শুরু হয়ে গেছে বহুল প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার কার্যক্রম। বিগত যেকোনো সময়ের তুলনায় বহুমুখী নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। মাত্র দেড় বছরেরও কম সময়ের মধ্যে ভঙ্গুর অবস্থা থেকে বহুমুখী চ্যালেঞ্জের নির্বাচন নির্বিঘ্ন করতে মাঠে নেমে পড়েছে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর অন্য সংস্থাগুলোও।
এবারই প্রথম কোনো জাতীয় নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নেওয়া হচ্ছে বেশ কিছু ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ। ড্রোন, বিপুল পরিমাণ বডিক্যাম ও সিসি ক্যামেরা, ডগ স্কোয়াড, হেলিকপ্টার, বিশেষ নির্বাচনি প্রশিক্ষণ, নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ, বিপুলসংখ্যক আনসার, ভিডিপি সদস্যের পাশাপাশি বিএনসিসি, স্কাউট এমনকি গার্লস গাইডের সদস্যদেরও নিয়োজিত করা হবে নির্বাচনি নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার কার্যক্রমে। বিজিবি, কোস্ট গার্ড, আর্মড পুলিশ এবং আনসার ব্যাটালিয়ন মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর ব্যাপক জনরোষের মধ্যে পড়েন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। পুড়িয়ে দেওয়া হয় দেশের শত শত থানা-ফাঁড়ি। লুট করা হয় ৫ সহস্রাধিক অস্ত্র। যার মধ্যে ১ হাজার ৩৬০টি অস্ত্র এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এ বিপুলসংখ্যক অস্ত্র বাইরে রেখেই শুরু হয়ে গেছে নির্বাচনি প্রচার কার্যক্রম।
লুণ্ঠিত অস্ত্রের বিষয়ে গত ১৯ জানুয়ারি রাজশাহীতে এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেছেন, থানা থেকে লুট হওয়া কিছু অস্ত্র যেগুলো এখনও উদ্ধার করা যায়নি, সেগুলো হয়তো খাল-বিল-নদীতে ফেলে দিয়েছে। এ জন্য উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে পুলিশের লুট হওয়া এই অস্ত্র নির্বাচনকালে দুর্বৃত্তরা ব্যবহার করতে পারবে না বলে প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
৫ আগস্টের পর পালিয়ে যান অনেক শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তা। এতে ভেঙে পড়ে পুলিশের মনোবল। এই অবস্থা থেকে পুলিশকে ফেরাতে নেওয়া হয় নানমুখী উদ্যোগ। সে সঙ্গে জাতীয় নির্বাচনের জন্য নেওয়া হয় নানা নিরাপত্তা পরিকল্পনা। তবে এরই মধ্যে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন পর্যায়ে নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলার চ্যালেঞ্জের বিষয়ে উদ্বেগ জানানো হয়। তবে নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নির্বিঘ্ন করার আত্মপ্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে সর্বোচ্চ মহল থেকে। এমন পরিস্থিতিতে সব সংশয় এবং পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ের আত্মবিশ্বাসকে সঙ্গে নিয়ে দেশব্যাপী শুরু হয়ে গেছে নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার কার্যক্রম।
এবারের নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অন্যতম চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে মব, অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার এবং সামাজিকমাধ্যম ব্যবহার করে গুজব প্রচারকে। মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে রাজনৈতিক ও নির্বাচনি সহিংসতায় ২০২৫ সালে ১৩৩ জন নিহত এবং মব সহিংসতা ও গণপিটুনির ঘটনায় ১৬৮ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে নির্বাচনি প্রচার কার্যক্রমের প্রথম দিনেই লক্ষ্মীপুরে ব্যানার টানানোকে কেন্দ্র করে বিএনপি-জামায়াতের অনুসারীরা মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা : বৃহস্পতিবার সিআইডি সদর দফতরে ‘ত্রৈমাসিক অপরাধ পর্যালোচনা ও মতবিনিময় সভায়’ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.) জানিয়েছেন, নির্বাচনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এমন থাকবে যে ব্যালট বাক্স ছিনতাই করা সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, নির্বাচনি কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ড্রোন, ডগ স্কোয়াড, বিএনসিসি ও স্কাউটসহ গার্লস গাইডের সদস্যরাও থাকবেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা নির্বাচনের পূর্বে অনলাইনে নানা গুজব ও মিথ্যাচার প্রতিরোধে সিআইডিকে কাজ করার নির্দেশনা দেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, অতীতের জাতীয় নির্বাচনগুলোতে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সাধারণত মাত্র একজন অস্ত্রধারী পুলিশ সদস্য নিয়োজিত থাকতেন। তবে এবারই প্রথমবারের মতো নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন এই ব্যবস্থার আওতায় প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে কমপক্ষে পাঁচজন অস্ত্রধারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবেন। এর মধ্যে দুই অস্ত্রধারী পুলিশ সদস্য এবং তিন অস্ত্রধারী আনসার সদস্য অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত ভোটকেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে। এসব কেন্দ্রে তিনজন অস্ত্রধারী পুলিশ সদস্যসহ মোট ছয়জন অস্ত্রধারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে অস্ত্রবিহীন (লাঠিসহ) ১০ জন আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবেন। এই দলটির মধ্যে ছয়জন পুরুষ আনসার সদস্য এবং চারজন নারী আনসার সদস্য অন্তর্ভুক্ত থাকবেন বলে জানান উপদেষ্টা।
একই অনুষ্ঠানে সিআইডিপ্রধান অতিরিক্ত আইজি মো. ছিবগাত উল্লাহ জানান, সংসদ নির্বাচনে সিআইডির মোট জনবলের ৯০ শতাংশ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কাজ করবে। এ ছাড়া নির্বাচন পূর্ব ও পরবর্তী সময়ে অনলাইনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ অন্যান্য প্ল্যাটফর্মগুলোতে সিআইডির সাইবার ইউনিট সর্বোচ্চ দৃষ্টি রাখার পাশাপাশি নির্বাচন সুষ্ঠু ও সফল করতে সর্বোচ্চ সহযোগিতা প্রদান করবে বলে জানান তিনি।
দুটি পর্যায়ে বিজিবির নিরাপত্তা পরিকল্পনা : নির্বাচন ও গণভোটে কঠোর নিরাপত্তায় সারা দেশে ৩৭ হাজারেরও বেশি বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হবে। বিজিবি সূত্রে জানা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) দেশব্যাপী বিস্তৃত প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। এ জন্য একটি সমন্বিত ও সুসংগঠিত মিডিয়া কাভারেজ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পরিকল্পনাটি দুটি পর্যায়ে পরিচালিত হবে। প্রথম পর্যায় ২৫ থেকে ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত মোতায়েন-পূর্ব সময়কাল এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে ১ থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত নির্বাচনকালীন সময়কাল। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে রিজিয়ন, প্রতিষ্ঠান, সেক্টর ও ব্যাটালিয়নগুলোকে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নির্বাচনি জেলাভিত্তিক সাংবাদিকদের সঙ্গে সমন্বয়ের জন্য মিডিয়া গ্রুপ গঠন এবং নিয়মিত মিডিয়া ব্রিফিংয়ের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দায়িত্বপূর্ণ নির্বাচনি এলাকার জেলা, উপজেলা ও সংসদীয় আসনভিত্তিক ইউনিটগুলোর যোগাযোগ নম্বর প্রচার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে জনসচেতনতামূলক ফটোকার্ড, পোস্টার, লিফলেট ও ভিডিও কনটেন্ট প্রচার এবং মাঠপর্যায়ে বিজিবির কর্মকাণ্ড সম্পর্কে স্থানীয় জনগণের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দেশের ৪ হাজার ৪২৭ কিলোমিটার সীমান্ত সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রেখেই সারা দেশে ৩৭ হাজারেরও অধিক বিজিবি সদস্য মোতায়েন থাকবেন। দেশের ৪৯৫টি উপজেলার মধ্যে ৪৮৯টি উপজেলায় বিজিবি নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করবে। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী ৬১টি উপজেলায় বিজিবি এককভাবে নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করবে। ঝুঁকি বিবেচনায় সারা দেশের ৩০০ সংসদীয় আসনেই বিজিবি মোবাইল ও স্ট্যাটিক ফোর্স হিসেবে দায়িত্বে থাকবে। উপজেলা ভেদে ২ থেকে ৪ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন থাকার কথা রয়েছে।
