সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি বন্ধের প্রতিশ্রুতি প্রার্থীদের

সমীরণ রায়

ঢাকা-১০ আসনটি রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ ও বৈচিত্র্যময় এলাকা হিসেবে পরিচিত। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতায় ১৪, ১৫, ১৬, ১৭, ১৮,

2026-01-24T04:20:23+00:00
2026-01-24T04:20:23+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬,
২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি বন্ধের প্রতিশ্রুতি প্রার্থীদের
সমীরণ রায়
প্রকাশ: শনিবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ৪:২০ এএম   (ভিজিট : ১৮৩)
ফাইল ছবি
ঢাকা-১০ আসনটি রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ ও বৈচিত্র্যময় এলাকা হিসেবে পরিচিত। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতায় ১৪, ১৫, ১৬, ১৭, ১৮, ২২ ও ৫৫ নম্বর ওয়ার্ড, ধানমন্ডি, নিউমার্কেট, কলাবাগান, হাজারীবাগ থানা ও কামরাঙ্গীরচরের অংশ অন্তর্ভুক্ত এ আসনটি সামাজিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে সমৃদ্ধ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাণিজ্যকেন্দ্র, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা ও শ্রমজীবী মানুষ- সবকিছু মিলিয়ে এখানে ভোটারদের বিভিন্ন প্রত্যাশা রয়েছে।

এ আসনে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট নয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রত্যেক প্রার্থীই এলাকার মানুষদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ও গণসংযোগের মাধ্যমে নিজেদের পরিকল্পনা ও অঙ্গীকার তুলে ধরছেন। প্রার্থীরা এলাকার বিভিন্ন অংশে- চায়ের দোকান, বাজার, আবাসিক এলাকা, করপোরেট অফিসে যথাযথ প্রচার চালাচ্ছেন। ভোটারদের সঙ্গে সংলাপ, মতবিনিময় সভা, উঠান বৈঠক এবং সরাসরি সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে তারা এলাকার সমস্যা ও সমাধান নিয়ে আলোচনা করছেন।

সব প্রার্থীই প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, নির্বাচিত হলে তারা সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাং নির্মূলে কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন। তারা জানাচ্ছেন, কেউ দলীয় পরিচয়, বংশ বা গোষ্ঠীর দোহাই দিয়ে অপরাধ করলে ছাড় দেওয়া হবে না। এলাকার কোনো কিশোর গ্যাং চলতে পারবে না এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স থাকবে।

ঢাকা-১০ আসনের নির্বাচনী প্রচারে বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা সক্রিয়। বিএনপি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা তুলনামূলকভাবে বেশি নজর কাড়ছেন। তবে জাতীয় পার্টি, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি), বাংলাদেশ লেবার পার্টি ও অন্যান্য দলের প্রার্থীরাও মাঠে সমানভাবে সক্রিয়।

সব প্রার্থীই নির্বাচিত হলে এলাকার দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধান, বিশেষ করে নিরাপত্তা, নাগরিক সেবা, অবকাঠামো উন্নয়ন ও তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধির অঙ্গীকার করেছেন। ভোটারদের আলোচনায় প্রধান সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে গ্যাস সংকট, জলাবদ্ধতা, ভাঙা রাস্তা, মাদক, চুরি-ছিনতাই এবং কিশোর গ্যাং।

ভোটাররা মনে করেন, উন্নয়ন মানে শুধু অবকাঠামো নয়, বরং নিরাপত্তা, সুশাসন ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তারা এমন প্রার্থীকে সমর্থন দেবেন যিনি বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা ও উদ্যোগের মাধ্যমে এসব সমস্যার সমাধান করবেন। কাঁঠালবাগান এলাকার ভোটার সোহানুর রহমান বলেন, ‘আমরা এমন একজন জনপ্রতিনিধি চাই, যিনি এলাকার সমস্যাগুলো বোঝেন এবং সমাধান করতে সক্রিয়। সৎ, যোগ্য ও দক্ষ প্রার্থীই আমাদের পছন্দ।’

হাতিরপুল এলাকার বাসিন্দা সাইমুন সবুজ বলেন, ‘প্রত্যেক প্রার্থীই এখানে আসছেন, ভোটারদের সঙ্গে কথা বলছেন। ভোটের সময় যত এগোবে, বোঝা যাবে জনগণের সমর্থন কার দিকে যাবে।’

ঢাকা-১০ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী দলটির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শেখ রবিউল আলম রবি। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী রয়েছেন- মো. আ. আউয়াল, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. জসীম উদ্দিন সরকার, জাতীয় পার্টির বহ্নি বেপারী, বাংলাদেশ লেবার পার্টির আবুল কালাম আজাদ, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) নাসরীন সুলতানা, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের (মুক্তিজোট) মো. আনিছুর রহমান, জনতার দলের মো. জাকির হোসেন। প্রার্থীরা এলাকাজুড়ে চায়ের দোকান থেকে শুরু করে বাসা, করপোরেট অফিস, বাজার ঘাট, অলি-গলি সব জায়গায় ভোটারদের সঙ্গে নানাভাবে সাক্ষাৎ করেছেন। নিজেদের প্রতিশ্রুতি পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছেন ভোটারদের কাছে। নিয়মিত গণসংযোগ, উঠান বৈঠক, মতবিনিময় সভা করে তারা প্রচার চালাচ্ছেন। ভোটারদের কাছে টানতে এমন কোনো কৌশল নেই যা প্রয়োগ করছেন না।

