সংকটে শুরু ইরি বোরো রোপণ, শীতে নষ্ট হচ্ছে বীজতলা

নওগাঁ প্রতিনিধি

সারাদেশ

নওগাঁয় শুরু হয়েছে ইরি বোরো রোপণ। তবে জেলায় প্রচণ্ড কুয়াশা ও ঠাণ্ডায় নষ্ট হচ্ছে বীজতলা। শীতের কারণে জমিতে চারা রোপণেও

2026-01-14T23:50:34+00:00
2026-01-14T23:50:34+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৬ ভাদ্র ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সারাদেশ
সংকটে শুরু ইরি বোরো রোপণ, শীতে নষ্ট হচ্ছে বীজতলা
নওগাঁ প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ১১:৫০ পিএম 
সংকটে শুরু ইরি বোরো রোপণ, শীতে নষ্ট হচ্ছে বীজতলা। ছবি : সময়ের আলো
নওগাঁয় শুরু হয়েছে ইরি বোরো রোপণ। তবে জেলায় প্রচণ্ড কুয়াশা ও ঠাণ্ডায় নষ্ট হচ্ছে বীজতলা। শীতের কারণে জমিতে চারা রোপণেও হচ্ছে বিলম্ব। এছাড়াও শ্রমিকের বাড়তি মজুরি এবং সারের অতিরিক্ত দাম কৃষকদের জন্য যেন মরার উপর খাড়ার ঘা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, জেলায় চলতি মৌসুমে এক লাখ ৭৩ হাজার ২৭০ হেক্টর জমিতে ইরি বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যা থেকে প্রায় ১১ লাখ ৫০ হাজার টনের বেশি ধান উৎপাদনের আশা কৃষি বিভাগের।

জানা গেছে, লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে শস্য ভাণ্ডার খ্যাত উত্তরের জেলা নওগাঁয় প্রচণ্ড শীত ও কুয়াশাকে উপেক্ষা করে চলছে ইরি বোরো রোপণ। জেলার বিভিন্ন মাঠে মাঠে জমি প্রস্তুত ও রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষকরা। কাটারিভোগ, জিরা শাইল, ব্রিআর-২৮, সুফলতা ও হাইব্রিড জাতের ধানের চারা রোপণ করা হচ্ছে। 

কৃষকদের অভিযোগ, এ বছর প্রচণ্ড কুয়াশা ও শীতের কারণে জমিতে চারা রোপণে প্রায় ১৫ দিন দেরি হয়েছে। আবার শ্রমিক সংকটে বাড়তি মজুরি গুনতে হচ্ছে কৃষকদের। এছাড়া, কৃষি কার্ড দিয়ে ডিলারের কাছে সরকারি মূল্যে স্বল্প সার পাওয়া গেলেও তা দিয়ে প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণ হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে বেশি দামে খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সার কিনতে হচ্ছে তাদের। একইসঙ্গে আনুষঙ্গিক ব্যয় বৃদ্ধিতে ধানের সঠিক দাম না পেলে ক্ষতির মুখে পড়তে হবে তাদের।

সদর উপজেলার হারিয়াগাছী গ্রামের কৃষক হাফেজ মোহসিন আলী বলেন, ইরি বোরো রোপণ থেকে শুরু করে কাটা-মাড়াই পর্যন্ত বিঘাতে খরচ পড়ে অন্তত ১৬-১৮ হাজার টাকা। ১২ বিঘা জমিতে ইরি বোরো রোপণের প্রস্তুতি নিয়েছি। ইতোমধ্যে দুই বিঘা রোপণ করা হয়েছে। 

তিনি আরও বলেন, কৃষি কার্ড দিয়ে তিন বস্তা সার পেয়েছি। তবে এ মৌসুমে ডিএপি, পটাশ ও ইউরিয়া সারের প্রয়োজন অন্তত ২৫ বস্তা। সংকটের অজুহাতে ডিএপি সার বাজার থেকে বস্তা প্রতি ২৫০-৩০০ টাকা বেশি দামে কিনতে হয়েছে। সারসহ অন্যান্য উপকরণ মিলে বিঘাতে খরচ বেড়েছে অন্তত এক হাজার টাকা করে। ধানের সঠিক দাম না পেলে অনেক লস হবে।

দুবলহাটি গ্রামের কৃষক এমদাদুল হক দুলাল বলেন, তিন বিঘাতে ধানের চারা রোপণে প্রস্তুতি নিচ্ছি। সার পাওয়া যাচ্ছে না। খোলা বাজার থেকে সার কেনায় আমার তিন হাজার টাকা বেশি খরচ পড়েছে। আমরা কৃষকরা সবসময় অসহায়। ফসল ফলাতে খরচ পড়ছে বেশি। আবার বাজারে ধান বিক্রি করতে গিয়ে কম দামে বিক্রি করতে হয়। সার সিন্ডিকেট রুখতে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছি।


জমুনি গ্রামের কৃষক জালাল হোসেন বলেন, আমাদের এলাকা কিছুটা নিচু হওয়ায় আগে ভাগেই ধান লাগানো শুরু হয়। বিঘাতে ৩০-৩৫ মণ ফলন হয়। অনেকেই ধারদেনা করে আবাদ করতে হয়। উৎপাদন খরচ বেড়েছে, তাই মৌসুমের শুরুতে এক হাজার ২০০ টাকা মণ দাম হলে সুবিধা হয়।

নওগাঁ সদর উপজেলার বাইপাস এলাকার সার ডিলার মেসার্স মজুমদার অ্যান্ড ব্রাদার্স-এর ম্যানেজার মনি মজুমদার বলেন, সরকারি মূল্যে সার বিক্রি করা হয়। পটাস ও ইউরিয়া সারের কোন সংকট নেই। তবে বেশকিছু দিন থেকে ডিএপি সারের সংকট রয়েছে। 

এসব বিষয়ে নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোছা. হোমায়রা মণ্ডল বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় বীজতলা কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও চারা রোপণে কোনো প্রভাব পড়বে না। এ জন্য কৃষকদের আবহাওয়া বুঝে চারা রোপণের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, চলতি মৌসুমে রাসায়নিক সারের কোনো ধরনের সংকট নেই। পর্যাপ্ত পরিমাণে সারের সরবরাহ রয়েছে। কোনো ধরনের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি না হয় তার জন্য নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে।


এফআর
  বিষয়:   নওগাঁ  সংকট  শুরু  ইরি বোরো রোপণ  শীত  নষ্ট  বীজতলা 


Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: