ঢাকা-৯ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন হাবিবুর রশীদ হাবিব। সম্প্রতি সময়ের আলোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, নির্বাচিত হতে পারলে এলাকার সমস্যাগুলো সমাধানে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বিশেষ প্রতিনিধি রফিক রাফি।
সময়ের আলো : ছিলেন ছাত্রনেতা এখন জনপ্রতিনিধি হতে চাইছেন কেন?হাবিব : আমি এ এলাকায় ৩৮ বছর ধরে রাজনীতি করি। সবসময় এলাকার জনগণ সহজেই আমাকে পায়, তারা মনে করে আমাকে সমস্যাগুলো জানানো সহজ এবং এসব সমস্যা সমাধানে আমি সমাধানে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। রাজনীতি জনগণের জন্য। আর জনগণের জন্য উন্নয়ন করতে হলে জনপ্রতিনিধি হওয়া দরকার। সে কারণেই জনপ্রতিনিধি হওয়ার ইচ্ছা।
নির্বাচিত হলে এলাকায় মাদক নিয়ন্ত্রণে কী পদক্ষেপ নেবেন?
আমি মনে করি, মাদক আমাদের সামাজিক অবক্ষয়ের অন্যতম কারণ। তাই মাদক নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। তবে শুধু দমন নয়, তরুণ সমাজের জন্য সুস্থ বিনোদনের বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। অলস সময় কাটানো তরুণদের জন্য প্রতিটি ওয়ার্ডে ইনডোর গেমসের ব্যবস্থা, বিদেশের আদলে সুইমিংপুল, লাইব্রেরি এবং আয়মুখী কারিগরি প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরি করা গেলে তারা কর্মমুখী হয়ে মাদক থেকে দূরে থাকবে। আমি দৃঢ়ভাবে বলতে চাই, রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ে মাদক ব্যবসা আর চলতে দেওয়া হবে না। মাদক নিয়ন্ত্রণে আমি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে থাকব।
দীর্ঘদিন এলাকার রাস্তাঘাটের উন্নয়ন হয়নি, আপনি কী করবেন?
আমি নিজেই ভুক্তভোগী। এ এলাকার অলিগলিতে চলতে গিয়ে আমাকে প্রতিদিনই ভাঙা রাস্তার ঝাঁকুনি খেতে হয়। তাই এখানে নাগরিক সেবা এবং সড়ক সংস্কার খুব জরুরি। নতুন রাস্তা নির্মাণ এবং সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে সরকারের সর্বোচ্চ সহযোগিতাও প্রয়োজন।
আমি লক্ষ করেছি, সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্ত পাঁচটি ওয়ার্ডে এখনও ৪০০-৫০০ গজ দীর্ঘ বেহাল রাস্তা আছে। জনগণ কর দেবে কিন্তু নাগরিক সুবিধা পাবে না, এটি হতে পারে না। এলাকার মানুষের উন্নয়নে কাজ করাই আমার প্রধান লক্ষ্য।
সরকারি দলের লোকজন চাঁদাবাজি বেশি করে, আপনি নির্বাচিত হলে এটি কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করবেন?
বিগত কয়েকটি নির্বাচনে মানুষ ভোট দিতে পারেনি। এবার জনগণের অংশগ্রহণে এবং প্রত্যক্ষ ভোটে বিএনপি সরকার গঠন করবে ইনশাআল্লাহ। ভোটে নির্বাচিত হলে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকব এবং এলাকার ছেলে হিসেবে চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে রাজনৈতিকভাবে সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নেব। তারপরও নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে প্রশাসনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঢাকা-৯ আসনে যানজট, জলাবদ্ধতা ও বাসযোগ্যতার অভাব একই সুতোয় গাঁথা; নির্বাচিত হলে এ তিনটি বিষয় সমাধানে আপনার প্রথম ১০০ দিনের পরিকল্পনা কী হতে পারে?
রাজধানীতে বাস করলেও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা না থাকায় মনে হয় সবকিছু বঞ্চিত অজপাড়াগাঁয়ে বাস করি। আমার প্রধান অগ্রাধিকার হবে এলাকার মানুষকে এসব সুযোগ-সুবিধা এনে দেওয়া। এলাকার খাল-বিল ভরাট করে অপরিকল্পিত কালভার্ট, ব্রিজ করায় জলাবদ্ধতা বেড়েছে। আমি এসব সমস্যার সমাধান করে এলাকাকে বাসযোগ্য করব।
ঢাকা-৯-এর জনগণ কেন আপনাকে বেছে নেবে?
আমি কখনোই বলিনি জনগণ আমাকে বেছে নেবে; শুধু বলেছি, আমি এ এলাকারই ছেলে। ৩৮ বছর ধরে এখানেই বসবাস করছি, এলাকার মানুষ আমাকে চেনে এবং সবার সঙ্গেই সুসম্পর্ক রয়েছে। আমার কাছে আসতে কাউকে কোনো রাজনৈতিক মাধ্যমে যেতে হয়নি মানুষ আমাকে আপনজন হিসেবেই দেখে। সেই ভালোবাসা ও অধিকারের জায়গা থেকেই বিশ্বাস করি, এ নির্বাচনেও তারা আমার সঙ্গেই থাকবে।
ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে কেমন সাড়া পাচ্ছেন?
আমার প্রথম পরিচয় হলো ধানের শীষের প্রার্থী, দ্বিতীয় আমি এ এলাকার সন্তান। আর একজন স্থানীয় ছেলে হিসেবে আমার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে, পাশাপাশি শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার প্রতি মানুষের ভালোবাসা আছে। চেয়ারম্যান তারেক রহমান ৩১ দফার পরিকল্পনার মাধ্যমে আগামীর বাংলাদেশ গড়তে চাচ্ছেন। এ কারণেই বিশ্বাস করি, আমি আশাবাদী, ভোটাররা আমাকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবে।
নির্বাচিত হলে কোন বিষয়ে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেবেন?
নির্বাচিত হলে আমাদের প্রথম কাজ হবে ওয়ার্ডভিত্তিক অরাজনৈতিক সভা করা। সেখানে বিরোধী মতসহ সব দলের মানুষ থাকবে। তাদের কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে পরিকল্পনা করে অগ্রাধিকারভিত্তিতে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেব। সবাই মিলে সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশে এলাকার উন্নয়ন করব।
জননেতা জনপ্রতিনিধি হলে এলাকার মানুষের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়...
আমার ক্ষেত্রে এমনটি হওয়ার সম্ভাবনা নেই, কারণ গত ৩৮ বছর ধরে মানুষ আমাকে চেনে। আমি ছোটবেলা থেকেই সাদাসিধে জীবনযাপন করি। এটির পরিবর্তন হবে না। বরং নির্বাচিত হলে জনস্পৃক্ততা আরও বাড়বে।
আপনাকে ধন্যবাদ।
আপনাকে এবং সময়ের আলোকেও ধন্যবাদ।