শেখ রবিউল আলম রবির হলফনামায় দেখানো হয়েছে, তার বার্ষিক আয় ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা। কোম্পানির পরিচালক হিসেবে তিনি ৬ লাখ টাকা সম্মানী পান। স্ত্রীর আয় ১০ লাখ ৭৩ হাজার ৩৯৫ টাকা। নগদ, শেয়ার ও এফডিআরসহ মোট সম্পদ ৫৭ লাখ ২১ হাজার ৬৮৬ টাকা। আয়কর রিটার্নে তার সম্পদ ২ কোটি ১৫ লাখ ৫৪ হাজার ৬২৩ টাকা। অতীতে ১০টি মামলা ছিল, যার মধ্যে দুটিতে খালাস, সাতটি মামলায় অব্যাহতি এবং বর্তমানে একটি স্থগিত।

রবি জানিয়েছেন, নির্বাচিত হলে তিনি শিক্ষার মানোন্নয়ন, সন্ত্রাস-দুর্নীতি নির্মূল এবং নাগরিক সেবা উন্নয়নে কাজ করবেন। প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা, ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম ও ইউরোপীয় মডেলের ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ চালু করা হবে। এর লক্ষ্য ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা শূন্যে নামানো। এ ছাড়া খেলার মাঠ, মসজিদ ও শিক্ষা অফিস স্থাপন করা হবে। তার অগ্রাধিকার হবে গ্যাস লাইন মেরামত, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং এলাকার সাধারণ জীবনমান উন্নয়ন।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. জসীম উদ্দিন সরকার বলেন, সমাজের প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করাই হবে আমার প্রথম কাজ। এ এলাকাটি একটি অভিজাত এলাকা। কিন্তু তা সত্ত্বেও সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক চলে। এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়াই আমার প্রথম কাজ। এলাকার জনপ্রতিনিধি হিসেবে গ্যাস সংকট নিরসন, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, খেলার মাঠ, শিক্ষার মানোন্নয়নই আমার লক্ষ্য। একই সঙ্গে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. আ. আউয়াল একজন ব্যবসায়ী। বার্ষিক আয় ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা। নগদ ৮০ হাজার, ব্যাংকে ১ লাখ ৩১ হাজার ২৯৭ টাকা। আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী সম্পদ ২৬ লাখ ৮২ হাজার ১৬০ টাকা। শিক্ষাগত যোগ্যতা এমএসসি। প্রথমবারের মতো তিনি এমপি প্রার্থী। নির্বাচিত হলে এলাকার উন্নয়ন, সন্ত্রাস-দুর্নীতি নির্মূল, গ্যাস, পানি ও ড্রেনেজ উন্নয়ন, নারী শিক্ষা ও ক্ষমতায়ন এবং যুবকদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে কাজ করবেন।

জাতীয় পার্টির প্রার্থী বহ্নি বেপারী ব্যবসায়ী। বার্ষিক আয় ৮ লাখ ৯ হাজার ৪৪৮ টাকা। নগদ ৫ লাখ টাকা। আয়কর রিটার্নে সম্পদ ১৩ লাখ ৪৮ হাজার ৪১১ টাকা। শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতকোত্তর। নির্বাচিত হলে শিশু শিক্ষা, নারী সুরক্ষা, গ্যাস ও ড্রেনেজ সমস্যা নিরসন এবং কিশোর গ্যাং ও মাদক নির্মূলে কাজ করবেন।

আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির প্রার্থী নাসরীন সুলতানা আইনজীবী। বার্ষিক আয় ১৪ লাখ ১৫ হাজার ৪৩৬ টাকা। নগদ ২৮ লাখ ১৩ হাজার ৭৫২ টাকা। আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী সম্পদ ২ কোটি ৮৩ লাখ ২৭ হাজার ১৯৪ টাকা। শিক্ষাগত যোগ্যতা মাস্টার্স। নির্বাচিত হলে শিশু ও কিশোরদের জন্য সমন্বিত শিক্ষাব্যবস্থা, খেলার মাঠ, ১০টি স্কিল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার, নারী নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, ভাসমান হকার পুনর্বাসন, লাইটিং ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং সরকারি হাসপাতাল স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

বাংলাদেশ লেবার পার্টির প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ নির্বাচিত হলে স্থানীয় সরকারকে পূর্ণ স্বাধীনতা দেবেন, আইন সংস্কার করবেন এবং নারীর ক্ষমতায়ন ও সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি নির্মূলে কাজ করবেন।

ঢাকা-১০ আসনে ভোটাররা একটি যোগ্য ও সততার সঙ্গে কাজ করা নেতাকে প্রত্যাশা করছেন। নিরাপত্তা, শিক্ষার মানোন্নয়ন, নাগরিক সুবিধা, গ্যাস ও জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধান- এসব বিষয় ভোটের মূল চাবিকাঠি। ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসবে, ভোটারদের প্রতিক্রিয়া আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে। প্রার্থীরা এখন অবধি সক্রিয় প্রচারণা চালাচ্ছেন এবং নির্বাচনী মাঠে ভোটারদের সঙ্গে প্রত্যক্ষ সংযোগ বজায় রাখছেন।

ঢাকা-১০ আসনের ফলাফল নির্ভর করবে প্রার্থীর বিশ্বাসযোগ্যতা, কর্মক্ষমতা এবং বাস্তবসম্মত পরিকল্পনার ওপর। ভোটাররা চাইছেন নির্বাচিত এমপি শুধু নির্বাচনের সময় নয়, বরং সবসময় এলাকার উন্নয়ন ও শান্তির জন্য কাজ করবেন।

এএডি/


Loading...
Loading...
- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: