মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান প্রায় এক বছর ধরে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে আসছেন না। চিকিৎসাজনিত কারণ দেখিয়ে সিলেটে অবস্থান করায় জন্মনিবন্ধন, নাগরিক সনদ, ট্রেড লাইসেন্স ও ওয়ারিশ সনদের মতো জরুরি সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ এবং প্রবাসীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতিদিন সেবা নিতে এসে খালি হাতে ফিরছেন মানুষ। পাসপোর্ট তৈরির জন্য আসা রেজাউল করিম জানান, চেয়ারম্যান না থাকায় সময়মতো সনদ না পেয়ে তার ৩ কার্যদিবস নষ্ট হচ্ছে। দুবাই ও ফ্রান্স প্রবাসী আব্দুর রাজ্জাক ও ডালিম উদ্দিন ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, অল্প ছুটিতে দেশে এসে কাগজপত্রের জন্য দিনের পর দিন ঘুরেও কাজ শেষ করতে পারছেন না। ১৫ কিলোমিটার দূর থেকে আসা তোহাদিল ইসলামের অতিরিক্ত যাতায়াত খরচ হচ্ছে, আর যথাসময়ে ট্রেড লাইসেন্স না পেয়ে আনছার আলীকে এখন জরিমানার মুখে পড়তে হয়েছে।
বাধ্য হয়ে ইউপি সচিব সিদ্ধার্থ শংকর দাস সপ্তাহে এক-দুদিন গ্রাম পুলিশ পাঠিয়ে সিলেটে অবস্থানরত চেয়ারম্যানের কাছ থেকে জরুরি নথিপত্র ও সার্টিফিকেটে স্বাক্ষর আনিয়ে নিচ্ছেন। এতে একদিকে সচিব ও গ্রাম পুলিশের দাফতরিক কাজে বিঘ্ন ঘটছে, অন্যদিকে পরিষদের অতিরিক্ত অর্থ অপচয় হচ্ছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দীর্ঘমেয়াদি ব্যক্তিগত সমস্যা থাকলে নিয়ম অনুযায়ী অন্য কোনো ইউপি সদস্যকে দায়িত্ব দেওয়া উচিত ছিল।
ইউপি সচিব সিদ্ধার্থ শংকর দাস জানান, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সর্বশেষ ৩০ আগস্ট পরিষদে এসেছিলেন এবং এরপর থেকেই তিনি সিলেটে অবস্থান করছেন।
অভিযোগের বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান দাবি করেন, সিলেটে থাকলেও সচিবের মাধ্যমে পাঠানো কাগজপত্র তিনি নিয়মিত স্বাক্ষর করে ফেরত পাঠাচ্ছেন এবং আগামী সপ্তাহ থেকে নিয়মিত অফিস করবেন।
বড়লেখার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহবুবুর রহমান মাহবুব জানান, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের ছুটির বিষয়টি তার স্পষ্ট জানা নেই। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সময়ের আলো/জোই