বাংলাদেশ
ক্রিকেটে চলমান অস্থিরতার মাঝেই কিছুটা স্বস্তির বার্তা এলো ক্রিকেটারদের
পক্ষ থেকে। দেশের ক্রিকেটের সামগ্রিক ভবিষ্যৎ, চলমান আন্তর্জাতিক ও
বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্টের কথা বিবেচনায় নিয়ে আগের কঠোর অবস্থান
পুনর্বিবেচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব
বাংলাদেশ (কোয়াব)। বিসিবির কাছে পাঠানো এক চিঠিতে তারা জানিয়েছে, ক্রিকেটের
বৃহত্তর স্বার্থেই আপাতত আলোচনার পথে থাকতে চায় ক্রিকেটাররা।
চিঠিতে
কোয়াব উল্লেখ করেছে, বাংলাদেশ ক্রিকেটের চলমান জটিলতা নিয়ে ক্রিকেটারদের
নিজেদের মধ্যেই নিয়মিত আলোচনা চলছে। সেই আলোচনার মাধ্যমেই তারা উপলব্ধি
করেছেন, একযোগে সব ধরনের খেলা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত দেশের বিভিন্ন দলকে
সরাসরি ক্ষতির মুখে ফেলতে পারে। বর্তমানে নারী জাতীয় দল নেপালে বিশ্বকাপ
বাছাইপর্ব খেলছে, ছেলেদের জাতীয় দলের সামনে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, আর
অনূর্ধ্ব-১৯ দল অংশ নিচ্ছে যুব বিশ্বকাপে। এমন বাস্তবতায় দীর্ঘমেয়াদি বয়কট
এসব দলের প্রস্তুতি ও পারফরম্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে
করছেন ক্রিকেটাররা।
চিঠিতে বিপিএল নিয়েও স্পষ্ট অবস্থান জানানো
হয়েছে। কোয়াব বলেছে, বিপিএলকে তারা দেশের ক্রিকেটের জন্য অত্যন্ত
গুরুত্বপূর্ণ একটি টুর্নামেন্ট হিসেবে বিবেচনা করে। সেই কারণেই ক্রিকেটের
সামগ্রিক স্বার্থে আগের সিদ্ধান্ত নতুন করে ভাবার প্রয়োজন অনুভব করেছেন
ক্রিকেটাররা।
বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলামকে অর্থ কমিটি থেকে
সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে কোয়াব। চিঠিতে বলা হয়েছে, যেহেতু
তাকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়েছে এবং তার পরিচালক পদ নিয়ে বিসিবি
প্রক্রিয়াগত কারণে সময় চেয়েছে, সেই সময়টুকু দিতে তারা প্রস্তুত। তবে একই
সঙ্গে কোয়াব আশা করছে, এই প্রক্রিয়া থেমে থাকবে না এবং বিষয়টি যৌক্তিক
পরিণতির দিকে এগোবে।
একই সঙ্গে চিঠিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে,
পরিচালক এম নাজমুল ইসলাম যেহেতু প্রকাশ্যে ক্রিকেটারদের নিয়ে অপমানজনক
মন্তব্য করেছেন, সে কারণে তার প্রকাশ্য ক্ষমা প্রত্যাশা করছেন ক্রিকেটাররা।
কোয়াব মনে করে, এই ইস্যুতে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জন্য প্রকাশ্য ক্ষমা
একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
সবশেষে কোয়াব বিসিবিকে জানিয়ে দিয়েছে,
এম নাজমুল ইসলাম প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইলে এবং তার পরিচালক পদ সংক্রান্ত
প্রক্রিয়া চলমান থাকলে, তারা শুক্রবার থেকেই আবার মাঠে ফিরতে প্রস্তুত। এই
ঘোষণায় বিপিএলসহ দেশের ক্রিকেট ফের সচল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যদিও
শেষ পর্যন্ত বিষয়টি কোন দিকে গড়ায় সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।
সময়ের আলো/এসকে/