অবৈধ অভিবাসী কর্মীদের ধরতে আধুনিক টেকনোলজি ব্যবহার শুরু করেছে মালয়েশিয়া। দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ অত্যাধুনকি থার্মাল ড্রোন ব্যবহার করে অর্ধশতাধিক বাংলাদেশিসহ ২১৮ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করেছে বলে জানা গেছে।
শুক্রবার (৩০জানুয়ারি) দেশটির সরকারি গণমাধ্যম বার্নামা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে কুয়ালালামপুরের চেরাস তামান ইমান এলাকায় ইমিগ্রেশন ও জাতীয় নিবন্ধন বিভাগ যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় অনেকেই ভবনের ছাদে, ড্রেনে, রুমের সিলিংয়ের মধ্যে পালানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। এ সময় অত্যাধুনিক থার্মাল ড্রোন ব্যবহার করে ১৫ জন বিদেশিকে ধরতে সক্ষম হয়।
ইমিগ্রেশন বিভাগের (অপারেশন) ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল দাতুক লোকমান এফেন্দি রামলি বলেন, ‘থার্মাল ড্রোন ব্যবহার করে প্রায় ১৫ জন বিদেশি নাগরিককে ধরা সম্ভব হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৮টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত চলা এই অভিযানে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও আবাসিক ভবনে থাকা ১ হাজার ৮৭ জনের কাগজপত্র যাচাই করা হয়। এর মধ্যে ১৮ থেকে ৫৩ বছর বয়সী ২১৮ জনকে ইমিগ্রেশন আইন লঙ্ঘনের দায়ে আটক করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আটককৃতদের মধ্যে ১৬৬ জন পুরুষ ও ৫২ জন নারী। এদের মধ্যে মিয়ানমারের ৭৮ জন, বাংলাদেশের ৫৬ জন, ইন্দোনেশিয়ার ৪৪ জন, নাইজেরিয়ার ১২ জন, নেপালের ১০ জন, ভারতের ৫ জন, শ্রীলঙ্কার ৪ জন এবং অন্যান্য দেশের ৯ জন নাগরিক রয়েছেন।’
আটককৃতদের দেশটির সেমেনিহ ইমিগ্রেশন ডিটেনশন ডিপোতে রাখা হয়েছে। বৈধ নথিপত্র না থাকা, ভিসার শর্ত ভঙ্গ, অতিরিক্ত সময় অবস্থান এবং ভুয়া কার্ড ব্যবহারের মতো অপরাধে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।
দুই সপ্তাহের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এই অভিযানে ২৭৯ জন ইমিগ্রেশন অফিসার এবং জাতীয় নিবন্ধন বিভাগের ১০ জন কর্মকর্তা অংশ নেয় বলে মালয়েশিয়ান ইমিগ্রেশন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।
সময়ের আলো/কেএইচও