নারীকণ্ঠে
ফেসবুকে বয়স্ক ব্যক্তিদের পাঠাতেন ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট। কখনো ডাক্তার, কখনো
অধ্যক্ষ, কখনো বা প্রধানমন্ত্রীর পিএস পরিচয়ে গড়তেন সম্পর্ক। এক পর্যায়ে
পারিবারিক নানা সমস্যার কথা বলে হাতিয়ে নিতেন অর্থ। এভাবে হাতিয়ে নেওয়া
অর্থে রাজধানীতে ক্রয় করেন ফ্ল্যাট। কিনেন জমিও। তবে শেষ রক্ষা হয়নি।
প্রতারণার
মাধ্যমে অর্জিত মনিরুল ইসলাম নামের ওই ব্যক্তির প্রায় কোটি টাকার সম্পত্তি
পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রের
অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সিআইডির বিশেষ পুলিশ
সুপার জসীম উদ্দিন খান এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, মনিরুল
ইসলাম ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে বিভিন্ন পেশার বয়স্ক ব্যক্তিদের
ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠাতেন। তিনি কখনো ডাক্তার, কখনো কলেজের অধ্যক্ষ, আবার
কখনো প্রধানমন্ত্রীর পিএস পরিচয়ে ভিকটিমদের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করতেন।
ফোনে
নারী কণ্ঠ ব্যবহার করে বিশ্বাস অর্জনের এক পর্যায়ে বাবা-মায়ের অসুস্থতার
কথা বলে সহানুভূতি আদায় করে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে ধার হিসেবে অর্থ গ্রহণ
করতেন। অর্থ গ্রহণের পর মোবাইল ফোন বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যেতেন।
প্রতারক
নিজ নামের ব্যাংক হিসাবের পাশাপাশি বিভিন্ন অপরিচিত ব্যক্তির জাতীয়
পরিচয়পত্র ব্যবহার করে বিকাশ অ্যাকাউন্ট খুলে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ
করেন। সিআইডির তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, আত্মসাৎকৃত অর্থ দিয়ে তিনি
ঢাকা জেলার ডেমরা থানার আমুলিয়া মডেল টাউন এলাকায় ৭.৫ শতাংশ জমি এবং
দারুসসালাম থানার বড়সায়েক মৌজায় ২১৫০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট ক্রয় করেন।
আদালতের আদেশে ওই সম্পত্তিসহ সর্বমোট ৭৬ লাখ ৩২ হাজার টাকার স্থাবর
সম্পত্তি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
সময়ের আলো/এসকে/