কক্সবাজারের রামু উপজেলায় দীর্ঘ ১০ বছর ধরে একটি পুকুরপাড়ে পড়ে ছিল বড় আকৃতির এক লৌহপিণ্ড। স্থানীয় বাসিন্দারা সেটিকে সাধারণ লোহা মনে করে সেটিকে নিয়মিত কাপড় কাচার কাজে ব্যবহার করতেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি ২য় বিশ্বযুদ্ধের সময়ের অবিস্ফোরিত বোমা।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) রামু উপজেলার কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের লট উখিয়ারঘোনা তচ্ছাখালী এলাকায় বোমা সদৃশ বস্তুটির সন্ধান পাওয়া যায়। বর্তমানে সেটি নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করার প্রক্রিয়া চলছে।
গত ২৩ জানুয়ারি দুপুরে রামুর ইতিহাস গবেষক ও আইনজীবী শিরূপন বড়ুয়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বোমা সদৃশ বস্তুটির দু’টি ছবি প্রকাশ করেন। ছবি প্রকাশের পর এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও কৌতূহল সৃষ্টি হয়। ব্যক্তিগত আগ্রহ থেকে এদিন তিনি আরেকজন শিক্ষকসহ বস্তুটি দেখতে যান।
ওইদিন ফেসবুক পোস্টে শিরূপন বড়ুয়া লেখেন, ‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বোমা! এই বোমাটার উপর নাকি বহুদিন ধরে মানুষ কাপড় কাচার কাজ করত। এতে এক্সপ্লোসিভ আছে কি না পরীক্ষা করা দরকার। না থাকলে এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মারক হিসেবে সংরক্ষণ করা উচিত। এটাও তো রামুর ইতিহাসের অংশ।’
তিনি বলেন, বোমা সদৃশ বস্তুটির কথা আমি আগেই জেনেছিলাম। আমার ধারণা, এটি জাপানে তৈরি হতে পারে এবং বর্তমানে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় রয়েছে। বস্তুটি দেখতে গ্যাস সিলিন্ডারের মতো হলেও আকারে বেশ বড় ও লম্বা।
রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ‘বোমাটি মূলত একটি পুকুরে ছিল। প্রায় ১০ বছর আগে স্থানীয় কেউ পুকুর থেকে তুলে পাড়ে রেখে দেয়। এরপর দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় মানুষ সেটির ওপর কাপড় ধোয়ার কাজ করে আসছিল।’
তিনি বলেন, ‘স্থানীয় এক সচেতন নাগরিক বিষয়টি পুলিশকে জানালে শুক্রবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়। পরে বোমাটিকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে চারপাশ ঘিরে রাখা হয় এবং নজরদারি জোরদার করা হয়। বিষয়টি সেনাবাহিনীকে অবহিত করা হলে তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বোমাটি নিষ্ক্রিয় করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে।’
সময়ের আলো/কেএইচও