ভারতের সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী বলেছেন, পাকিস্তান ও পাক-অধিকৃত কাশ্মিরে সন্ত্রাসীদের লক্ষ্য করে শুরু হওয়া সামরিক অভিযান ‘অপারেশন সিঁদুর’ এখনও শেষ হয়নি। তিনি সতর্ক করে বলেন, ভবিষ্যতে পাকিস্তান যদি কোনো ধরনের উসকানিমূলক বা ভুল পদক্ষেপ নেয়, তাহলে ভারত কঠোর জবাব দিতে প্রস্তুত।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) চলতি বছরের প্রথম সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। দেশটির সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ তথ্য জানিয়েছে।
জেনারেল দ্বিবেদী বলেন, অপারেশন সিঁদুর চলাকালে ভারতীয় সেনাবাহিনী পুরোপুরি প্রস্তুত অবস্থায় ছিল। পাকিস্তান কোনো ভুল করলে স্থল অভিযান শুরু করার জন্যও সেনারা প্রস্তুত ছিল।
তিনি জানান, গত বছরের ২২ এপ্রিল ভারত-নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মিরের পেহেলগামে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার জবাবে ৭ মে ‘অপারেশন সিঁদুর’ শুরু করে ভারত। ওই হামলার দায় স্বীকার করে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী লস্কর-ই-তৈয়বার সহযোগী সংগঠন দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট।
ভারতের দাবি, এই অভিযানে পাকিস্তানের ভেতরে এবং পাক-অধিকৃত কাশ্মিরে সন্ত্রাসীদের ঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে ১০০ জনের বেশি জঙ্গিকে হত্যা করা হয়েছে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় পাকিস্তানও ভারতের বিভিন্ন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। এর জবাবে ভারত পাকিস্তানের কয়েকটি বিমানঘাঁটিতে হামলা করে। পরে ১০ মে উভয় দেশ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সেনাপ্রধান বলেন, অপারেশন সিঁদুর ছিল রাজনৈতিক নির্দেশনার ভিত্তিতে নেওয়া একটি সুপরিকল্পিত অভিযান, যেখানে তিন বাহিনীর সমন্বয় ছিল স্পষ্ট। মাত্র ২২ মিনিটের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয় এবং টানা ৮৮ ঘণ্টা ধরে অভিযান চালিয়ে পাকিস্তানের গভীরে সন্ত্রাসী অবকাঠামো ধ্বংস করা হয়।
তিনি আরও বলেন, এই অভিযানের মাধ্যমে পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের পারমাণবিক হুমকির বক্তব্যকেও চ্যালেঞ্জ জানানো হয়েছে। ওই সময় সেনা মোতায়েন এমন ছিল যে, পাকিস্তানের সামান্য ভুলেই স্থল অভিযান শুরু করা সম্ভব ছিল।
জেনারেল দ্বিবেদী জানান, যুদ্ধবিরতির পরও পশ্চিম সীমান্ত ও জম্মু–কাশ্মিরের পরিস্থিতি সংবেদনশীল থাকলেও তা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ২০২৫ সালে এখন পর্যন্ত ৩১ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে, যাদের মধ্যে ৬৫ শতাংশই ছিল পাকিস্তানি নাগরিক। পেহেলগাম হামলায় জড়িত তিন হামলাকারীকেও ‘অপারেশন মহাদেব’-এর মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমানে এলাকায় সক্রিয় স্থানীয় সন্ত্রাসীর সংখ্যা এক অঙ্কের ঘরে নেমে এসেছে।
/ইউএমএইচ