ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে বিকেল পাঁচটার পর নারী শিক্ষার্থীদের প্রবেশে বাধা ও ক্যাম্পাসে বিভিন্নভাবে নারী শিক্ষার্থীদের চলাচল সীমিত করেছে কর্তৃপক্ষ। এ সীমাবদ্ধতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে ‘প্রশাসন পোড়ানো ও বারবিকিউ সন্ধ্যা’ নামক ব্যতিক্রমী প্রতীকী প্রতিবাদ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় একদল নারী শিক্ষার্থী।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) বিকেল ৫টা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে এই আয়োজন করা হয়, যেখানে খেলাধূলা, বারবিকিউ, ডিজে মিউজিকসহ নানা আয়োজন ছিল।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান ইমু বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে প্রায় এক দেড় বছর ধরে নারীদের সন্ধ্যা পাচটার পরে সূর্যাস্ত্র আইনের মতো ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। এছাড়া মল চত্বরে কিছুদিন আগে শামসুন্নাহার হল সংসদের একজন সদস্য প্রশাসন দ্বারা হেনস্তার শিকার হয়। তাকে ওই সময় ওখানে অবস্থান করার কারণে জোরপূর্বক চলে যেতে বাধ্য করা হয়।
তিনি বলেন, রাত ১০টার পরে কিংবা সন্ধ্যার পরে নারী শিক্ষার্থীদের চলাচল সীমিত করার যে প্রচেষ্টা আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দেখতে পাচ্ছি, কোনো বিবৃতি ছাড়া বেআইনিভাবে নারী শিক্ষার্থীদের চলাচল সংকুচিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে,সেটার প্রতিবাদে একটি নারীবান্ধব ক্যাম্পাস তৈরি করার উদ্দেশ্যেই আমাদের অবস্থা। সেইসঙ্গে যে মাঠে আমাদেরকে ঢুকতে দেওয়া হয় না, সেই মাঠে আজকে বারবিকিউ করার মাধ্যমে এসব ঘটনার প্রতীকী প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য হেমা চাকমা বলেন, গত কয়েকদিন ধরে আমরা দেখছি নারী শিক্ষার্থীদেরকে বিভিন্নভাবে হেনস্তার শিকার হতে হচ্ছে। যেমন গত কয়েকদিন আগে শামসুন্নাহার হলের নির্বাচিত একজন হল সংসদের প্রতিনিধিকে মল চত্বরে রাত দশটার পরে প্রবেশ করায় তাকে প্রশাসন কর্তৃক বিভিন্ন ধরনের জেরাও করা হয়েছিল, বিভিন্ন ধরনের প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়েছিল। এর ধারাবাহিকতায় আমরা আরও দেখতে পেয়েছি রোকেয়া হলের একজন ছাত্রী যখন পাঁচটার পরে সেন্ট্রাল ফিল্ডে ঢোকার চেষ্টা করে তখন তাকে দারোয়ানরা বলে দেয় যে, এখানে পাঁচটার পরে মেয়েদের সেন্টার ফিল্ডে ঢোকা নিষেধ। এই ধরনের অনেক ঘটনা আমরা দেখতে পাচ্ছি। আমরা যখনই প্রশাসনের কাছে যাচ্ছি, কথা বলার চেষ্টা করছি, উনারা আমাদেরকে বারবার বলার চেষ্টা করছেন এটা আসলে একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা। কিন্তু এটা আমরা মনে করছি না আসলে বিচ্ছিন্ন ঘটনা।
তিনি আরও বলেন, আমরা দেখতে পাচ্ছি যে বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মত জায়গায় এমন কিছু দিন সেলিব্রেশন করা হয় যেমন গত বছর মেয়েদের জন্য সারারাত মেয়েদের হল খোলা রাখা হয়, শুধুমাত্র একদিন। তাইলে এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শুধুমাত্র কি একদিন মেয়েদেরকে নিরাপত্তা দেবে? বাকি দিনগুলো আসলে নিরাপত্তা কোথায়? সেই ধারাবাহিকতায় মেয়েরা যে হয়রানির শিকার হচ্ছে সেগুলোর প্রতিবাদেই আমরা আজকের এই আয়োজনটা করেছি এবং আমাদের এই আয়োজনের নাম হচ্ছে ‘প্রশাসন পোড়ানো এবং বারবিকিউ সন্ধ্যা’ এটা আসলে আমাদের একটা প্রতীকী প্রতিবাদ।
সময়ের আলো/এসকে/