যত্নে থাকুক প্রিয় পোষা প্রাণী

জীবন যখন যেমন ডেস্ক

পোষা প্রাণীর সঙ্গে মানুষের বন্ধুত্ব অনেক পুরোনো। অনেকের একাকিত্বের এ সঙ্গী একটু একটু করে জীবনের একটি অংশ হয়ে যায় সময়ের

2026-01-20T05:36:04+00:00
2026-01-20T05:36:49+00:00
 
  মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬,
৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
যত্নে থাকুক প্রিয় পোষা প্রাণী
জীবন যখন যেমন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২৬, ৫:৩৬ এএম  আপডেট: ২০.০১.২০২৬ ৫:৩৬ এএম
প্রতীকী ছবি
পোষা প্রাণীর সঙ্গে মানুষের বন্ধুত্ব অনেক পুরোনো। অনেকের একাকিত্বের এ সঙ্গী একটু একটু করে জীবনের একটি অংশ হয়ে যায় সময়ের সঙ্গে। শখ করে প্রাণী পোষাটা এখন অনেকটা ট্রেন্ডও বটে। 

শহরের বদ্ধ বাড়িতেও তাই শখের পোষ্য হেসেখেলে বড় হচ্ছে পরিবারের সদস্যের মতো। তবে গ্রাম বা মফস্বলের খোলামেলা পরিবেশে পশুপাখি পালন যতটা সহজ, আধুনিক ধারার ফ্ল্যাট বাড়িতে সেটা ততটাই কঠিন। আবদ্ধ জায়গায় প্রাণীদের পালতে হলে চাই বাড়তি যত্ন ও বিশেষ খেয়াল। আজকে সে ব্যাপারেই রইল আলোচনা।

যত্নআত্তি যেভাবে
কোনো প্রাণী পালতে চাইলে প্রয়োজনীয় তথ্য জেনে নেওয়া ভালো। মাছ, পাখি, কচ্ছপ, কুকুর, বিড়াল— প্রতিটি প্রাণীর যত্নের নিয়ম ভিন্ন। 

বিড়াল ও কুকুর মূলত আমিষজাতীয় খাবার খায়। অন্য কিছু না দিলেও চলে। মাছ, মাংস এবং খানিকটা ডিম দিতে পারেন। সামান্য সবজি সেদ্ধ করে (মিষ্টিকুমড়া, আলু, গাজর, পেঁপে) এগুলোর সঙ্গে মিশিয়েও দিতে পারেন। দিতে পারেন সামান্য ভাতও। কিছু বিদেশি কুকুরকে বাড়তি ক্যালসিয়াম দিতে হয়। খরগোশকে পালংশাক, ধনেপাতা, লেটুসপাতা, টমেটো, শসা, গাজর, কাঁচা ঘাস, শুকনো খড় দিতে পারেন। বয়স অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের প্রাণীর বিভিন্ন খাবার কিনতেও পাওয়া যায়। রাজধানীতে অনেকগুলো এলাকায় পেট শপ গড়ে উঠেছে। সেখানে গেলেও খাবার কিনতে পারেন।

প্রাণীর পাত্রের পানি বদলে দিন নিয়মিত। ঠান্ডা আবহাওয়ায় ঢেলে রাখা পানি দ্রুত ঠান্ডা হয়ে যায়, পানিতে ধুলো-ময়লাও পড়তে পারে যেকোনো সময়। খাবার ও পানি রাখার জন্য ভালোমানের পাত্র বেছে নিন। ময়লা পড়লে পানি বদলে দিন। 

ছোটবেলা থেকে মায়ের দুধ ছাড়া অন্য দুধে অভ্যস্ত না হয়ে থাকলে প্রাণীদের বাইরের দুধ দেবেন না। এতে পেটের পীড়া হতে পারে। চকলেট, চা-কফি, পেঁয়াজ বিড়াল-কুকুরের জন্য ক্ষতিকর। বিড়াল-কুকুরের খাবারে লবণ দিলে সেটিও হবে খুব সামান্য। মসলা ছাড়াই রান্না করুন বিড়াল-কুকুরের খাবার। 

বিড়াল-কুকুরকে গোসল করান সপ্তাহে একবার। ওদের জন্য বিশেষ শ্যাম্পু কিনতে পাওয়া যায়, সেটি ব্যবহার করুন। শীতের সময় মাসখানেকের ব্যবধানে গোসল করালেও ক্ষতি নেই।

