তানজিদের সেঞ্চুরিতে শিরোপা রাজশাহীর

মেহেদী হাসান

দীর্ঘ চার বছর ধরে যে স্বপ্নটা বুকের ভেতর লালন করছিল রাজশাহীর ক্রিকেটপ্রেমীরা, অবশেষে তার বাস্তব রূপ দেখল মিরপুর। ২০১৯-২০ মৌসুমে

2026-01-24T04:12:37+00:00
2026-01-24T04:12:37+00:00
 
  সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬,
৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
তানজিদের সেঞ্চুরিতে শিরোপা রাজশাহীর
মেহেদী হাসান
প্রকাশ: শনিবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ৪:১২ এএম 
ফাইল ছবি
দীর্ঘ চার বছর ধরে যে স্বপ্নটা বুকের ভেতর লালন করছিল রাজশাহীর ক্রিকেটপ্রেমীরা, অবশেষে তার বাস্তব রূপ দেখল মিরপুর। ২০১৯-২০ মৌসুমে ড্যারেন সামির নেতৃত্বে শেষবার বিপিএল জিতেছিল রাজশাহী রয়্যালস। সময় বদলেছে, বদলেছে নামও। কিন্তু বদলায়নি সাফল্যের ক্ষুধা। সেই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে নতুন পরিচয়ে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স আবারও উঠল বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের সর্বোচ্চ মঞ্চে। ফাইনালের চাপ, আলো আর প্রত্যাশার ভার সামলে রাজশাহীর এই শিরোপা জয়ের নায়ক তানজিদ তামিম। রাজশাহীর দেওয়া ১৭৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১১১ রানে অলআউট হয়ে চট্টগ্রাম হারল ৬৩ রানের ব্যবধানে।

চট্টগ্রাম রয়্যালসের বিপক্ষে ফাইনালে তানজিদের সেঞ্চুরি নিঃসন্দেহে ম্যাচের গল্প বদলে দিয়েছে। তবে এই ইনিংস একেবারে নিখুঁত ছিল না। দুই বার জীবন পেয়েও কোনো ভুল করেননি বাঁহাতি ওপেনার। শেষ পর্যন্ত সেই জীবনগুলোকেই পরিণত করলেন রাজশাহীর শিরোপার ভিত্তিতে। ১৯তম ওভারের তৃতীয় বলে মুকিদুল ইসলামকে পয়েন্ট দিয়ে ঠেলে তিন অঙ্কের ম্যাজিক ছুঁলেন তানজিদ। সেঞ্চুরির পরের বলেই অবশ্য বিদায় নেন, ডিপ পয়েন্টে আমির জামালের হাতে ক্যাচ দিয়ে। ফেরার আগে স্কোর বোর্ডে রেখে যান ৬২ বলে ৬ চার ও ৭ ছক্কায় গড়া ১০০ রানের এক ছন্দময় ইনিংস।

বিপিএলের ১২তম আসরের ইতিহাসে ফাইনালে এটি তৃতীয় সেঞ্চুরি। এর আগে ২০১৭ সালে রংপুর রাইডার্সের হয়ে ঢাকার বিপক্ষে ৬৯ বলে ১৪৬ রান করেছিলেন ক্রিস গেইল। ২০১৯ সালের ফাইনালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের হয়ে ঢাকার বিপক্ষে ৬১ বলে ১৪১ রান করেছিলেন তামিম ইকবাল। সেই তালিকায় গতকাল নিজের নাম লেখালেন তানজিদ তামিম। চলতি আসরে এটিই ছিল তার চতুর্থ সেঞ্চুরি। এর আগে রাজশাহীর অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত সিলেট টাইটান্সের বিপক্ষে ৬০ বলে ১০১ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছিলেন। রংপুর-নোয়াখালী এক্সপ্রেস ম্যাচে দেখা গিয়েছিল জোড়া সেঞ্চুরি। নোয়াখালীর হাসান ইসাখিল ৭২ বলে ১০৭* এবং তার জবাবে রংপুরের তাওহীদ হৃদয় ৬৩ বলে ১০৯ রান করেন।

ফাইনালে সন্ধ্যায় টস জিতে চট্টগ্রামের অধিনায়ক শেখ মেহেদি ব্যাটিংয়ে পাঠান রাজশাহীকে। শুরুতে তানজিদ ও সাহিবজাদা ফারহান ধীরলয়ে আগান। পাওয়ার প্লেতে ওঠে ৪০ রান। ১০.২ ওভারে দলীয় ৮৩ রানে ভাঙে ওপেনিং জুটি। ফারহান ৩০ বলে ৩০ রান করেন। এরপর তানজিদের সঙ্গে ৩২ বলে ৪৭ রানের জুটি গড়েন কেন উইলিয়ামসন। কিউই অধিনায়ক ১৫ বলে ২৪ রান করে ফিরলেও ইনিংসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখেন তানজিদ। জেমস নিশাম ও নাজমুল হোসেন শান্ত তাকে সঙ্গ দেন শেষ দিকে। শান্ত শেষ বলে আউট হন ১১ রানে। তানজিদের সেঞ্চুরিতে ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ১৭৪ রান তোলে রাজশাহী। শরিফুল ইসলাম ৩৩ রানে ২ উইকেট নেন। চলতি আসরে ১২ ম্যাচে তার উইকেট ২৬টি, যা বিপিএলের এক আসরে সর্বোচ্চ। এর আগে ২০২৫ সালে ২৫ উইকেট নিয়েছিলেন তাসকিন আহমেদ।

১৭৫ রানের লক্ষ্যে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে চট্টগ্রাম। হাসান মুরাদ ও বিনুরা ফার্নান্দোর সাঁড়াশি বোলিংয়ে পাওয়ার প্লেতেই হারায় ৩ উইকেট। এরপর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি তারা। মির্জা বাইগ ছাড়া কেউই দায়িত্বশীল ব্যাটিং করতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ১১১ রানেই গুঁটিয়ে যায় চট্টগ্রাম। সর্বোচ্চ ৩৯ রান করেন মির্জা বাইগ।

রাজশাহীর হয়ে বিনুরা ফার্নান্দো ৩ ওভারে মাত্র ৯ রান দিয়ে নেন ৪ উইকেট। হাসান মাহমুদ ৪ ওভারে ১৫ রান দিয়ে শিকার করেন ৩টি। দুটি উইকেট নেন জেমস নিশাম। চার বছরের অপেক্ষা শেষে এই জয়ে আবারও প্রমাণ হলো, রাজশাহী ফিরতেই জানে শিরোপার মঞ্চে।

এএডি/


Loading...
Loading...
- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: