গত কয়েক দিন ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শীতের তীব্রতা কিছুটা কমে এলেও ফের শৈত্যপ্রবাহ বাড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে আবহাওয়া অধিদফতর। বুধবার দেশের মাত্র এক জেলায় শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। উত্তরের সেই জেলা হলো পঞ্চগড়। এ নিয়ে গত ১০ দিনের বেশি সময় ধরে চলা শৈত্যপ্রবাহ সবচেয়ে কম অঞ্চলে বিস্তৃত হয়েছে। যদিও এদিন অবশ্য রাজধানীর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কমেছে খানিকটা।
আবহাওয়া অধিদফতর বলছে, আজ বৃহস্পতিবার থেকে শৈত্যপ্রবাহ আবার বাড়তে পারে। দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে আবার নতুন করে শৈত্যপ্রবাহ শুরু হতে পারে। এ ছাড়া তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমে যেতে পারে। এ অবস্থা চলতে পারে আগামী শনিবার পর্যন্ত। এতে করে এসব এলাকায় শীতের প্রকোপ বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অধিদফতর জানায়, সাধারণত যখন কোনো এলাকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে নেমে আসে, তখন সেটিকে শৈত্যপ্রবাহ হিসেবে ধরা হয়।
সম্প্রতি পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা প্রায় ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে, যা শীতের কড়াকড়ি প্রভাবের ইঙ্গিত দিচ্ছে। পঞ্চগড়ে টানা ১০ দিন ধরে বইছে শৈত্যপ্রবাহ। হিমালয় পাদদেশীয় এই জেলায় উত্তরের হিমেল বাতাসে শীতের প্রকোপ এখনও পুরোপুরি কাটেনি।
বুধবার সকাল ৯টায় জেলার তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৮ শতাংশ এবং বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার। ভোর থেকে ঘন কুয়াশায় মাঠ-ঘাট ঢেকে থাকলেও সকাল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সূর্যের দেখা মেলে। তবে ঝলমলে রোদ থাকলেও তাপের অনুভূতি তেমন ছিল না, ঠান্ডা বাতাসে শীতের দাপট অব্যাহত রয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ওই দিন বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯১ শতাংশ এবং বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার। দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
চলতি জানুয়ারি মাসের শুরুতে দেওয়া দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছিল, এ মাসে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঁচটি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এর মধ্যে অন্তত একটি শৈত্যপ্রবাহ তীব্র আকার নিতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছিল। জানুয়ারির শুরু থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে শৈত্যপ্রবাহের প্রভাব দেখা যাচ্ছে। যদিও গত চার দিনে শীতের তীব্রতা কিছুটা কমে এসেছিল, নতুন করে তাপমাত্রা কমার পূর্বাভাস আবারও শীতের দাপট বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তাপমাত্রা হঠাৎ কমে গেলে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়েন শিশু, বয়স্ক মানুষ এবং শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত রোগে আক্রান্তরা। শীতের শুরু ও শেষের সময়গুলোতে ঠান্ডাজনিত রোগ, জ্বর ও শ্বাসকষ্টের প্রবণতা বেড়ে যায়। তাই এ সময়গুলোতে শীত থেকে সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর।
বুধবার আবহাওয়া অধিদফতরের আবহাওয়াবিদ ড. আবুল কালাম মল্লিকের দেওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের কোথাও কোথাও মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এ ছাড়া শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের কিছু কিছু এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে।
বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। সেই সঙ্গে বিরাজমান শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে। এ ছাড়া শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের কিছু কিছু এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে এবং সারা দেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। সেই সঙ্গে শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের নদী অববাহিকার কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। এ ছাড়া সারা দেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।