মাঠের পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতার অভাব আগে থেকেই ছিল। সেই সঙ্গে কোচ জাবি আলোনসোর বিদায়ের ধাক্কা। সব মিলিয়ে রিয়াল মাদ্রিদ যখন ঘুরে দাঁড়ানোর পথ খুঁজছিল, ঠিক তখনই নতুন বিপত্তি। উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে হোসে মরিনিয়োর বেনফিকার কাছে বিধ্বস্ত হলো স্প্যানিশ জায়ান্টরা। লিসবনের মাঠে ৪-২ গোলের এই হারে রিয়ালের সরাসরি শেষ ষোলোর স্বপ্ন এখন প্লে-অফের সুতোয় ঝুলছে।
পুরো ম্যাচে বল দখলে রিয়াল কিছুটা এগিয়ে থাকলেও (৫৩ শতাংশ) আক্রমণের ধার ছিল বেনফিকার বেশি। রিয়ালের ৬টি লক্ষ্যভেদী শটের বিপরীতে বেনফিকা ১২টি শট লক্ষ্যে রেখেছিল। এই হারের ফলে টেবিলের তিন নম্বর থেকে সরাসরি নয় নম্বরে নেমে গেছে রিয়াল মাদ্রিদ। নিয়ম অনুযায়ী, শীর্ষ আটের বাইরে থাকা দলগুলোকে এখন প্লে-অফ খেলে শেষ ষোলোর টিকেট কাটতে হবে। অন্যদিকে এই জয়ে প্লে-অফের দৌড়ে নিজেদের টিকিয়ে রাখল মরিনিয়োর বেনফিকা।
বুধবার ছিল চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ৩৬ দলেরই মাঠে নামার মহাব্যস্ত রাত। কেউ ছিল শেষ ষোলো নিশ্চিত করার দৌড়ে, কেউ বা টিকে
থাকার লড়াইয়ে। এমন সমীকরণের রাতে শুরুটা রিয়াল মাদ্রিদ ভালোই করেছিল। খেলার ৩০ মিনিটেই কিলিয়ান এমবাপের গোলে লিড নেয় তারা। কিন্তু এরপরই শুরু হয় বেনফিকার পাল্টা আক্রমণ। ৩৬ মিনিটে সমতায় ফেরে বেনফিকা। পর্তুগিজ ক্লাবটির দাপটের সামনে খেই হারিয়ে ফেলে ‘লস ব্লাঙ্কোস’রা। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে স্পট কিক থেকে ২-১ ব্যবধানে এড়িয়ে যায় পর্তুগিজ ক্লাবটি। বিরতির পর ৫৪ মিনিটে ব্যবধান ৩-১ করে বেনফিকা।
নাটকীয় ম্যাচের নির্ধারিত সময় পর্যন্ত ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে জয় প্রায় নিশ্চিত করে ফেলেছিল বেনফিকা। ৫৮ মিনিটে এমবাপে নিজের দ্বিতীয় গোল করে ব্যবধান ৩-২ এ কমালেও সেটি রিয়ালের হার ঠেকাতে পারেনি। ইনজুরি সময়ে যোগ হয় লাল কার্ডের নাটক। রাউল অ্যাসেন্সিও ও রদ্রিগো দ্বিতীয় হলুদ কার্ডে মাঠ ছাড়লে ৯ জনের দলে পরিণত হয় রিয়াল। সেই সুযোগে ম্যাচের শেষ পেরেকটি ঠোকেন বেনফিকা গোলরক্ষক আনাতোলি ট্রুবিন। গোলপোস্ট ছেড়ে এসে ফ্রি-কিক থেকে দুর্দান্ত হেডে তিনি দলের ৪-২ ব্যবধানের বিশাল জয় নিশ্চিত করেন।
৩৬ দলের এই মহাযুদ্ধে লিগ টেবিলের শীর্ষ আটটি দল সরাসরি পৌঁছে গেছে নক-আউট পর্বে। কোনো প্লে-অফ ছাড়াই শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের চার পরাশক্তি আর্সেনাল, ম্যানচেস্টার সিটি, চেলসি এবং টটেনহ্যাম হটস্পার। তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে ৪-১ ব্যবধানে জয় পাওয়া স্প্যানিশ জায়ান্ট বার্সেলোনা, ২-১ গোলে জয় পাওয়া জার্মান চ্যাম্পিয়ন বায়ার্ন মিউনিখ এবং পর্তুগিজ ক্লাব স্পোর্টিং সিপি। পূর্ণ আধিপত্য বজায় রেখে তারা এখন ফুরফুরে মেজাজে পরবর্তী রাউন্ডের অপেক্ষায়।
শীর্ষ আটের বাইরে থাকা অর্থাৎ ৯ থেকে ২৪ নম্বর দলগুলোকে এখন খেলতে হবে দুই লেগের প্লে-অফ।
এই ১৬টি দলের লড়াই থেকে জয়ী ৮টি দল পাবে শেষ ষোলোর বাকি টিকেটগুলো। এই তালিকায় সবচেয়ে বড় নাম রিয়াল মাদ্রিদ ও বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পিএসজি। গতবারের চ্যাম্পিয়ন পিএসজি ঘরের মাঠে নিউক্যাসলের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে তালিকার ১১ নম্বরে থেকে প্লে-অফ নিশ্চিত করেছে। তাদের সঙ্গে এই কঠিন পথে হাঁটতে হবে ইন্টার মিলান, জুভেন্টাস, অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ ও বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের মতো শক্তিশালী দলগুলোকে। বেনফিকাও শেষ মুহূর্তের জয়ে এই তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে।
টুর্নামেন্টের রোমাঞ্চ যখন তুঙ্গে, তখন একরাশ হতাশা নিয়ে ছিটকে গেছে বেশ কিছু নামি ক্লাব। আগে থেকেই বিদায় নিশ্চিত ছিল ভিয়ারিয়াল ও আইনট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্টের মতো দলের। শেষ দিনের লড়াইয়ে তাদের সঙ্গী হয়েছে নাপোলি, আয়াক্স, পিএসভি আইন্দহোভেন ও মার্সেইয়ের মতো দলগুলো। ইউরোপ সেরার মুকুট জয়ের স্বপ্ন এবারের মতো শেষ হয়ে গেল এই ক্লাবগুলোর জন্য।
এফআর