকার। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য রাজনৈতিক অঙ্গনকেও পরিচ্ছন্ন করা দরকার বলে মনে করেন তিনি।
তিনি বলেন, নির্বাচনি ও রাজনৈতিক অঙ্গনে যে দুর্বৃত্ত তার চালিকাশক্তি হচ্ছে কালো টাকা। এই টাকার প্রভাবও আমাদের দূরীভূত করা দরকার। এটা দূরীভূত করতে হলে নির্বাচনি অঙ্গন, রাজনৈতিক অঙ্গন পরিচ্ছন্ন করতে হলে অনেক সংস্কার দরকার। অনেক আইনি কাঠামোতে পরিবর্তন আনা দরকার।
নির্বাচন কমিশন নিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনকে গঠন করা হয়েছে সাংবিধানিক স্বাধীনভাবে। আর এর দায়িত্ব হচ্ছে সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করা। কিন্তু অতীতে দেখা গেছে নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতিত্বভাবে গঠন করা হয়েছে। তারা আমাদের নির্বাচনকে নির্বাসনে পাঠিয়ে দিয়েছে। গত ১৬ বছর আমরা ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছি। এর জন্য আমাদের নির্বাচন কমিশনের সংস্কার দরকার, নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী ও কার্যকর করা দরকার। তা হলেই সুষ্ঠু নির্বাচনের পথ সুগম হবে।
সংলাপে বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন দলের মনোনীত প্রার্থী, নাগরিক সমাজ, সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
এফআর