বিড়ালের জন্য নখ ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। বিড়ালের নখ না কাটাই ভালো। তবে বাসার অন্যদের নিরাপত্তার কথা ভেবে অনেকে বিড়ালের নখ কেটে থাকেন। কাটতে হলেও কাটুন কেবল নখের অগ্রভাগ (সামান্য অংশ)। কুকুর আর খরগোশের নখের সামান্য অংশ কেটে দেওয়া যেতে পারে। প্রাণীর নখ কাটতে প্রয়োজনে পেশাদার ব্যক্তির সহায়তা নিতে পারেন। লম্বা লোমের জন্য গরমে প্রাণীটি কষ্ট পেলে (বিদেশি প্রাণীর ক্ষেত্রে) পেশাদার হাতে লোমও ছাঁটিয়ে নিতে পারেন। প্রাণী চিকিৎসকের সহকারীরা অনেক ক্ষেত্রেই দক্ষতার সঙ্গে এই কাজগুলো করে থাকেন। রাজধানীর বনানীতে পেট পার্লার আছে। সেখানে গেলেও প্রাণীর নানা ধরনের সেবা নিতে পারবেন।

দুই মাস বয়সেই বিড়াল ও কুকুরকে জীবাণুর সংক্রমণরোধী টিকা দিন। এক মাস পর বুস্টার ডোজ দিয়ে নেওয়া ভালো। এ ছাড়া তিন মাস পূর্ণ হলে অবশ্যই দিন জলাতঙ্কের টিকা। এরপর প্রতি বছর নিয়ম করে টিকাগুলো দিন। পোষা প্রাণীকে নিয়মমাফিক জলাতঙ্কের টিকা দেওয়া হলে সে ও আপনার পরিবারÑ সবাই থাকবে নিরাপদ।

তিন মাস অন্তর বিড়াল-কুকুরকে কৃমির ওষুধ দিন, খরগোশকে দিন ছয় মাস অন্তর।

গর্ভবতী নারী বিড়ালের মল পরিষ্কারের কাজে হাত না দেওয়াই ভালো। তবে তা করতে হলে হাত পরিষ্কার করে ফেললেই চলবে। এর বাইরে বিড়াল নিয়ে বাড়তি সতর্কতার কিছুই নেই।

মানুষ যেমন অসুস্থ হয়, তেমনি অসুস্থ হয় পোষ্যরাও। ওদেরও প্রয়োজন চিকিৎসা এবং আন্তরিক সেবা। ঢাকার অদূরে পূর্বাচলে রয়েছে টিচিং ও ট্রেনিং পেট হাসপাতাল ও গবেষণাকেন্দ্র। মাইক্রোস্কপিক পরীক্ষা এবং রক্ত পরীক্ষা তো বটেই, এক্স-রে, আল্ট্রাসনোগ্রামের মতো পরীক্ষা করানোর সুবিধাও সেখানে রয়েছে। এ ছাড়া উত্তরা, বসুন্ধরা, ধানমন্ডি, লালমাটিয়া, গুলশান-বাড্ডা সংযোগ সড়ক ও মিরপুরসহ ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় রয়েছে প্রাণীদের ক্লিনিক। 

প্রাণীর মাধ্যমে মানুষের মধ্যে করোনা ছড়ানোর ঝুঁকি নেই বললেই চলে বরং মানুষ থেকে মানুষেই ছড়ায় এই ভাইরাস।

প্রাণী চিকিৎসকের পরামর্শমতো নিয়মিত যত্ন নিশ্চিত করুন। পরিবারের ছোট্ট শিশুর মতোই পোষ্যদের টিকা, কৃমিনাশক প্রভৃতি প্রয়োজন হয় (প্রজাতিভেদে ভিন্নতা রয়েছে)। প্রাণীর মলমূত্র পরিষ্কার করুন নিয়মিত, কাজটি করার সময় মাস্ক ব্যবহার করতে পারেন, সবশেষে সাবান দিয়ে ভালোভাবে হাত ধুয়ে নিন।

পোষ্যকে সময় দিন, ওদের সঙ্গে খেলুন। তা হলে সে দ্রুত আপনার অনুগত হয়ে যাবে। আর খুঁটিনাটি বিষয়গুলোর দিকে লক্ষ্য রাখলেই পোষ্য থাকবে সবসময় সুস্থ আর প্রাণোচ্ছল। 

এফআর


  বিষয়:   যত্নে থাকুক  প্রিয়  পোষা প্রাণী 


Loading...
Loading...
- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: