সাবেক
প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার স্মরণে আজ শুক্রবার শোকসভা
অনুষ্ঠিত হবে। দুপুর আড়াইটায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এ শোকসভা
হবে। যেখানে উপস্থিত থাকবেন খালেদা জিয়ার ছেলে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক
রহমান। এই শোকসভার বিস্তারিত জানাতে বৃহস্পতিবার রাজধানীর কৃষিবিদ
ইনস্টিটিউটে সংবাদ সম্মেলনে আয়োজকদের তরফ থেকে বিস্তারিত জানায় নাগরিক
সমাজ। আয়োজকদের ভাষ্য, এটি কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়; বরং দেশনেত্রীর
প্রতি জাতীয় পর্যায়ের মর্যাদাপূর্ণ শ্রদ্ধা নিবেদনের মানবিক উদ্যোগ।
সংবাদ
সম্মেলনে সভার সার্বিক প্রস্তুতি ও নিয়মাবলি তুলে ধরেন অর্থনীতিবিদ ও
রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ। তিনি বলেন, ৩০ ডিসেম্বর খালেদা
জিয়ার মৃত্যুর পর বিপুলসংখ্যক মানুষ তার প্রতি শোক ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করছেন।
সে জন্য নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে এ আয়োজন। এটি একটি পবিত্র অনুষ্ঠান ও
গাম্ভীর্য রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি।
অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ বলেন,
শোকসভাটি রাজনৈতিক দলভিত্তিক নয়। কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা মঞ্চে বক্তব্য
দেবেন না। বিভিন্ন পেশার শীর্ষ ব্যক্তিত্ব, গবেষক, ধর্মীয় প্রতিনিধি,
পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি, চিকিৎসক, শিক্ষক ও অন্য পেশাজীবীরা বক্তব্য
দেবেন। তবে রাজনৈতিক দলগুলোকে অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তারা
দর্শক সারিতে থাকবেন।
মাহবুব উল্লাহ আরও বলেন, দার্শনিকভাবে বলতে
গেলে মানুষের প্রতিটি কাজই রাজনীতির সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে যুক্ত। সে
হিসেবে এই আয়োজন রাজনৈতিকও বটে, আবার অরাজনৈতিকও। কারণ বক্তব্য দেবেন কেবল
পেশাজীবীরা, রাজনৈতিক দলভুক্ত কেউ নন।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকরা
জানতে চান, শোকসভায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বক্তব্য
দেবেন কি না। জবাবে আয়োজকরা জানান, বক্তব্য দেবেন শুধুই পেশাজীবী সমাজের
আমন্ত্রিত ব্যক্তিরা। রাজনৈতিক দলের কেউ বক্তব্য দেবেন না। তবে খালেদা
জিয়ার পরিবারের সদস্যদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এবং তারা উপস্থিত থাকবেন।
আয়োজকরা
শোকসভার জন্য কঠোর নিয়মাবলি ঘোষণা করেন। তারা জানিয়েছেন, এই অনুষ্ঠানে
সেলফি তোলা যাবে না। হাততালি দেওয়া যাবে না। দাঁড়িয়ে থাকা যাবে না।
আমন্ত্রণপত্র ছাড়া প্রবেশ নিষিদ্ধ। তবে অতিথিদের মধ্যে কেউ আমন্ত্রণপত্র
আনতে ভুলে গেলে তার জন্য বিকল্প প্রবেশপত্র থাকবে, তবে তা কেবল তালিকাভুক্ত
ব্যক্তিদের জন্য। আয়োজকদের মতে, এ আয়োজন কোনো জনসভা বা রাজনৈতিক সমাবেশ
নয়; এটি শ্রদ্ধা জানানো ও নীরব উপস্থিতির একটি অনুষ্ঠান।
মিডিয়ার
প্রতিনিধিদের ব্যাপক আগ্রহ থাকায় আড়াই হাজারেরও বেশি আমন্ত্রণপত্র
সাংবাদিকদের পাঠানো হয়েছে। ইলেকট্রনিক, প্রিন্ট, অনলাইন- প্রতিটি
প্ল্যাটফর্মের জন্য আলাদা বুথ রাখা হয়েছে।
মাল্টিমিডিয়ার কর্মীরা
আসতে পারবেন কি না এমন প্রশ্নে আয়োজকরা বলেন, ‘অফিস যাকে দায়িত্ব দেবে, সেই
রিপোর্টার, ক্যামেরাম্যান বা মাল্টিমিডিয়া কর্মী প্রবেশ করতে পারবেন। তবে
অবশ্যই আমন্ত্রণপত্র থাকতে হবে।
লাইভ কভারেজের বিষয়ে আয়োজকরা জানান,
সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সাংবাদিকদের জন্য ওয়াইফাই, টাওয়ার ও অন্যান্য
প্রযুক্তিগত সুবিধা রাখা হয়েছে। বিটিভি মূল লাইভ প্রচার করবে এবং অন্যান্য
চ্যানেল চাইলে সেখান থেকে ফিড নিতে পারবে।
আয়োজকদের ভাষ্য, এ
উদ্যোগে দেশের সব পেশাজীবী যুক্ত হয়েছেন-প্রকৌশলী, চিকিৎসক, সম্পাদক,
সাংবাদিক, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী ও ধর্মীয়
প্রতিনিধিসহ নাগরিক সমাজের বহু অংশ। বিদেশি কূটনৈতিক মিশন থেকেও উপস্থিত
থাকবেন আমন্ত্রিত অতিথিরা।
অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ বলেন, আমরা আশা
করছি, এ শোকসভা বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গাম্ভীর্যপূর্ণ ও মর্যাদাবান
অনুষ্ঠান হিসেবে স্থান করে নেবে। খালেদা জিয়ার প্রতি জাতির শ্রদ্ধা যেন
সম্মানজনক ও শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে প্রতিফলিত হয়- এটাই আমাদের প্রত্যাশা। দুপুর
সাড়ে ১২টার দিকে প্রবেশপথ খুলে দেওয়া হবে বলে জানান আয়োজকরা।
সময়ের আলো/এসকে/