মাঠ কাঁপানো এক দীর্ঘ ও সফল যাত্রার ইতি টানতে যাচ্ছেন অস্ট্রেলিয়া নারী ক্রিকেট দলের অধিনায়ক অ্যালিসা হিলি। আগামী ফেব্রুয়ারি-মার্চে ভারতের বিপক্ষে ঘরের মাঠে সিরিজ খেলেই সব ধরনের ক্রিকেট থেকে অবসর নেবেন এই কিংবদন্তি ক্রিকেটার। ৩৫ বছর বয়সি এই তারকা নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ভারতের বিপক্ষে আসন্ন সিরিজে হিলিকে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে দেখা যাবে না। তবে ওয়ানডে সিরিজ এবং পার্থে অনুষ্ঠেয় একমাত্র দিবারাত্রির টেস্টে তিনি অস্ট্রেলিয়াকে নেতৃত্ব দেবেন। মূলত নতুনদের প্রস্তুতির সুযোগ করে দিতেই টি-টোয়েন্টি থেকে আগেভাগে সরে দাঁড়ানোর এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
২০১০ সালে মাত্র ১৯ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখেন হিলি। সাবেক অজি উইকেটকিপার ইয়ান হিলির ভাতিজি নিজের যোগ্যতায় হয়ে উঠেছেন ক্রিকেটের অন্যতম বিধ্বংসী ব্যাটার ও সেরা উইকেটকিপার। এখন পর্যন্ত তিনি অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ১৬২টি টি-টোয়েন্টি, ১২৬টি ওয়ানডে ও ১১টি টেস্ট খেলেছেন। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ ১২৬টি ডিসমিসালের বিশ্বরেকর্ডটিও তার দখলে।
২০২৩ সালে মেগ ল্যানিংয়ের অবসরের পর অধিনায়কত্বের দায়িত্ব পান হিলি। তার নেতৃত্বে ইংল্যান্ডকে অ্যাশেজে ১৬-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করা অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটে অন্যতম বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত। এ ছাড়া তার অধীনে অস্ট্রেলিয়া ২০২৪ টি-টোয়েন্টি ও ২০২৫ ওয়ানডে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে খেলেছে।
হিলির ট্রফি ক্যাবিনেট অবিশ্বাস্যভাবে সমৃদ্ধ। জাতীয় দলের হয়ে তিনি মোট ৮টি বিশ্বকাপ জিতেছেন (৬টি টি-টোয়েন্টি ও ২টি ওয়ানডে)। এ ছাড়া ২০২২ কমনওয়েলথ গেমসে স্বর্ণপদকজয়ী দলের সদস্য ছিলেন তিনি। দুবার আইসিসির বর্ষসেরা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটার এবং একবার বেলিন্ডা ক্লার্ক অ্যাওয়ার্ড জিতেছেন এই তারকা।
বিদায়বেলায় হিলি অবসরের ঘোষণা দিয়ে বলেন, মিশ্র অনুভূতি নিয়ে বলতে হচ্ছে, ভারতের বিপক্ষে আসন্ন সিরিজটাই হবে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে আমার শেষ সিরিজ। এখনও দেশের হয়ে খেলতে ভালোবাসি। তবে দীর্ঘদিন যে প্রতিযোগিতামূলক তাড়না আমাকে এগিয়ে নিয়েছে, সেটি আগের মতো নেই। সময়টা ঠিকই মনে হচ্ছে। চলতি বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও আমি থাকছি না। প্রস্তুতির সময় সীমিত হওয়ায় ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতেও খেলব না। তবে ঘরের মাঠে ওয়ানডে ও টেস্ট দলে অধিনায়কত্ব করে ক্যারিয়ার শেষ করতে পারাটা আমার জন্য দারুণ রোমাঞ্চকর হবে।
সময়ের আলো/এনএ