নতুন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি এখনও

রফিকুল ইসলাম সবুজ

সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের পর ১৪ অথবা ১৫ ফেব্রুয়ারি নতুন এমপিদের শপথ এবং নতুন মন্ত্রীসভা গঠন হওয়ার

2026-01-22T12:11:01+00:00
2026-01-22T12:11:01+00:00
 
  সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬,
৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
নতুন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি এখনও
রফিকুল ইসলাম সবুজ
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২৬, ১২:১১ পিএম 
প্রতীকী ছবি
সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের পর ১৪ অথবা ১৫ ফেব্রুয়ারি নতুন এমপিদের শপথ এবং নতুন মন্ত্রীসভা গঠন হওয়ার কথা। অথচ ভোটের মাত্র তিন সপ্তাহ বাকি থাকলেও প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন কোথায় হবে তা এখনও ঠিক করা হয়নি। গণভবনকে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ করার কারণে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন কোথায় হবে তা ঠিক করতে একটি কমিটি গঠন করা হলেও এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি অন্তর্বর্তী সরকার। সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রধানমন্ত্রী কোথায় থাকবেন ভোটের পর নির্বাচিত সরকারই সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে। অন্তর্বর্তী সরকার এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চাইছে না। তবে নতুন সরকারের মন্ত্রীদের জন্য ৭১টি বাংলোবাড়ি ও ফ্ল্যাট এরই মধ্যে নির্ধারণ করেছে গৃহায়ন ও গণপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের সরকারি আবাসন পরিদফতর। সেগুলো শুধু মন্ত্রীদের জন্য নির্দিষ্টকরণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর সেদিন বিক্ষুব্ধ জনতা প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। এর এক মাস পর গত বছরের ৫ সেপ্টেম্বর উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে গণভবনকে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ করার সিদ্ধান্ত হয়। পিলখানা হত্যা, গুম-খুন-আয়নাঘর, ভোট ডাকাতিসহ ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের শাসনামলের বিভিন্ন ঘটনা ঐতিহাসিক তথ্য হিসেবে এই জাদুঘরে উপস্থাপন করা হয়েছে। ভোটের আগেই জাদুঘর চালু করা হবে। ফলে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নতুন করে বাসভবন কোথায় হবে তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

গত ৭ জুলাই নতুন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন নির্ধারণের বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করা হয়। স্থাপত্য অধিদফতর, সংসদ সচিবালয় এবং এসএসএফের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই কমিটিতে রয়েছেন। ওই কমিটি কয়েক দফা বৈঠক করেও কোনো সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। 
আরও পড়ুন

প্রথমে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় অবস্থিত স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বাসভবন একীভূত করে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন বানানোর প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হলেও নিরাপত্তাসহ নানা সমস্যা সামনে আসায় এই প্রস্তাবটি বাতিল করা হয়। এ ছাড়া রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা এবং এখনো হেয়ার রোডের ২৪ ও ২৫ নম্বর বাংলোবাড়িকে সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন হিসেবে রূপান্তরের বিষয়টিও আলোচনায় ছিল। তবে যমুনা ঢাকা শহরের মধ্যবর্তী জায়গায় এবং হেয়ার রোড থেকে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দূরত্বও অনেক। এখান থেকে প্রধানমন্ত্রীর যাওয়া-আসায় যানজট তীব্র আকার ধারণ করতে পারে বলে মতামত আসায় এই প্রস্তাবটিও বাদ দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এলাকাসহ একাধিক বিকল্প মাথায় রেখে নতুন বাসভবনের সন্ধান শুরু করা হলেও সুবিধাজনক কোনো বাড়ির সন্ধান না পাওয়ায় অন্তর্বর্তী সরকার এখনও পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টরা জানান এমন প্রেক্ষাপটে দেশের নতুন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন কোথায় হবেÑ সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের ওপর ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বর্তমান সরকার।

গণপূর্ত অধিদফতরের একজন প্রকৌশলী জানান, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন হিসেবে জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বাসভবন দুটি একীভূত করার পাশাপাশি একটি দুই স্তরবিশিষ্ট করিডোর নির্মাণ এবং পার্শ্ববর্তী এ-১ ও এ-২ বাসা দুটিও পরবর্তী প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করারও পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু সে ক্ষেত্রে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের জন্য সংসদ ভবন এলাকায় নতুন বাসভবনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেবে। তা ছাড়া সংসদ অধিবেশনের সময় সংসদ সদস্যদের নির্বাচনী এলাকার লোকজন সংসদ ভবন এলাকায় আসেন। এমপি এবং সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের পরিবার, আত্মীয়স্বজনরাও এখানে বাস করেন। ফলে নিরাপত্তা সংকটের বিষয়টি সামনে আসায় কমিটি জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন নির্মাণের উদ্যোগ থেকে শেষ পর্যন্ত সরে আসে। গণপূর্ত অধিদফতরের একজন কর্মকর্তা জানান, ভোটের পর নতুন প্রধানমন্ত্রী বর্তমান প্রধান উপদেষ্টা যেখানে থাকছেন সেই রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় উঠতে পারেন। পরে নতুন সরকারই ঠিক করবে স্থায়ী বাসভবন কোথায় নির্মাণ করা হবে।

এ বিষয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি সময়ের আলোকে বলেন, নতুন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি। এর বাইরে তিনি আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। 

তবে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না হলেও রাজধানীর ঢাকার বেইলি রোড, মিন্টো রোড, হেয়ার রোড ও গুলশান এলাকার ৭১টি বাংলোবাড়ি ও ফ্ল্যাট নির্দিষ্ট করে এয়ারমার্ক করার উদ্যোগ নিয়েছে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নির্বাচন কমিশনার, দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার, বিচারপতিসহ সাংবিধানিক পদে থাকা অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির জন্য আলাদা বাসা বরাদ্দ থাকার পরও সেখানে না থেকে তারা মন্ত্রিপাড়ায় থাকছেন। এতে বাংলোবাড়ি ও বাসা ব্যবহারে নির্দিষ্টকরণের নীতিমালার ব্যত্যয় ঘটছে। এ কারণে এই বাসাগুলো শুধু মন্ত্রীদের জন্য নির্দিষ্টকরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আবাসন পরিদফতরের কর্মকর্তারা জানান, বেইলি রোড, মিন্টো রোড ও হেয়ার রোড এলাকায় ৪১টি বাংলোবাড়ি ও বাসাকে মন্ত্রীদের জন্য নির্দিষ্ট করে ২০১৩ সালে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল। গত বছরের ২২ অক্টোবর সেই প্রজ্ঞাপন বাতিল করে দেয় গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। নতুন করে মন্ত্রীদের জন্য বাড়ি নির্দিষ্ট করে দিতে গত ২ নভেম্বর সরকারি আবাসন পরিদফতরের পরিচালক মো. আসাদুজ্জামানকে আহ্বায়ক করে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটি ইতিমধ্যে তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। প্রতিবেদনে পুরোনো ৪১টির সঙ্গে নতুন করে ৩০টি বাসা যুক্ত করা হয়। নতুন ৩০টি বাসার মধ্যে বেইলি রোডে রয়েছে ১৯টি, গুলশানে ৫টি, ধানমন্ডিতে ৫টি, মিন্টো রোডে ১টি।

এএডি/


Loading...
Loading...
- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: