লাইসেন্স, নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনার দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার মধ্যে আবারও নীতিগত বিতর্কের কেন্দ্রে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। স্থানীয় সরকারের প্রতিষ্ঠান সিটি করপোরেশনের অধীনে নয়, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) অধীনে অটোরিকশার লাইসেন্সিং ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন শ্রমিক নেতারা।
তাদের অভিযোগ, অটোরিকশার লাইসেন্স নিয়ে মালিক ও শ্রমিকদের সঙ্গে এক ধরনের ‘গিনিপিগ খেলা’ চলছে। এর ফলে একদিকে শ্রমিকরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন, অন্যদিকে সরকার প্রতি বছর হাজার হাজার কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
শ্রমিক নেতাদের মতে, যানজট ও দুর্ঘটনার দায় একতরফাভাবে রিকশার ওপর চাপিয়ে দিয়ে মূল সংকট আড়াল করা হচ্ছে।
তবে বিআরটিএ বলছে, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চললেও বিদ্যমান আইনি কাঠামোর মধ্যে এই মুহূর্তে অটোরিকশার লাইসেন্স দেওয়া সম্ভব নয়।
ঢাকাসহ দেশের প্রধান সড়ক থেকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা একাধিকবার তুলে দেওয়ার চেষ্টা করেও শ্রমিক আন্দোলনের মুখে তা বাস্তবায়ন করতে পারেনি সরকার। হাইকোর্ট থেকে কয়েক দফা ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধের নির্দেশনা এলেও সুনির্দিষ্ট বিকল্প বা ব্যবস্থাপনা কাঠামো না থাকায় সেগুলোর বাস্তবায়নও সম্ভব হয়নি। সুনির্দিষ্ট সরকারি পরিসংখ্যান না থাকলেও সংশ্লিষ্টদের ধারণা, বর্তমানে সারা দেশে ৫০ থেকে ৬০ লাখ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বা ইজিবাইক চলাচল করছে। এর মধ্যে রাজধানী ঢাকাতেই রয়েছে প্রায় ১৫ থেকে ২০ লাখ। মোটরযান নির্মাণে নকশা অনুমোদন, ফিটনেস পরীক্ষা ও সড়কে চলাচলের লাইসেন্স সাধারণত বিআরটিএ দিয়ে থাকে। তবে অটোরিকশা মোটরযানের সংজ্ঞার মধ্যে পড়ে না, এমন যুক্তিতে বর্তমানে এই বাহন কার্যত নিয়ন্ত্রণহীন অবস্থায় রয়েছে।
কোস্টাল লাইভলিহুড অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল অ্যাকশন নেটওয়ার্কের (সিএলইএএন) এক গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের ব্যাটারিচালিত রিকশা খাত উৎপাদন, ব্যাটারি বাজার, সার্ভিসিং ও চলাচলসহ সব মিলিয়ে বছরে প্রায় ৯৭ হাজার ৬২৫ কোটি টাকার অর্থনৈতিক অবদান রাখে।
শ্রমিক নেতাদের দাবি, লাইসেন্স না থাকা ও অবৈধ টোকেন ব্যবস্থার কারণে সরকার প্রতি বছর এই খাত থেকে বিপুল অঙ্কের রাজস্ব হারাচ্ছে।
তাদের মতে, সিটি করপোরেশনের অধীনে লাইসেন্স ব্যবস্থা চালু করে সংকট আরও ঘনীভূত করা হয়েছে। লাইসেন্স, রুট পারমিট ও নিয়ন্ত্রণ যদি একটি কেন্দ্রীয় ও স্বচ্ছ কাঠামোর আওতায় আনা যায়, তা হলে যানজট ও দুর্ঘটনার দায় একতরফাভাবে অটোরিকশার ওপর চাপানোর সুযোগও থাকবে না।
রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক শ্রমিক ইউনিয়নের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম নাদিম সময়ের আলোকে বলেন, বিআরটিএ আইন অনুযায়ী, যান্ত্রিক যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন, ফিটনেস পরীক্ষা ও নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব বিআরটিএর। সিটি করপোরেশনের কাছে এসব কাজের জন্য প্রয়োজনীয় টেকনিক্যাল জনবল, প্রশিক্ষণ বা অবকাঠামো নেই। বিআরটিএর অনলাইন রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থা ও ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে