পাকিস্তানের করাচি শহরের গুল প্লাজায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৭ জনে।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) স্থানীয় সরকারের এক মুখপাত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি এ তথ্য জানিয়েছে। গত ১৭ জানুয়ারি রাতে তিনতলা বিশিষ্ট গুল প্লাজা শপিংমলে আগুনের সূত্রপাত হয়। ঘটনার ছয় দিন পার হলেও এখনো আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ জানাতে পারেননি তদন্তকারীরা।
মুখপাত্র জানান, এ পর্যন্ত ৬৭ জনের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে আটজনের পরিচয় ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করা গেছে। এখনো যারা নিখোঁজ রয়েছেন, তাদের স্বজনরা উদ্ধার কার্যক্রমের ধীরগতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
প্রাদেশিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সুমাইয়া সাইদ বুধবার সাংবাদিকদের জানান, নিখোঁজদের শনাক্ত করতে এখন পর্যন্ত ৫০টির বেশি পরিবার ডিএনএর নমুনা জমা দিয়েছে। প্রাদেশিক সরকার নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে ১০ লাখ পাকিস্তানি রুপি (প্রায় ৩৫ হাজার মার্কিন ডলার) করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। পাশাপাশি, গুল প্লাজার প্রায় ১ হাজার ২০০ দোকানমালিককেও উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
দুর্বল অবকাঠামোর কারণে করাচির বাজার ও শিল্প এলাকায় প্রায়ই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলেও এত বড় মাত্রার আগুন তুলনামূলকভাবে বিরল। এ ঘটনায় তদন্তের জন্য একটি সরকারি কমিটি গঠন করা হয়েছে, যদিও ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, শনিবার রাতে গুল প্লাজায় আগুন লাগার পর তা নিয়ন্ত্রণে আনতে ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় লেগে যায়। নিহতদের মরদেহ বর্তমানে মর্গে সংরক্ষণ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে, তবে বিষয়টি এখনো চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত হয়নি।
শপিংমলের ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, শনিবার রাতেই আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব ছিল, কিন্তু কর্তৃপক্ষের দেরিতে সাড়া দেওয়া এবং অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে। দীর্ঘ সময় ধরে আগুন জ্বলতে থাকায় ক্ষয়ক্ষতি ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়।
এলাকাবাসীদের অভিযোগ, সদর ফায়ারস্টেশন ও অন্যান্য জরুরি সেবা সংস্থা সময়মতো ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে। রোববারের আগে আগুন নেভানোর কার্যক্রম পর্যাপ্ত ছিল না বলেও তারা দাবি করেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত দোকানিরা জানান, যদি দমকল বাহিনী শুরু থেকেই পূর্ণ সক্ষমতা নিয়ে কাজ করত, তাহলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক কম হতে পারত। এক দোকানির ভাষ্য অনুযায়ী, গুল প্লাজা সদর ফায়ারস্টেশন থেকে মাত্র কয়েক মিনিটের দূরত্বে অবস্থিত হলেও দমকলকর্মীদের পৌঁছাতে অস্বাভাবিকভাবে দীর্ঘ সময় লেগেছে।
/ইউএমএইচ