এ ছাড়া নির্বাচন ও গণভোটে দায়িত্ব পালনের জন্য বিজিবি সদস্যদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষণ নথি অনুযায়ী, নির্বাচনি দায়িত্বে নিয়োজিত সদস্যদের জন্য বিশেষ ব্রিফিং, আইনানুগ দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা, আচরণবিধি, রুলস অব এনগেজমেন্ট এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় রিফ্রেসার ট্রেইনিং অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এসব প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ভোটকেন্দ্র, ব্যালট, নির্বাচনি কর্মকর্তা ও ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি যেকোনো উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সংযত, পেশাদার ও আইনসম্মতভাবে দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচনকালীন যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবির র্যাপিড অ্যাকশন টিম (র্যাট) এবং হেলিকপ্টারসহ কুইক রেসপন্স ফোর্স (কিউআরএফ) প্রস্তুত থাকবে বলে সূত্র জানায়, যারা প্রয়োজন হলে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে সক্ষম হবে। পাশাপাশি নিরাপত্তাব্যবস্থাকে আরও জোরদার করতে বিশেষায়িত ক-৯ ডগ স্কোয়াড ইউনিটও মোতায়েন থাকবে।
এই সমন্বিত নিরাপত্তা প্রস্তুতি, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ও মিডিয়া কাভারেজ পরিকল্পনার মাধ্যমে জনগণের আস্থা বৃদ্ধি পাবে এবং নির্বাচন ও গণভোটে ভোটকেন্দ্রে নিরাপদ উপস্থিতি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এর ফলে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের পরিবেশ আরও সুদৃঢ় হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বডিওর্ন ক্যামেরা : স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ১২ ফেব্রুয়ারি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের নিরাপত্তা জোরদার করতে নজরদারির জন্য ২৫ হাজার বডিওর্ন ক্যামেরা এবং ৪১৮টি ড্রোন থাকবে। পুলিশ সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে বডি ক্যামেরা ব্যবহার করবেন। এ ছাড়াও ৪২ হাজার ৭৬১টি ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের কাজ চলছে।
ড্রোন : নির্বাচনের সময় আকাশপথে নজরদারির জন্য বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মোট ৪১৮টি ড্রোন ব্যবহার করা হবে। ৪১৮টি ড্রোনের মধ্যে সেনাবাহিনী ২০০টি, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ১০০টি, বাংলাদেশ পুলিশ ৫০টি, কোস্ট গার্ড ২০টি এবং নৌবাহিনী, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) এবং বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী ১৬টি করে ব্যবহার করবে।
ডগ স্কোয়াড/হেলিকপ্টার : নির্বাচনে বিভিন্ন বাহিনী ডগ স্কোয়াডও মোতায়েন করবে বলে জানা যায়। বাংলাদেশ বিমানবাহিনী হেলিকপ্টার ব্যবহার করে ব্যালট, নির্বাচনি উপকরণ এবং কর্মকর্তাদের দূরবর্তী ভোটকেন্দ্রে পরিবহন করবে।
‘নির্বাচন সুরক্ষা ২০২৬’ অ্যাপ
নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে সমন্বয়সাধনের জন্য তৈরি করা হয়েছে বিশেষ অ্যাপ। নির্বাচনের সময় কেন্দ্রের পরিস্থিতি জানাতে ব্যবহার করা হবে এই ‘নির্বাচন সুরক্ষা ২০২৬’ অ্যাপটি।
জাতীয় টেলিযোগাযোগ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র (এনটিএমসি) অ্যাপটি তৈরি করেছে। অ্যাপটি আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। এই অ্যাপ আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, রিটার্নিং এবং সহকারী রিটার্নিং অফিসার এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে, যার ফলে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত যেকোনো ঘটনার তাৎক্ষণিক প্রতিবেদন তৈরি এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানো সম্ভব হবে। এই অ্যাপ ব্যবহার করবেন মোট ১ লাখ ২৮ হাজার ২৮৩ জন আনসার সদস্য। প্রতিটি কেন্দ্রে তিনজন করে ব্যবহারকারী থাকবেন।
কেন্দ্রে উদ্ভূত যেকোনো পরিস্থিতির তথ্য অ্যাপে দিলে সংশ্লিষ্ট মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নিতে পারবে। গত ১৬ জানুয়ারি থেকে অ্যাপটির কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বলেন, অতীতের অভিজ্ঞতায় বলা যায়, নির্বাচনি প্রচারের সময় কিছু দ্বন্দ্ব-সংঘাত হতে পারে। তবে তা যেন এমন পর্যায়ে না যায়, যাতে নির্বাচন ক্ষতিগ্রস্ত হয়, নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করে। এ ছাড়া মব, অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহারসহ আরও কিছু চ্যালেঞ্জ তো অবশ্যই আছে। তবে এসব চ্যলেঞ্জ নিয়ন্ত্রণ করার চ্যালেঞ্জটাই নিতে হবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে।
তিনি বলেন, নির্বাচনি প্রচারে আচরণবিধি অমান্য করলে প্রচলিত আইনি ব্যবস্থা প্রয়োগে পক্ষপাতহীন থাকলে সবার মধ্যে আস্থা অর্জিত হবে, যা আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং নির্বাচনি পরিবেশ নির্বিঘ্ন করতে সহজতর হবে।
সময়ের আলো/এসকে/