পঞ্চগড়ে প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক দুঃখ প্রকাশের পর আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। এর আগে গত রোববার শহিদ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সেনাবাহিনীর লাঠিচার্জ করে। প্রতিবাদে রোববার রাত থেকে বিক্ষোভ ও অব্স্থান কর্মসূচি পালন করে আসছিল শিক্ষার্থীরা।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে দুপক্ষের মধ্যে বৈঠকের পর রাতে এ ঘোষণা দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
বৈঠকে পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক কাজী মো. সায়েমুজ্জামান, পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম এবং আর্মি ক্যাম্প কমান্ডার মেজর আদনান মোর্শেদ আল হক, জাতীয় নাগরিক কমিটির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও জেলা জামায়াতের আমির ইকবাল হোসাইনসহ ছাত্র প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
আলোচনার পর রাতে সমন্বয়করা জানান, প্রশাসনের আন্তরিকতায় তারা সন্তুষ্ট। দেশ গড়ার কাজে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক মোকাদ্দেসুর রহমান সান জানান, আমাদের দাবি ছিল, গতকালকের বিচ্ছিন্ন ঘটনার জন্য জেলা প্রশাসককে আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করতে হবে। সেনাবাহিনী ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হওয়ার নিশ্চয়তা দেবে। তারা আমাদের দাবিতে সম্মতি জানিয়েছেন এবং দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
আরেক সমন্বয়ক খোরশেদ মাহমুদ বলেন, শহিদ ওসমান হাদী ভাইয়ের বিচার দাবিতে কর্মসূচিতে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার প্রেক্ষিতে আমরা জরুরি বৈঠকে বসেছিলাম। আলোচনার মাধ্যমে আমরা একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানে পৌঁছাতে পেরেছি। আমরা চাই আগামী দিনেও শিক্ষার্থীরা দেশ গড়ার কাজে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে।
আহতদের বিষয়ে সমন্বয়ক ফজলে রাব্বি বলেন, যারা আহত হয়েছিলেন, তাদের তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে নেওয়া হয়। অনেকেই প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। যারা এখনো হাসপাতালে আছেন, আমরা তাদের সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নিচ্ছি।
জেলা প্রশাসক কাজী মো. সায়েমুজ্জামান বলেন, গতকালের (রোববার) ঘটনার পর একটি উত্তপ্ত পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। আজ (সোমবার) জরুরি বৈঠকে সবার সম্মতিতে বিষয়টি সুষ্ঠুভাবে সমাধান হয়েছে। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, গতকালের ঘটনায় যারা আহত হয়েছেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের চিকিৎসার ব্যয় বহন করা হবে।
উল্লেখ্য, গত রোববার ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। কর্মসূচির শেষদিকে ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণের সময় সেনাবাহিনীর সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ধস্তাধস্তি হয়। এ সময় সেনাবাহিনী শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ করে। এতে সমন্বয়ক ফজলে রাব্বিসহ ২৩ জন শিক্ষার্থী আহত হন। প্রতিবাদে রাতেই বিক্ষোভে নামে শিক্ষার্থীরা।
সময়ের আলো/আআ