নদীতে মিলল মুঘল আমলের তরবারি, প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরে হস্তান্তর

মাগুরা (শালিখা) প্রতিনিধি

সারাদেশ

মাগুরার শালিখা উপজেলার চিত্রা নদী খননের সময় উদ্ধার হওয়া মুঘল আমলের ঐতিহাসিক তরবারি সংরক্ষণের জন্য প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের কাছে হস্তান্তর করা

2026-01-22T14:09:28+00:00
2026-01-22T14:09:28+00:00
 
  সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬,
৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
নদীতে মিলল মুঘল আমলের তরবারি, প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরে হস্তান্তর
মাগুরা (শালিখা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২৬, ২:০৯ পিএম 
চিত্রা নদী খননকালে কাদামাটিতে ঢাকা অবস্থায় এই মূল্যবান প্রত্ননিদর্শনটি উদ্ধার করা হয়। ছবি : সময়ের আলো
মাগুরার শালিখা উপজেলার চিত্রা নদী খননের সময় উদ্ধার হওয়া মুঘল আমলের ঐতিহাসিক তরবারি সংরক্ষণের জন্য প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। 

বুধবার (২১ জানুয়ারি) খুলনা থেকে আগত প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের ফিল্ড অফিসার মোসা. আইরীন পারভীন, রবীন্দ্র স্মৃতি জাদুঘরের সহকারী কাস্টোডিয়ান শাহিন মিয়া এবং আলোকচিত্র মুদ্রাকর মো. রায়হানের উপস্থিতিতে শালিখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বনি আমিন আনুষ্ঠানিকভাবে তরবারিটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেন। 

এর আগে রোববার শালিখা উপজেলার সীমাখালী এলাকায় চিত্রা নদী খননকালে কাদামাটিতে ঢাকা অবস্থায় এই মূল্যবান প্রত্ননিদর্শনটি উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘদিন নদীর তলদেশে চাপা পড়ে থাকায় তরবারিটি মাটিতে আচ্ছাদিত ছিল।

নদী খননকাজে নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মনির সরদার জানান, এক্সকেভেটরের সঙ্গে তরবারিটি উঠে আসার বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে ইউএনওকে জানানো হয়। পরে ইউএনও নিজে ঘটনাস্থলে গিয়ে তরবারিটি উদ্ধার করে নিরাপদ হেফাজতে নেন।

স্থানীয়রা বলছেন, সম্ভবত তরবারিটি মুঘল আমলের। সম্রাট জাহাঙ্গীরের রাজত্বকালে রাজা সীতারাম রায় মুঘলদের বশ্যতা অস্বীকার করেন। তাকে শায়েস্তা করার জন্য মুঘলবাহিনী নলডাঙ্গা থেকে সাতটি যুদ্ধ জাহাজ নিয়ে চিত্রা নদী দিয়ে মাগুরা মোহাম্মদপুর গিয়েছিল। চিত্রা নদী দিয়ে যাওয়ার পথে রাজা সীতারামের সৈন্যরা গুপ্তভাবে নওজান গুলোতে বাধা প্রদান করেন। হয়তো কোনো সৈন্যের কাছ থেকে তরবারিটি পানিতে পড়ে যেতে পারে। এক্ষেত্রে অনুমান করা যায় সীমাখালীতে মুঘল বাহিনী রাজা সীতারাম রায়ের সৈন্যদের দ্বারা বাধাগ্রস্ত হন। এই তরবারিটি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে বোঝা যাবে, এটি মধ্যযুগে ব্যবহারিত সৈন্যদের হাতিয়ার। 

ইউএনও মো. বনি আমিন বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে তরবারিটি প্রাচীন, সম্ভবত মুঘল আমলের। এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর এর প্রকৃত সময়কাল ও ঐতিহাসিক মূল্য নির্ধারণ করা হবে।


এদিকে এলাকার সচেতন মহলের মতে, চিত্রা নদীসহ শালিখা উপজেলার বিভিন্ন নদী ও জলাশয়ের তলদেশে আরও বহু অজানা ইতিহাস লুকিয়ে থাকতে পারে। তারা মনে করেন, নিয়মিত নদী খননের পাশাপাশি প্রত্নতাত্ত্বিক তদারকি ও বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করা গেলে আরও গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন উদ্ধার সম্ভব।

তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, চিত্রা নদী থেকে পাওয়া এই তরবারিটি শুধু একটি প্রাচীন অস্ত্র নয়, এটি শালিখা অঞ্চলের বিস্মৃত ইতিহাস, ক্ষমতার কেন্দ্র এবং অতীতের সংগ্রামের এক গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ঐতিহ্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।  

শালিখা থানা অফিসার ইনচার্জ ওসি মোঃ আবু সাইদ বলেন, নদী খনন কালে যে তরবারিটি পাওয়া গিয়েছে সেটি প্রত্নতন্ত্র বিভাগকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই তরবারিটি অতি পুরাতন, যা মুঘল আমলের সৈন্যরা হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।  

/ইউএমএইচ




  বিষয়:   চিত্রা নদী  মুঘল আমল  তরবারি 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: