বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় ম্রো আদিবাসীদের সৃজিত বাগান থেকে ফসল চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে রোহিঙ্গা ও সেটেলারদের হামলায় অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ৩ জনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাত ৮টা দিকে আলীকদম উপজেলার ৩ নম্বর ইউনিয়নের জানালী পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জানালী পাড়ার একটি কলা বাগান থেকে ফসল চুরির সময় নয়াপাড়া এলাকার রোহিঙ্গা বাসিন্দা জাফর আলমকে (৪৫) আটক করেন গ্রামবাসীরা। পরে তার সহযোগীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে গ্রামবাসীদের ওপর হামলা চালিয়ে জাফরকে ছিনিয়ে নেয়। এ সময় অন্তত ৩ জন গুরুতর আহত হন।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন- ডাংয়া ম্রো (৫২), অমর ত্রিপুরা (৫০), প্রেকিক্য ম্রো (২৭), অংসং ম্রো (৩০), কটঙং ম্রো (৫০), ঙানওয়াই ম্রো (২৭), লাংছিং ম্রো (৩০) ও মেনরু ম্রো (৪০)। আহত সবাই আলীকদম উপজেলার জানালী পাড়ার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
আহত প্রেকিক্য ম্রো ও ঙানওয়াই ম্রো জানান, সকালে কলা চুরির ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ পাওয়া যায়নি। বরং পুলিশ সন্ধ্যায় আমাদের থানায় যেতে বলে। থানায় গিয়ে ফেরার পথে দ্বিতীয় দফায় আমাদের ওপর আবার হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত ও হামলাকারীদের গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছি।
নয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কফিল উদ্দিন বলেন, ‘জানালী পাড়া এলাকায় ম্রোদের ওপর হামলার বিষয়টি আমি শুনেছেন। আহতদের আইনগত ব্যবস্থা নিতে বলেছি।’
আলিকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মো. হাসান বলেন, ‘গতকাল রাতের ঘটনায় আহত ৫ জনকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়েছিল। তারমধ্য গুরুতর আহত তিনজনকে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজে প্রেরণ করা হয়েছে আর দুজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়ীতে পাঠানো হয়েছে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আলীকদম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন শাহ বলেন, ‘এই হামলার অভিযুক্ত আসামী জাফর আলমকে গত দুদিন আগেও একটি চুরির মামলায় গ্রেফতার শেষে আদালতে প্রেরণ করেছি। আদালত থেকে জামিন নিয়ে এসেই জানালী পাড়ায় ম্রোদের উপর হামলা চালিয়েছে এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। আমরা জাফরসহ হামলাকারীদের আটকের জন্য অভিযান পরিচালনার করছি এবং আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।
সময়ের আলো/কেএইচও