নাটোরের সিংড়ায় বিএনপির কর্মী রেজাউল করিমকে (৫৩) গলাকেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। ঘটনার জেরে নিহতের স্বজনরা বিক্ষুব্ধ হয়ে আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল ওহাবের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। আগুনে পুড়ে মারা যান ওহাবের মা ছাবিহা বেগম (৭৫)।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার কলম ইউনিয়নের কুমারপাড়ায় নিজ বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে। নিহত রেজাউল বিএনপির অঙ্গ সংগঠন জিয়া পরিষদ সদস্য ও সিংড়ার বিল হালতি ত্রিমোহনী ডিগ্রি কলেজের ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক।
এদিকে হত্যার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় সিংড়া বাসস্ট্যান্ডে সিংড়া উপজেলা ও পৌর বিএনপির পক্ষ থেকে এক প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, গতকাল বুধবার রাত ১১টার দিকে কলম ইউনিয়নের কুমারপাড়া (পালপাড়া) এলাকায় কলেজ শিক্ষককে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। রাত ১২টার দিকে হত্যার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল ওহাবের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে স্বজনরা। এ সময় ঘরের ভেতর আটকা পড়ে ছাবিহা বেগম দগ্ধ হন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। দুই ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় নিহত রেজাউল করিমের ভাতিজা বিএনপি নেতা হায়দার রশিদ রিপন জানান, রাতে বাড়ির সামনে চিৎকারের শব্দ শুনে তারা এগিয়ে আসেন। এসময় রাস্তার পাশে গলা কাটা অবস্থায় চাচা রেজাউল করিমকে পড়ে থাকতে দেখেন। এর কিছুক্ষণ পরই তাঁর মৃত্যু হয়। পরে কে বা কারা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওহাবের বাড়ি অগ্নিসংযোগ করে।
এ বিষয়ে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতে খায়ের আলম জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। কলেজ শিক্ষক হত্যার প্রকৃত কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। পাশাপাশি বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনাটিও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। উভয় ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
সময়ের আলো/আআ