মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফরাসি ওয়াইন ও শ্যাম্পেইনের উপর ২০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন। এর কারণ, ফ্রান্স তার ‘বোর্ড অব পিস’-এ যোগদানের আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেছে। একই সময়ে, ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর ব্যক্তিগত বার্তাও শেয়ার করেছেন।
ট্রাম্প মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে আর্কটিক অঞ্চলে শক্ত অবস্থানে থাকতে হবে। তিনি মনে করেন, ডেনমার্ক ও অন্যান্য ইউরোপীয় দেশ গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও গুরুত্ব ঠিকভাবে বোঝে না। সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রাম্প প্রকাশ করেছেন যে, ম্যাক্রোঁর সঙ্গে কিছু আন্তর্জাতিক ইস্যুতে তারা একমত হলেও, গ্রিনল্যান্ডে আমি কী করছি তা তিনি বুঝতে পারছেন না।
ফরাসি সরকার ট্রাম্পের পদক্ষেপ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় কটাক্ষ করেছে। একটি পোস্টে বলা হয়েছে, যদি কোনও দিন আগুন লাগে, দমকলকর্মীরা হস্তক্ষেপ করবে বোঝা যায়—তাহলে এখনই বাড়ি পুড়িয়ে ফেলা ভালো।
নম্যাক্রোঁর ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, ট্রাম্পের শুল্ক হুমকি ‘গ্রহণযোগ্য নয়’ এবং ‘কাজের নয়’। সূত্রটি বলেছে, ফ্রান্সের পররাষ্ট্রনীতিতে প্রভাব বিস্তার করতে শুল্ক হুমকি কার্যকর হবে না।
এদিকে ট্রাম্প বলেছেন, আমি তার ওয়াইন ও শ্যাম্পেইনের উপর ২০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করব। তিনি আরও বলেছেন, মার্কিন প্রস্তাবিত বোর্ড মূলত গাজার পুনর্গঠন তদারকি করার জন্য তৈরি, তবে পরবর্তী সময়ে এই বোর্ডের কাজ কেবল দখলকৃত ফিলিস্তিনি অঞ্চলে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং যেকোনো যুদ্ধ-সংঘাত পরিস্থিতিতে শান্তি প্রতিষ্ঠায় এটি কাজ করবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের পদক্ষেপ আর্কটিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অবস্থানের শক্ত ভিত্তি তৈরি করছে এবং আন্তর্জাতিক উত্তেজনাও বাড়াচ্ছে। বিশেষ করে গ্রিনল্যান্ডকে কেন্দ্র করে মার্কিন ও ইউরোপীয় সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও স্পষ্ট হয়েছে। এই পদক্ষেপ ন্যাটো এবং ইউরোপীয় নেতাদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে, কারণ এটি আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও বাণিজ্যকে প্রভাবিত করতে পারে।
/ইউএমএইচ