বাতাসের শুষ্কতা, তাপমাত্রার ওঠানামা কিংবা দৈনন্দিন অবহেলা— সবচেয়ে আগে যার প্রভাব পড়ে, তা হলো পায়ের গোড়ালি। মুখ বা হাতের যত্নে আমরা যতটা মনোযোগী, পায়ের বেলায় ততটা নই। তবে আশার কথা হলো, নিয়মিত যত্ন আর কয়েকটি সহজ ঘরোয়া উপায় মেনে চললে পা ফাটার সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
পায়ের যত্নের প্রথম ধাপ হলো মৃত কোষ দূর করা। গোড়ালিতে জমে থাকা শক্ত ও শুষ্ক চামড়া না তুললে কোনো তেল বা ক্রিম ঠিকমতো কাজ করে না। তাই সপ্তাহে অন্তত দুই থেকে তিন দিন স্ক্রাবিং করা জরুরি। রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে হালকা গরম পানিতে পা ১০-১২ মিনিট ডুবিয়ে রাখুন।
পানির মধ্যে এক চামচ লবণ, সামান্য বেবি শ্যাম্পু বা বডিওয়াশ মিশিয়ে নিলে ত্বক আরও নরম হবে। এরপর পামিস স্টোন বা নরম ব্রাশ দিয়ে আলতোভাবে গোড়ালি ঘষে নিন। এতে মৃত কোষ উঠে গিয়ে ত্বক মসৃণ হতে শুরু করবে।
স্ক্রাবিংয়ের পর প্রয়োজন গভীর পুষ্টি। এ ক্ষেত্রে নারকেল তেল অত্যন্ত কার্যকর।
রাতে ঘুমের আগে সামান্য নারকেল তেল হালকা গরম করে গোড়ালিতে ভালো করে মালিশ করুন। এরপর পরিষ্কার মোজা পরে নিলে সারা রাত ধরে তেল ত্বকে শোষিত হবে এবং সকালে পা অনেকটাই নরম লাগবে।
আরেকটি জনপ্রিয় ও কার্যকর উপাদান হলো অ্যালোভেরা। ফ্রেশ অ্যালো জেল ফাটা জায়গায় লাগিয়ে মোজা পরে রাতভর রেখে দিন। অ্যালোভেরার অ্যান্টিসেপটিক ও হিলিং গুণ ত্বকের জ্বালা কমায়, ব্যথা প্রশমিত করে এবং নতুন কোষ গঠনে সাহায্য করে। বিশেষ করে যাদের গোড়ালিতে হালকা রক্তপাত বা জ্বালা রয়েছে, তাদের জন্য এটি খুব উপকারী।
গ্লিসারিন ও গোলাপজলের মিশ্রণ বহুদিনের পরীক্ষিত একটি ঘরোয়া সমাধান। সমপরিমাণ গ্লিসারিন ও গোলাপজল মিশিয়ে প্রতিদিন রাতে গোড়ালিতে লাগান। কয়েক দিনের মধ্যেই শুষ্কতা কমে আসবে। চাইলে এর সঙ্গে দুই ফোঁটা লেবুর রস মেশানো যেতে পারে, তবে যাদের ত্বক অতিরিক্ত সংবেদনশীল, তারা লেবু ব্যবহার না করাই ভালো।
ভ্যাসলিন দিয়েও ঘরে বসেই তৈরি করা যায় একটি কার্যকর ক্র্যাক-ক্রিম। এক চামচ ভ্যাসলিনের সঙ্গে সামান্য লেবুর রস মিশিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করুন। রাতে গোড়ালিতে ভালো করে লাগিয়ে মোজা পরে নিলে ত্বক দ্রুত সেরে ওঠে।
তবে শুধু ঘরোয়া প্যাকেই নয়, দৈনন্দিন কিছু অভ্যাস বদলানোও জরুরি। পা সবসময় পরিষ্কার ও শুকনো রাখুন, প্রতিদিন গোসলের পর ভালো ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। খোলা স্যান্ডেল পরলে ঘরে ফিরে পা ধুয়ে নিন। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান করুন, কারণ শরীর হাইড্রেটেড না থাকলে ত্বকও শুষ্ক হয়ে পড়ে। এই সহজ নিয়মগুলো মেনে চললে শীত হোক বা গরম— আপনার পায়ের ত্বক থাকবে নরম, মসৃণ ও স্বাস্থ্যকর।
এফআর