প্রকাশ: বুধবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ১:১৫ এএম (ভিজিট : ২৫১)
সাকরাইন উপলক্ষে শেষ মুহূর্তে মঙ্গলবার পুরান ঢাকার শাঁখারীবাজারে পছন্দের ঘুড়ি কিনতে ভিড় করছে বিভিন্ন বয়সের মানুষ। ছবি : সময়ের আলো দোকানে দোকানে ঘুড়ির কেনাবেচা আর সারি সারি বাড়ির ছাদে আলোকসজ্জা জানান দিচ্ছে পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী সাকরাইন উৎসব বুধবার (১৪ জানুয়ারি)। পৌষ-সংক্রান্তি উপলক্ষে আয়োজিত এই উৎসবটি পুরান ঢাকার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতীক। প্রতি বছর পৌষ মাসের শেষ দিনে উৎসবটি উদযাপন করেন পুরান ঢাকাবাসী। এ দিন ঘুড়ি ওড়ানোর প্রতিযোগিতায় মেতে উঠেন সব বয়সের মানুষ। দিনভর ঘুড়ি ওড়ানোর আনন্দের পর সন্ধ্যায় আতশবাজি ও রঙিন ফানুসে আলোকিত হয়ে উঠে বুড়িগঙ্গা-তীরবর্তী শহরের আকাশ।
গতকাল মঙ্গলবার পুরান ঢাকার শাঁখারীবাজার, লক্ষ্মীবাজার, নয়াবাজার, তাঁতীবাজার, গেণ্ডারিয়া, ধূপখোলা ও সূত্রাপুর এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ঘুড়ি, নাটাই আর সুতা কেনাবেচার ধুম পড়েছে সাকরাইনের আনন্দে ভাসতে। অন্যবারের মতো এবারও চলছে কেনাবেচার উৎসব।
শাঁখারীবাজারে ঘুড়ি বিক্রেতা জিতু রায় জানান, গত বছরের তুলনায় এবারের কেনাবেচা ভালো হচ্ছে। আশপাশের অনেকেই চাহিদা অনুযায়ী ঘুড়ি কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।
ঘুড়ি কিনতে এসে পুরান ঢাকার স্থানীয় বাসিন্দা হাবিবুর রহমান জানান, সাকরাইন ও সাকরাইনের আগের দিন প্রতি বছরই বাড়ির ছাদে বাচ্চারা ঘুড়ি ওড়ায়, আমরা বড়রাও ওড়ায়। ছোট-বড় মিলিয়ে ৩০টা ঘুড়ি কিনেছি। এবারও বাড়ির ছাদে সবাই মিলে ঘুড়ি ওড়াব।
শাঁখারীবাজারে ঘুড়ি কিনতে এসে স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থী রাহাত আহমেদ জানান, সাকরাইন এলে আমরা প্রতি বছরই ঘুড়ি ওড়াই। বন্ধু ও চাচাতো ভাইবোনদের সঙ্গে পাল্লা দিই। ঘুড়ি কাটাকাটিতেই সবচেয়ে বেশি মজা। এবার আমি ২০টা ঘুড়ি কিনেছি।
লক্ষ্মীবাজারের ঘুড়ি ব্যবসায়ী চন্দন দত্ত বলেন, সাকরাইন এলেই আমাদের সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়। সারা বছর যেটুকু বিক্রি হয়, এই কয়েক দিনে তার বড় একটা অংশ হয়ে যায়। এ বছর রঙিন ও বড় সাইজের ঘুড়ির চাহিদা বেশি।
নয়াবাজারের সুতা বিক্রেতা মো. হাসান জানান, আগের তুলনায় এখন সুতা একটু দামি হলেও মানুষ কিনছে। বিশেষ করে মানজা সুতা বেশি যাচ্ছে, কারণ কাটাকাটির মজাটাই সাকরাইনের মূল আকর্ষণ।
ঘুড়ি কিনতে আসা গেণ্ডারিয়ার বাসিন্দা রাফেজা বেগম বলেন, বাচ্চাদের আবদারেই ঘুড়ি কিনতে এসেছি। মোবাইল-টিভির বাইরে এই উৎসবটা ওদের আনন্দ দেয়, তাই প্রতি বছরই চেষ্টা করি সাকরাইনে ঘুড়ি কিনে দিতে।
তাঁতীবাজার এলাকার কলেজ শিক্ষার্থী আরিফ হোসেন বলেন, পুরান ঢাকায় জন্মেছি, সাকরাইন আমাদের আবেগের জায়গা। বন্ধুদের সঙ্গে সারাদিন ঘুড়ি ওড়ানো, আর সন্ধ্যায় ছাদে আড্ডা- এই আনন্দটা অন্য কোথাও নেই।
বর্তমানে দিনব্যাপী ঘুড়ি ওড়ানো শেষে পুরান ঢাকার অলিগলিতে, বাসাবাড়ির ছাদে আয়োজন হয় ডিজে পার্টি ও নাইট পার্টি। এই প্রস্তুতিও দেখা গেছে অনেক বাড়ির ছাদে। এক দিন আগেই মঞ্চ সাজিয়ে বক্স বাজিয়ে প্রস্তুত তারা। তবে গান-বাজনার বিষয়টিকে স্থানীয় অনেকে অপসংস্কৃতি বলে মনে করেন।
সময়ের আলো/এনএ