নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভি বলেছেন, ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার পতনের পর নতুন সরকার অবিলম্বে ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করবে।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, ইরানে বর্তমান শাসনব্যবস্থার পতনের পর একটি নতুন স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক সরকার অবিলম্বে ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক পুনরায় স্বাভাবিক করবে।
পাহলভি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক পোস্টে আরও বলেন, নতুন ইরান ইসরায়েল ও বৃহত্তর আরব বিশ্বের মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করতে আব্রাহাম চুক্তিকে ‘সাইরাস চুক্তি’ হিসেবে সম্প্রসারণ করবে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা হবে, যুক্তরাষ্ট্র ও তার জনগণের সঙ্গে বন্ধুত্ব পুনরুদ্ধার করা হবে। ইসরায়েল রাষ্ট্র অবিলম্বে স্বীকৃতি পাবে। আমরা আব্রাহাম চুক্তিকে সাইরাস চুক্তিতে সম্প্রসারণ করার চেষ্টা করব, যা একটি স্বাধীন ইরান, ইসরায়েল এবং আরব বিশ্বকে একত্রিত করবে।
সংবাদটির আরও বিশদে বলা হয়েছে, তিনি বিশ্বব্যাপী সকল বন্ধুদের উদ্দেশ্যে সম্বোধন করতে গিয়ে বলেন, বর্তমান ইরান ইসলামী প্রজাতন্ত্রের অধীনে সন্ত্রাসবাদ, চরমপন্থা ও দারিদ্র্যের সঙ্গে যুক্ত, কিন্তু ইসলামী শাসন ক্ষমতায় আসার আগে প্রকৃত ইরান ছিল সুন্দর, শান্তিপ্রিয় ও সমৃদ্ধ। আমরা সেই ইরানকে পুনঃউত্থিত করতে চাই।
পাহলভি বলেন, নতুন ইরান দেশের পারমাণবিক সামরিক কর্মসূচি বন্ধ করবে, সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোকে আর সমর্থন দেবে না এবং মাদক পাচার, সংগঠিত অপরাধ ও চরমপন্থী ইসলামবাদের বিরুদ্ধে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অংশীদারদের সঙ্গে লড়াই করবে।
তিনি আরও বলেন, ইরান এই অঞ্চলে বন্ধু ও স্থিতিশীল শক্তি হিসেবে কাজ করবে এবং বিশ্ব নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি দায়িত্বশীল অংশীদার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। এছাড়া তিনি ইরানি জনগণকে প্রশংসা করেছেন, বলেছেন তারা শিক্ষিত, আধুনিক এবং দেশের অব্যবহৃত অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে শক্তিশালী করতে সক্ষম।
এই বিবৃতিগুলো এমন সময় এসেছে যখন ইরানের বর্তমান সরকারের প্রতি জনগণের অসন্তোষ ক্রমেই বাড়ছে। গত ডিসেম্বর মাসে ইরানের মুদ্রার পতন ও তীব্র মূল্যস্ফীতি নিয়ে শুরু হওয়া জনগণের বিক্ষোভ দেশটির শাসন ব্যবস্থার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রেজা পাহলভির বক্তব্য এবং জনগণের অর্থনৈতিক অসন্তোষ মিলিতভাবে ইরানের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
নির্বাসিত যুবরাজের এই বার্তা স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ইরানে ধর্মনিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক সরকারের উত্থান এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সহযোগিতা শুধু দেশের জন্য নয়, অঞ্চল ও বিশ্ব নিরাপত্তার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হবে।
/ইউএমএইচ