চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারী ইউনিয়নের মাদামবিবির হাট এলাকায় পুরাতন স্ক্র্যাপ জাহাজের মালামালের দোকানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের উভয় পাশে প্রায় তিন ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন হাজারো যাত্রী ও চালক।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেনের পাশে সোনারগাঁও ফিলিং স্টেশনের সংলগ্ন এলাকায় এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, স্ক্র্যাপ জাহাজের জেনারেল স্টোর, বয়া, লাইফ জ্যাকেটসহ বিভিন্ন মেরিন আইটেমের একটি দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়ে পাশের অন্যান্য দোকানে।
খবর পেয়ে কুমিরা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকলে পর্যায়ক্রমে ফায়ার সার্ভিসের আরও ছয়টি ইউনিট ঘটনাস্থলে যোগ দেয়। দীর্ঘ চেষ্টার পর রাত পৌনে ১১টার দিকে আগুন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসে এবং রাত সাড়ে ১১টার দিকে সম্পূর্ণভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
অগ্নিকাণ্ডের কারণে নিরাপত্তার স্বার্থে রাত সাড়ে ৯টা থেকে প্রায় সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের উভয় দিকের যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়। পরে রাত ১২টার দিকে ঢাকামুখী লেনে সীমিত আকারে যান চলাচল শুরু হয়। এ সময় মহাসড়কের দুই পাশে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আগুনে দোকানগুলোতে থাকা পুরাতন স্ক্র্যাপ জাহাজের বিভিন্ন মেরিন সামগ্রী পুড়ে কয়েক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়রা জানান, ভাটিয়ারী ইউনিয়ন একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল হওয়া সত্ত্বেও এখানে এখনো ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কোনো পূর্ণাঙ্গ স্টেশন স্থাপন করা হয়নি। ফলে অগ্নিকাণ্ড বা দুর্ঘটনার সময় কুমিরা কিংবা বায়েজিদ ফায়ার সার্ভিস স্টেশন থেকে প্রায় ১৫ থেকে ২০ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করে উদ্ধারকারী দলকে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে হয়। এতে মূল্যবান সময় নষ্ট হয় এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে যায়।
স্থানীয়দের মতে, শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড, হাট-বাজার, ব্যাংক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি অফিসসহ জনবহুল এই এলাকায় দ্রুত একটি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন স্থাপন করা অত্যন্ত জরুরি। এ ঘটনায় স্থানীয়দের তাৎক্ষণিক উদ্যোগ এবং ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের প্রচেষ্টা প্রশংসনীয় হলেও দূরত্ব ও যোগাযোগ সমস্যার কারণে দ্রুত সাড়া পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেন ব্যবসায়ীরা।
এ ঘটনায় এলাকাবাসী ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারী ইউনিয়নের সুবিধাজনক কোনো স্থানে একটি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
/ইউএমএইচ