এক ব্যক্তি স্ত্রীকে মোটা অঙ্কের খোরপোশ দেওয়া এড়াতে নিজের উচ্চবেতনের চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন। চার সন্তানের বাবা এই কৌশলের আশ্রয় নিলেও আদালত এতে প্রভাবিত হননি। বরং আদালতের নির্দেশে তাকে এখনও ৬ লক্ষ ৩৪ হাজার ডলার, যা প্রায় ৫ কোটি ৮৩ লক্ষ টাকার সমান, খোরপোশ হিসেবে দিতে হবে।
দম্পতি আগে কানাডার নাগরিক ছিলেন। ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে চার সন্তানকে নিয়ে তারা সিঙ্গাপুরে আসেন। এখানে স্বামী একটি বহুজাতিক সংস্থায় সিনিয়র এক্সিকিউটিভ হিসেবে কাজ করতেন। ২০২৩ সালে তার বার্ষিক আয় দাঁড়িয়েছিল ৮ লক্ষ ৬০ হাজার ডলার, যা প্রায় ৭ কোটি ৯০ লক্ষ টাকার বেশি। স্ত্রী গৃহবধূ ছিলেন। তাদের চার সন্তান ২০০৬ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে জন্মগ্রহণ করে।
কিন্তু ২০২৩ সালে স্বামী অন্য নারীর সঙ্গে সম্পর্ক শুরু করেন এবং এই সম্পর্কের সূত্রেই বিচ্ছেদের মামলা শুরু হয়। আদালতে জানা যায়, প্রথমে তিনি ২০,০০০ ডলার (প্রায় ১৫.৫ লক্ষ টাকা) খোরপোশ দিতে রাজি ছিলেন। তবে পরে এই অঙ্ক কমিয়ে ৭.৭ লক্ষ ডলার করেন। তিনি যুক্তি দেখান যে তার প্রাক্তন স্ত্রী ও সন্তানরা কানাডায় ফিরে গেছেন, সেখানে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সংক্রান্ত খরচ প্রায় নেই বললেই চলে। এরপর নিজেকে ‘গরিব’ প্রমাণ করার জন্য তিনি চাকরিটিও ছেড়ে দেন এবং কম মাইনের চাকরি নেন।
এতকিছুর পরও আদালত তার কোনো কৌশল গ্রহণ করেনি। তিনি আদালতে হাজির না হওয়ায় গ্রেফতারি পরওয়ানা জারি হয়। আদালত উল্লেখ করেছে, স্বামী যদি দায়িত্বশীল আচরণ করতেন, তাহলে চাকরি ছাড়ার কোনো প্রয়োজন হতো না। পরিবারের জন্য পর্যাপ্ত আর্থিক সহায়তা করার সুযোগ থাকলেও তিনি তা করেননি। বর্তমানে, তিনি মোট ৫ কোটি ৮২ লক্ষ টাকারও বেশি খোরপোশ দিতে বাধ্য হয়েছেন।
আদালত আরও নির্দেশ দিয়েছে, যেহেতু প্রাক্তন স্ত্রীর শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও চাকরি করছেন না, তাই তারও এবার চাকরি করা প্রয়োজন।
/ইউএমএইচ