সমন্বয়ের ফলে আইন প্রয়োগ দ্রুত সম্ভব, যা সিটি করপোরেশনের ক্ষেত্রে বাস্তবসম্মত নয়। তবু সিটি করপোরেশন এ দায়িত্ব নেওয়ার চেষ্টা করছে মূলত সদ্য পদত্যাগ করা স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এজাজের প্রচেষ্টায়। এখানে লোক দেখানোর আড়ালে লুটপাটের আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে কয়েকটি গ্রুপকে গাড়ি বিক্রি ও ঠিকাদারিতে সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। সিটি করপোরেশনকে এ দায়িত্ব দিলে তাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়বে এবং নাগরিক সেবার মূল কাজ অবহেলিত হবে। বিআরটিএ যেহেতু এ কাজের জন্যই বিশেষায়িত, তাই এটা তাদের পক্ষে সহজ, টেকসই ও কার্যকর।
সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ও শ্রমিক ফ্রন্টের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেকুজ্জামান লিপন সময়ের আলোকে বলেন, সাধারণ রিকশার দাম ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা। কিন্তু গুলশান-নিকেতন সোসাইটিতে চলা রিকশার দাম ৫ থেকে ৮ লাখ টাকা পর্যন্ত! কারণ সোসাইটিতে সিন্ডিকেশন তৈরি হয়েছে। সিটি করপোরেশন যা করতে যাচ্ছে, সেটাও একই রকম। দুই-তিনটা নির্দিষ্ট কোম্পানির গাড়ি কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে। এটাও সিন্ডিকেশনেরই নমুনা। বিশেষ করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন একটা নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর হাতে ব্যবসা তুলে দিতে চাচ্ছে। এই স্বার্থের কারণেই এই খাত বছরের পর বছর আটকে আছে এবং তারা সুসমন্বিত নীতিমালা তৈরিতে বাধা দিচ্ছে।
তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, ইতিমধ্যে ইলেকট্রিক মোটরযান নীতিমালা কার্যকর আছে। থ্রি-হুইলার সমজাতীয় নীতিমালা ২০২২ সাল থেকে কার্যকরের প্রক্রিয়ায় আছে। আবার ২০২৫ সালের নামে নতুন থ্রি-হুইলার নীতিমালা আসছে। এখন সিটি করপোরেশনের নামে আলাদা ই-রিকশা নীতিমালা আনা হচ্ছে। একই যানবাহনকে ঘিরে এতগুলো নীতিমালা কেন? এ জন্য আমরা বলছি এসব আলাদা নীতিমালার দরকার নেই। বিআরটিএর তত্ত্বাবধানে ঢাকাসহ সারা দেশের জন্য একটা অভিন্ন নীতিমালা হওয়া উচিত। তা হলেই সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও শৃঙ্খলা ফিরে আসবে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ সময়ের আলোকে বলেন, আমরা কোনো নির্দিষ্ট গ্রুপকে অটোরিকশার ঠিকাদারি দিইনি। এগুলো মিথ্যা কথা। এখন যারা আছে তাদেরও অনুমতি দিচ্ছি। যাদের রেগুলার রিকশা আছে সেটারও লাইসেন্স দিচ্ছি। এখন এগুলোকে কন্ট্রোল করতে চাচ্ছি তো। তাই অনেকে অনেকভাবে গল্প বানাচ্ছে। আর কন্ট্রোল করবে পুলিশ। আমরা করব না। ডিএমপি কন্ট্রোল করবে। সুতরাং এগুলো না বুঝে কথাবার্তা বলা।
অন্যদিকে অটোরিকশার লাইসেন্স বিআরটিএ দিতে পারবে না বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান আবু মমতাজ সাদ উদ্দিন আহমেদ।
তিনি সময়ের আলোকে বলেন, আমাদের আইনে মোটরযানের যে সংজ্ঞা আছে, তাতে অটোরিকশা পড়ে না। তবে এটা নিয়ে কথাবার্তা চলছে, দেখা যাক। আসলে স্থানীয় সরকারেরও মোটরযানের পারমিট দেওয়ার কথা না। কিন্তু কোনো কারণে কীভাবে যেন তারা দিচ্ছে, সেটা আমি জানি না।
বিআরটিএ চেয়ারম্যানের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় খালেকুজ্জামান লিপন বলেন, বিআরটিএ নতুন করে একটা নীতিমালা তৈরি করছে। সেটা খসড়া পর্যায়ে আছে, চূড়ান্ত হয়নি। সেখানে ইলেকট্রিক থ্রি-হুইলার অটোযান নীতিমালা রয়েছে। এটা নিয়ে আলোচনা তাদের টেবিলেই আছে। এরা এই বাহন নিয়ে একটা গিনিপিগ খেলা খেলছে। বস্তুত বিদ্যমান আইনের মধ্যেই অটোরিকশা অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ রয়েছে এবং বিআরটিএ নিজেই একাধিক নীতিমালা প্রণয়ন করছে।
১০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি : রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক শ্রমিক ইউনিয়নের মতে, বাংলাদেশে ৭০ লাখ মানুষ রিকশা ও ব্যাটারিচালিত যানবাহনের মাধ্যমে তাদের জীবিকা নির্বাহ করে। এই ৭০ লাখ মানুষ পরিবারসহ দাঁড়ায় ৩ কোটিতে। তাদের দাবি, এই খাতকে নিয়মের আওতায় আনলে বছরে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় সম্ভব।
বাসদের সাধারণ সম্পাদক ও শ্রমিক নেতা বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, গত ৫৪ বছরে কেউ রিকশাচালকদের জন্য সহজ লাইসেন্স ব্যবস্থা করেনি। আমরা বলছি লাইসেন্স দিন। বছরে রাজস্ব আসবে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু সেই টাকা এখন চাঁদাবাজদের পকেটে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আমি নিজে রিকশায় উঠে শুনেছি প্রতিদিন ৩০ টাকা টোকেন। ১০ টাকা পুলিশ, ২০ টাকা কাউন্সিলর। এটা ট্যাক্সের মতো, কিন্তু পুরোপুরি অবৈধ।
খালেকুজ্জামান লিপন বলেন, এটি দেশের তৃতীয় বৃহত্তম কর্মসংস্থানের খাত (কৃষি, পরিবহনের পর)। এ ছাড়া স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত গাড়ির ডিজাইন অনুমোদন করে সবাইকে উৎপাদনের সুযোগ দিলে ভারত থেকে আমদানি কমবে। এতে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে, দেশীয় অর্থনীতি মজবুত হবে এবং রাজস্বও বাড়বে। তাই এমন একটা খাতকে অবহেলা করা যায় না।
অর্থনীতিবিদ মাহা মির্জা সময়ের আলোকে বলেন, অটোরিকশার সেক্টরটা এত বড় হয়ে গেছে যে হঠাৎ করে সবকিছু ঠিক করা সম্ভব না। এটা ধাপে ধাপে একটা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে করতে হবে। অটোরিকশা চালকদের বিভিন্ন সংগঠন নিজেরাই নীতিমালা তৈরি করেছে। তারা নিজেরাই চায় রেজিস্ট্রেশনের আওতায় আসতে, যাতে দ্রুতগতি, কাঠামোগত সমস্যা, নিরাপত্তার ঝামেলাগুলো নিয়ন্ত্রণে আসে। তাই এটা হুট করে ছয় মাস-এক বছরে সমাধান করার চেষ্টা করলে হবে না। ধাপে ধাপে করতে হবে। ঢাকার বিভিন্ন এলাকা ভাগ করে নিয়ে শুরু করা যেতে পারে।
তবে রাজস্বের বিষয়টি সমর্থন করছেন না বিআরটিএ চেয়ারম্যান আবু মমতাজ সাদ উদ্দিন আহমেদ। তার মতে শুধু রাজস্ব নয়, সড়কের ধারণক্ষমতা ও সময়ের মূল্যও বিবেচনায় নিতে হবে। বিআরটিএ চেয়ারম্যান বলেন, আপনি সময়ের হিসাবটা বিবেচনা করুন। আরও দুই কোটি রিকশা দিলেও অসুবিধা নেই! কিন্তু ঢাকার আজিমপুর থেকে শাহবাগ যেতে তখন লাগবে পাঁচ ঘণ্টা। তা হলে সময়ের হিসাবটা টাকা দিয়ে কীভাবে করবেন? আমাদের তো অনেক কিছু বিবেচনা করতে হয়।
রিকশা নয়, বেকারত্বের কারণে যানজট : অন্যদিকে শহরের যানজটের জন্য অনেকেই অটোরিকশা জাতীয় বাহনকে দায়ী করে থাকেন। তবে বিষয়টি মানতে নারাজ শ্রমিক নেতারা। তারা বলছেন, এটি বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বরং ব্যক্তিগত গাড়ি, অবৈধ পার্কিং, লোড-আনলোড এবং নগর পরিকল্পনার ব্যর্থতাই যানজটের মূল কারণ। কর্মসংস্থান সংকটের কারণে মানুষ বাধ্য হয়ে রিকশা চালাতে আসছেন। এটিই প্রকৃত সংকট।
বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, আপনারা বলেন রিকশার জন্য যানজট হয়। তা হলে একটা প্রাইভেটকারে কয়জন যায়? রিকশায় কয়জন? প্রাইভেটকারে কত জায়গা লাগে, রিকশায় কতটুকু?
