সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) স্থগিতের প্রতিবাদ ও নির্ধারিত তারিখেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার দাবি জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের (ডাকসু) নেতৃবৃন্দরা।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেলে ডাকসু ভবনের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই প্রতিবাদ ও দাবি জানান ডাকসুর নেতৃবৃন্দরা।
সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য ও ডাকসুর ছাত্র পরিবহন বিষয়ক সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ বলেন, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন কোন অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি যার জন্য শাকসু নির্বাচন বানচাল অথবা পেছানোর কোন প্রয়োজনীয়তা আছে। পাঁচটি ছাত্রসংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে আপনারা সেখানে দেখেছেন ছাত্রসমাজের আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন হয়েছে এবং কোন ছাত্রসংসদ নির্বাচনেই অপ্রীতিকর পরিবেশ আমরা দেখিনি।
তিনি বলেন, দীর্ঘ ষোল সতেরো বছর ধরে আমরা ফ্যাসিস্ট হাসিনার বিরুদ্ধে লড়াই সংগ্রাম জারি রেখেছিলাম সকল দল মত নির্বিশেষে, আমার যারা গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে সুষ্ঠু নির্বাচন চেয়েছিলাম তাদের মধ্যে একটি পক্ষ নতুন করে ফ্যাসিবাদ কায়েমের লক্ষ্যে তারা ছাত্র সংসদ নির্বাচন চাচ্ছে না।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে শিক্ষার্থীদের যে আকাঙ্ক্ষা ছাত্র সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাদের ক্যাম্পাসগুলোতে প্রতিনিধি পছন্দ করে নিচ্ছে সেই সময় যে বা যারাই ছাত্রসংসদ নির্বাচন বানচাল করা বা প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়াবে তাদেরকে ছাত্রসমাজ চিনে নিচ্ছে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ছাত্রসমাজ এবং সাধারণ মানুষ তাদের গণ আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন দেখাবে এবং তাদেরকে উত্তম জবাব দিবে বলে আমরা মনে করছি।
আরও পড়ুন
তিনি আরো বলেন, অনতিবিলম্বে আগামী ২০ তারিখ শাকসু নির্বাচন হওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি এবং যারাই গণ আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে গিয়ে অবস্থান নিচ্ছে তারা যদি সরে না আসে সারা বাংলাদেশের মানুষ তাদেরকে প্রতিহত করবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।
ডাকসুর এজিএস মহিউদ্দিন খান বলেন, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জানাতে চাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ অন্যান্য ছাত্র সংসদ গুলোর সাথে কথা বলেছি, প্রত্যেকেই আমরা আপনাদের সাথে আছি। আপনারা আপনাদের অধিকারের বিষয়ে সোচ্চার হবেন। আমরা আপনাদের সাথে আছি এবং বাংলাদেশের ছাত্রসমাজ আপনাদের সাথে আছে। যেই তারিখে শাকসু নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল সেই তারিখেই শাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে।
ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, ক্যাম্পাসের মধ্যে যে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ধারা শুরু হয়েছে সে ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। বাংলাদেশের প্রতিটি ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা নেতৃত্ব দিবে এবং এই নির্বাচনের মাধ্যমে কোন রাজনৈতিক দল ছাত্র সংগঠন বিজয়ী হচ্ছে না। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের গণতন্ত্র বিজয়ী হচ্ছে, এর মাধ্যমে জুলাই বিজয়ী হচ্ছে, এর মাধ্যমে জুলাইয়ের শহীদদের আকাঙ্ক্ষা বিজয়ী হচ্ছে। সুতরাং কেউ যদি এই নির্বাচন বন্ধ করার জন্য সামনে থেকে, পেছন থেকে গুপ্ত অবস্থায় অথবা প্রকাশ্যে মেকানিজম করেন ছাত্রসমাজ বরদাস্ত করবে না। কে কি করছেন সবার আমলনামা আমাদের কাছে আছে, আমরা জাতির কাছে প্রকাশ করে দিব।
তিনি বলেন, আমরা আশা করব যে নির্ধারিত তারিখ দেওয়া হয়েছে সে অনুযায়ী ছাত্র সংসদ নির্বাচন হবে এবং এই নির্বাচন আয়োজন করার জন্য নির্বাচন কমিশন, বিচার বিভাগ এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী একই সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন সবাইকে আন্তরিক সহযোগিতা করার জন্য অনুরোধ করছি। তারা যদি ব্যর্থ হয় দেশের মুক্তিগামী ছাত্রজনতাকে সাথে নিয়ে আমরা সারা দেশব্যাপী দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলব।
এএডি/