হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনুমোদিত ছয়টি মিডওয়াইফ পদ থাকলেও বর্তমানে কেউ কর্মরত নেই। তবে চিকিৎসক ও নার্সদের সহায়তায় প্রতিনিয়ত ডেলিভারির মতো ঝুঁকিপূর্ণ সেবা দিয়ে যাচ্ছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সরকারি হাসপাতালে ডেলিভারি সেবা জোরদার হওয়ায় কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরেছে সুফলভোগীরা।
এদিকে, হাসপাতালের ভেতরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও পরিবেশ তুলনামূলক ভালো হলেও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর তীব্র সংকটের কারণে রোগীদের অনেক সময় নোংরা ও অস্বস্তিকর পরিবেশে বাধ্য হয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে বলেও জানান কর্তৃপক্ষ।
রামগতি উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. কামনাশিষ মজুমদার জানান, নানাবিধ সংকট ও জনবল স্বল্পতা সত্ত্বেও ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট এক হাজার ৮১৯ জন প্রসূতি মাকে নরমাল ডেলিভারি সেবা দেওয়া হয়েছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে প্রসূতি ও নবজাতকের মৃত্যুহার আরও কমবে এবং ‘নিরাপদ মাতৃত্ব’ বাস্তবায়নে এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স অগ্রণী ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে হাসপাতালটির শয্যা সংখ্যা ৩১ হলেও নিয়মিত ৭০ থেকে ৮০ জন রোগী ভর্তি থাকেন। এতে বেড ও চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতি দেখা দেয়। ফলে রোগীরা যেমন দুর্ভোগে পড়েন, তেমনি চিকিৎসক ও নার্সদেরও অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হচ্ছে।
জনবল সংকটের চিত্র তুলে ধরে তিনি জানান, হাসপাতালে ১২টি মেডিকেল অফিসার পদের মধ্যে ৬টি শূন্য, ৯টি জুনিয়র কনসালটেন্ট পদ শূন্য রয়েছে। ৩০ জন নার্সের বিপরীতে কর্মরত আছেন ২৭ জন। ৬টি মিডওয়াইফ পদের একটিও পূরণ হয়নি। পাশাপাশি অনুমোদিত ৫ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কেউই বর্তমানে কর্মরত নেই।
হাসপাতালটিকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা, আবাসন সুবিধা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দেওয়া হলে এই সংকট অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে মনে করেন এই কর্মকর্তা।
এফআর