তিনি বলেন, এটা রিকশার জন্য যানজট নয়, বাংলাদেশের বেকারত্বের জট। কর্মসংস্থান থাকলে কেউ রিকশা চালাতে আসত না।
মাহা মির্জা বলেন, আমাদের গণপরিবহন তো এখনও মধ্যবিত্তের সুবিধা অনুযায়ী গড়ে ওঠেনি। যাদের গাড়ি আছে তারা একটা আলাদা দুনিয়ায় থাকে। তারা অটোরিকশাকে হয়তো বাহনই মনে করে না। কিন্তু হাজার হাজার মানুষ এর থেকে সুবিধা পাচ্ছে। তাই এখানে পক্ষে-বিপক্ষে দুই দিকই আছে। সবার সুবিধা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
বিআরটিএ চেয়ারম্যান আবু মমতাজ সাদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, রাস্তার ধারণক্ষমতা বুঝে ভারসাম্য রাখতে হয়। কোন রাস্তায় কতগুলো গাড়ি চলতে পারে, এর একটা হিসাব-নিকাশ আছে। একটা সার্ভে করতে হয়। অনেক কিছু আছে। এভাবে হুটহাট করে দেওয়া যায় না। এর জন্য একটা সিস্টেম করতে হবে।
তবে যানজট ঠেকাতে ছোট গাড়ির রেজিস্ট্রেশনের পক্ষে নন পরিবহন ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. শামসুল হক।
তিনি সময়ের আলোকে বলেন, যদি কেউ সত্যিকার অর্থে ট্রান্সপোর্টেশনে পেশাদার হয়, তা হলে সে কোনোদিনই ছোট গাড়ির রেজিস্ট্রেশনের পক্ষে সমর্থন দেবে না। এটা অঞ্চল বা এলাকাভিত্তিক ব্যাপার। যেমন গুলশান যান, নিকুঞ্জে যান, বারিধারায় যান, বসুন্ধরায় যান, ক্যান্টনমেন্টে যান, সব জায়গায় তারা সংখ্যা সীমিত করছে, বিচরণ ক্ষেত্র নিয়ন্ত্রণ করছে। এটাকেই বলে রেগুলেশন। তাই প্রধান সড়ক থাকবে বিআরটিএর হাতে। প্রধান সড়কে শুধু বাস চলবে। বাসের মেরুদণ্ড যদি আপনি তৈরি করতে না পারেন, মেট্রোর মতো আকর্ষণীয় বিকল্প সৃষ্টি করতে না পারেন, তা হলে এই ছোট ছোট গাড়ি দিয়ে মানুষের চাহিদা পূরণ করলে সড়ক কোনোদিন সামলাতে পারবেন না।
দুর্ঘটনা কমিয়ে আনতে নিয়ন্ত্রণই সমাধান : ২০১৭-১৮ সালের দিকে রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলতে শুরু করে। প্রথমদিকে গলিপথে সীমাবদ্ধ থাকা এসব রিকশা এখন প্রধান সড়কেও বেপরোয়া গতিতে চলাচল করছে যা সড়কে দুর্ঘটনা বৃদ্ধির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যাত্রীকল্যাণ সমিতির এক সমীক্ষা বলছে, গত বছর দেশে ৬ হাজার ৭২৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৯ হাজার ১১১ জন নিহত ও ১৪ হাজার ৮১২ জন আহত হয়েছেন।
সংস্থাটি জানিয়েছে, এসব দুর্ঘটনার ৯০ শতাংশের জন্যই দায়ী ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। তবে পরিবহন শ্রমিকরা আরও বিস্তৃত পরিসরে যাত্রীকল্যাণ সমিতির গবেষণাটি পর্যবেক্ষণের নিবেদন জানান। তাদের মতে, সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী সড়ক দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি মৃত্যু ঘটে মোটরসাইকেল ও ভারী যানবাহনে, ব্যাটারি রিকশার হার তুলনামূলকভাবে খুবই কম। তাই নিষেধাজ্ঞার বদলে নিয়ন্ত্রণ, লাইসেন্স ও রুট পারমিট চালু করার ওপর জোর দেন তারা।
বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, সবাই বলে ব্যাটারি রিকশায় দুর্ঘটনা হয়। কিন্তু যাত্রীকল্যাণের পরিসংখ্যান বলছে, মোটরসাইকেলে ৩৮ থেকে ৪০ শতাংশ মৃত্যু, ট্রাকে ২৫ থেকে ২৮ শতাংশ। ব্যাটারি রিকশা একা মাত্র ৩ থেকে ৪ শতাংশ। তিনি বলেন, দুর্ঘটনা কমাতে হবে, তাই বলে পুরোটা বন্ধ করে দেওয়া সমাধান নয়। লাইসেন্স দিন, রুট নির্ধারণ ও নিয়ন্ত্রণ করুন।