প্রায় ১৪ বছর পর পুনরায় চালু হওয়ার মাত্র একদিনের মাথায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের কার্যক্রম স্থগিত করেছে জাপান। নিগাতা প্রদেশে অবস্থিত কাশিওয়াজাকি-কারিওয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের অপারেটর টোকিও ইলেকট্রিক পাওয়ার কোম্পানি (টেপকো) জানিয়েছে, স্টার্ট-আপ প্রক্রিয়ার সময়ই একটি অ্যালার্ম হঠাৎ বেজে ওঠে, আর এ বিষয় খতিয়ে দেখতে কেন্দ্রটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সমস্যাটি ঠিক করতে কত সময় লাগবে, তা এখনো নিশ্চিত নয় বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
২০১১ সালের ফুকুশিমা পারমাণবিক বিপর্যয়ের পর থেকে কাশিওয়াজাকি-কারিওয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বন্ধ ছিল। পারমাণবিক নিয়ন্ত্রকের চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার পর বুধবার (২১ জানুয়ারি) কেন্দ্রটির একটি চুল্লি পুনরায় চালু করা হয়। তবে বৃহস্পতিবার টেপকো জানায়, চুল্লি চালু করার প্রক্রিয়ার সময় মনিটরিং সিস্টেম থেকে একটি অ্যালার্ম সংকেত পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে কার্যক্রম স্থগিত করা হয়।
সাইট সুপারিনটেনডেন্ট তাকিউকি ইনাগাকি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আমরা আশা করছি না যে সমস্যাটি এক বা দুই দিনের মধ্যেই সমাধান হবে। এটি ঠিক করতে কত সময় লাগবে, তা এই মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না। তিনি আরও জানান, বর্তমানে কী কারণে এই ত্রুটি দেখা দিয়েছে তা শনাক্ত করতেই তারা পুরোপুরি মনোযোগ দিচ্ছেন।
টেপকোর মুখপাত্র তাকাশি কোবায়াশি বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, সমস্যাটি সমাধানে সময় লাগবে বুঝতে পেরে পরিকল্পিতভাবে চুল্লির কন্ট্রোল রড পুনরায় প্রবেশ করানো হয়েছে। তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, চুল্লিটি স্থিতিশীল রয়েছে এবং বাইরে কোনো ধরনের তেজস্ক্রিয় প্রভাব পড়েনি। কন্ট্রোল রডের মাধ্যমে চুল্লির ভেতরের পারমাণবিক শৃঙ্খল বিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করা হয়—রড বের করলে বিক্রিয়া ত্বরান্বিত হয় এবং ভেতরে প্রবেশ করালে ধীর বা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা যায়।
কাশিওয়াজাকি-কারিওয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রটি সম্ভাব্য উৎপাদন ক্ষমতার দিক থেকে বিশ্বের বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। তবে এর সাতটি চুল্লির মধ্যে এবার মাত্র একটি চুল্লি পুনরায় চালু করা হয়েছিল। ২০১১ সালে ভয়াবহ ভূমিকম্প ও সুনামির পর জাপান পারমাণবিক শক্তি ব্যবহার বন্ধ করে দিলে কেন্দ্রটি অফলাইনে চলে যায়।
জাপান বর্তমানে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে, ২০৫০ সালের মধ্যে কার্বন নিরপেক্ষতা অর্জন করতে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে পারমাণবিক শক্তিকে পুনরুজ্জীবিত করার পরিকল্পনা করছে। কাশিওয়াজাকি-কারিওয়া হলো ২০১১ সালের পর টেপকোর পরিচালনাধীন প্রথম কোনো কেন্দ্র যা পুনরায় চালু করা হয়। টেপকোই ফুকুশিমা দাইচি পারমাণবিক কেন্দ্র পরিচালনা করে, যা বর্তমানে ধাপে ধাপে পরিত্যক্ত করা হচ্ছে।
নিগাতা প্রদেশে এই বিদ্যুৎকেন্দ্র পুনরায় চালু করা নিয়ে জনমত তীব্রভাবে বিভক্ত। গত সেপ্টেম্বরে পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৬০ শতাংশ বাসিন্দা কেন্দ্রটি চালুর বিরোধিতা করছেন, আর ৩৭ শতাংশ এর পক্ষে রয়েছেন। চলতি মাসের শুরুতে পুনরায় চালুর বিরোধিতা করা সাতটি সংগঠন প্রায় ৪০ হাজার মানুষের স্বাক্ষরসংবলিত একটি পিটিশন টেপকো ও জাপানের পারমাণবিক নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিয়েছে। পিটিশনে বলা হয়, বিদ্যুৎকেন্দ্রটি একটি সক্রিয় ভূমিকম্প ফল্ট জোনে অবস্থিত এবং ২০০৭ সালে এটি একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের কবলে পড়েছিল।
/ইউএমএইচ