শেরপুরে চেয়ার বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের সংঘর্ষের ঘটনায় ঝিনাইগাতী উপজেলা জামায়াত নেতা মাওলানা রেজাউল করিম মারা গেছেন।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দিবাগত রাত নয়টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
এর আগে, এদিন বিকেল তিনটার দিকে ঝিনাইগাতী উপজেলা মিনি স্টেডিয়ামে প্রথম দফায় এবং ঝিনাইগাতী বাজারে সন্ধ্যা ছয়টা থেকে আটটা পর্যন্ত দ্বিতীয় দফায় বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে আহত হয়েছেন সেনা সদস্যসহ উভয়পক্ষের অন্তত দুই শতাধিক নেতাকর্মী।
নিহত রেজাউল করিম শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারির দায়িত্বে ছিলেন।
জানা গেছে, বুধবার বিকেল তিনটার শেরপুর-৩ (ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিয়ে ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে উপজেলা প্রশাসন। ঝিনাইগাতী উপজেলা মিনি স্টেডিয়ামে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে পূর্ব নির্ধারিত সময় অনুযায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম রাসেল, ঝিনাইগাতী থানার ওসি নাজমুল হাসানসহ অন্যরা মঞ্চে অনুষ্ঠান শুরুর অপেক্ষা করছিলেন।
এ সময় আগে থেকেই অনুষ্ঠানস্থলে জামায়াতের নেতাকর্মীরা নির্ধারিত আসনে বসেছিলেন। তবে বিএনপির অনেক নেতাকর্মী বিলম্বে আসায় তারা বসার আসন না পেয়ে জামায়াতের কর্মীদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে উভয়পক্ষে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং চেয়ার ছোড়াছুড়ির ঘটনা ঘটে। এসময় উভয়পক্ষে সংঘর্ষ বাধে এবং বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল ভেঙে ফেলা হয় ও পুড়িয়ে দেওয়া হয়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনে।
এদিকে, এ ঘটনায় বিএনপি নেতাকর্মীরা ঝিনাইগাতী বাজারে অবস্থান নিয়ে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে পাল্টা হামলার প্রস্তুতি নেয় এবং মিনি স্টেডিয়াম এলাকায় জামায়াতের নেতাকর্মীদের অবরুদ্ধে করে রাখে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ, সেনাবাহিনী এবং বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়।
সন্ধ্যার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অবরুদ্ধ জামায়াত নেতাকর্মীদের নিরাপদে চলে যেতে অবস্থান নিয়ে সুযোগ করে দেয়। এসময় বিএনপি নেতাকর্মী মুখোমুখি হয়ে পড়ে জামায়াতের নেতাকর্মীরা। এতে তাদের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ শুরু হয়। সন্ধ্যা ছয়টা থেকে চলা সংঘর্ষ চলে প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে সেনা সদস্যরাও আহত হন।
এছাড়াও উভয়পক্ষের অন্তত ২০০ নেতাকর্মী আহত হন। আহতদের ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এরমধ্যে গুরুতর আহতদের শেরপুর সদর ও আশঙ্কাজনক অবস্থায় কয়েকজনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
তবে ময়মনসিংহে নেওয়ার পথে মারা যান জামায়াত নেতা রেজাউল করিম। এ নিয়ে জেলাজুড়ে উত্তেজনা তৈরি হয়।
জেলা জামায়াতের পক্ষে প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে তাদের ওপর বিএনপির হামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়।
এ বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার আকরামুল হোসেন জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পুলিশ ও সেনাবাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে।
এফআর