প্রতীক্ষার অবসান
হতে চলেছে। দীর্ঘ এক মাসের রুদ্ধশ্বাস লড়াই, চার-ছক্কার উন্মাদনা আর
গ্যালারিভর্তি দর্শকের গগনবিদারী চিৎকারের পর অবশেষে পর্দা নামছে বাংলাদেশ
প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল)। আজ মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে
টুর্নামেন্টের শিরোপা নির্ধারণী মেগা ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে দুই শক্তিশালী
দল চট্টগ্রাম রয়্যালস ও রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। কেবল একটি ট্রফি নয়, মাঠের
লড়াইয়ে জড়িয়ে আছে দুই অঞ্চলের মর্যাদা। গ্রুপপর্ব থেকে প্লে-অফ সব বাধা
পেরিয়ে আসা এই দুদলের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইকে ঘিরে এখন পুরো দেশ ক্রিকেট জ্বরে
কাঁপছে।
পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে চট্টগ্রাম রয়্যালস ছিল ধারাবাহিকতার
এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। লিগপর্বের শুরু থেকেই তারা পয়েন্ট টেবিলের
শীর্ষস্থানে নিজেদের দখল বজায় রেখেছিল। দলটির মূল শক্তি তাদের টপঅর্ডার
ব্যাটিং। ওপেনারদের বিধ্বংসী শুরু এবং মাঝের ওভারগুলোতে অভিজ্ঞ ব্যাটারদের
দায়িত্বশীল ব্যাটিং চট্টগ্রামকে বারবার বড় সংগ্রহ এনে দিয়েছে। বিশেষ করে
তাদের বিদেশি রিক্রুটরা চাপের মুখে যেভাবে জ্বলে উঠেছেন তা যেকোনো
প্রতিপক্ষের জন্য আতঙ্কের কারণ। নাঈম শেখ, হাসান নাওয়াজের দিকেই তাকিয়ে
থাকবে দল। বোলিং বিভাগেও তারা বেশ সুসংহত, পেস ইউনিটের গতির সঙ্গে
স্পিনারদের ঘূর্ণি জাদুতে প্রতিপক্ষকে অল্প রানে আটকে দেওয়ার সামর্থ্য তারা
বারবার দেখিয়েছে। শেখ মেহেদী, শরিফুল ইসলামই চট্টগ্রামকে ভরসা জোগাবে।
অধিনায়ক শেখ মেহেদী কণ্ঠে শিরোপা জয়ের প্রত্যয়, ‘ফাইনালে যেহেতু উঠেছি,
শিরোপার স্বপ্ন কেন দেখব না? সবাই দেখবে।
তবে আগামীকালের (আজকের)
দিনটায় যারা ভালো ক্রিকেট খেলবে, যারা সব বিভাগে ভালো করবে, তারাই শিরোপা
জিতবে। আমার মনে হয় প্রত্যেক ক্রিকেটারই চায় শিরোপা জিততে। সবার ভেতরে সে
ক্ষুধা আছে। দেখা যাক কী হয় কালকে (আজকে)।’
অন্যদিকে রাজশাহীর
ওয়ারিয়র্সের ফাইনালে উঠার পথটি ছিল রোমাঞ্চে ভরপুর। অনেক চড়াই-উতরাই পার
করে এবং খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে তারা নিজেদের প্রমাণ করেছে।
রাজশাহীর প্রধান শক্তি তাদের অলরাউন্ডার নির্ভর দল। যখনই দলের টপঅর্ডার
ব্যর্থ হয়েছে, তখনই মিডল অর্ডারে দলের অভিজ্ঞ তারকারা ত্রাতা হয়ে
দাঁড়িয়েছেন। কিউই অভিজ্ঞ ব্যাটার কেন উইলিয়ামসন যোগ দেওয়ায় শক্তি আরও
বেড়েছে। বোলিং আক্রমণেও তারা বৈচিত্র্যময়, বুদ্ধিদীপ্ত নেতৃত্ব আর
নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে বড় বড় প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করেছে তারা। রিপন মণ্ডল,
বিনুরা ফার্নান্দো দিকেই তাকিয়ে থাকবে রাজশাহী। তবে অতীতে কী হয়েছে সেটা
মনে রাখতে চান না রাজশাহীর কোচ হান্নান সরকার। জানান নতুন দিনে নতুন শুরু
করে হতে চান চ্যাম্পিয়ন। তিনি বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয় নতুন দিন নতুন করে
এগোতে চাই। শুরু থেকেই আমরা একটা স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলাম। এখন
একেবারে শেষ পর্যায়ে। অন্য কোনো চিন্তার সুযোগ নেই। কে কী করেছে সেটা অতীত।
এখন একটাই লক্ষ্য, ট্রফি উঁচিয়ে ধরতে চাই।’
এদিকে আলোচনায় থাকা ২৫
হাজার ডলার খরচ করে আনা বিপিএলের ট্রফি এখনও জনসম্মুখে আনেনি বিসিবি। তবে
ফাইনাল ম্যাচ শুরুর আগে বিকাল ৪টায় হবে ট্রফি উন্মোচন। এ ছাড়া এই বিষয় ঘিরে
থাকছে বড় চমক, যা এখনই জানাতে চাচ্ছে না বিসিবি। এ ছাড়া ফাইনালে থাকছে না
কোনো অনুষ্ঠান। কেবল অনুষ্ঠিত হবে আতশবাজি এবং লেজার শো।
পরিসংখ্যানের
পাতায় চট্টগ্রাম কিছুটা এগিয়ে থাকলেও ফাইনালের ময়দানে সবাই সমান। একদিকে
চট্টগ্রামের পাওয়ার হিটিং, অন্যদিকে রাজশাহীর লড়াকু অলরাউন্ড পারফরম্যান্স;
সব মিলিয়ে দারুণ এক সমাপ্তির অপেক্ষায় বিপিএল। আজকের এই দ্বৈরথ শেষে কার
মাথায় উঠবে শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট, তা দেখতে উন্মুখ হয়ে আছে কোটি কোটি
ক্রিকেটপ্রেমী।
সময়ের আলো/এসকে/