চালের আমদানি অব্যাহত দিনাজপুরের হিলিতে চালের দাম কমেছে কেজিপ্রতি ৮ টাকা। এর আগে গত ২১ জানুয়ারি থেকে ভারত থেকে চাল আমদানি শুরু হয়। এরপর হিলিতে সব ধরনের চালের দাম কমেছে কেজিতে ৩-৮ টাকা পর্যন্ত। আমদানি অব্যাহত থাকলে দাম আরো কমতে পারে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) হিলির চালের বাজার ঘুরে দেখা এ তথ্য জানা গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, স্বর্ণা জাতের চাল আগে ৪৬ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে তা কমে ৪৩ টাকা বিক্রি হচ্ছে। সরু চাল ৭৩ থেকে কমে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি কমেছে শম্পা কাটারি জাতের চালের দাম। আগের দাম ৭০ টাকা থেকে কমে কেজিপ্রতি ৬২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
হিলি বাজারে চাল কিনতে আসা ভ্যানচালক আসলাম হোসেন বলেন, সারা দিন ভ্যান চালিয়ে যা আয় হয়, তা দিয়ে কোনো রকমে সংসার চলে। মোটা চালের দাম বেড়ে যাওয়ায় সমস্যার মধ্যে পড়তে হয়েছে। তবে ভারত থেকে আমদানি শুরু হওয়ায় চালের দাম কিছুটা কমেছে। গত কয়েকদিন আগেও ৪৬ টাকার নিচে মোটা চাল পাওয়া যাচ্ছিল না। এখন ৪৩ টাকায় পাচ্ছি।
শরিফুল ইসলাম আরেক ক্রেতা বলেন, হঠাৎ করেই সরু চালের দাম প্রতি কেজি ৭০ টাকা ছাড়িয়ে যায়। বাধ্য হয়ে চাল কেনার পরিমাণ কমাতে হয়েছিল। তবে চলতি সপ্তাহে চালের দাম কমতে শুরু করেছে। গত কয়েকদিন আগে সরু চাল বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ৭৩ টাকায়। এখন বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকায়। আর শম্পা কাটারি জাতের চাল আগে ৭০-৭১ টাকা বিক্রি হলেও এখন তা কমে ৬২-৬৩ টাকা বিক্রি হচ্ছে।
চাল বিক্রেতা অনুপ বসাক বলেন, সরবরাহ কম থাকায় চালের দাম কিছুটা বেড়েছিল। আমদানি শুরু হওয়ায় বাজারে চালের সরবরাহ অনেকটা বেড়েছে। এতে মোকামে সব ধরনের চালের দাম কমতে শুরু করেছে। আমরা এখন কম দামে কিনতে পারছি। এ কারণে কম দামে বিক্রিও করতে পারছি। এছাড়া সরকার ওএমএসের মাধ্যমে ৩০ টাকা কেজিদরে চাল বিক্রি শুরু করেছে। এতে বাজারে চালের চাহিদা কমে যাওয়ায় দামের ওপর প্রভাব পড়েছে।
চাল আমদানিকারক দীনেশ পোদ্দার জানান, বাজার নিয়ন্ত্রণে ১৮ জানুয়ারি ২৩২ জন আমদানিকারককে দুই লাখ টন চাল আমদানির অনুমতি দেয় সরকার। ২১ জানুয়ারি থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে চাল আমদানি শুরু হয়। এবারে চাল আমদানি উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। এতে করে ধীরে ধীরে আমদানির পরিমাণ বাড়বে। দেশের বাজারে চালের দাম নিয়ে যে অস্থিরতা, সেটি কেটে যাবে। এরই মধ্যে চালের দাম অনেকটা কমে এসেছে। আমদানি বাড়লে দাম আরো কমবে।
হিলি স্থলবন্দর উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপসহকারী সংগনিরোধ কর্মকর্তা ইউসুফ আলী বলেন, হিলি স্থলবন্দর দিয়ে সর্বশেষ ৩০ নভেম্বর চাল আমদানি হয়েছিল। এরপর থেকে আমদানি বন্ধ ছিল। সরকার অনুমতি দেওয়ায় ২১ জানুয়ারি থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে চাল আমদানি শুরু হয়েছে। এরপর থেকে নিয়মিতভাবে আমদানি অব্যাহত রয়েছে।
সময়ের আলো/আআ