মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। পারস্য উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে জোরদার হওয়ার পর ইরানের সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর কিছুদিনের মধ্যেই সম্ভাব্য মার্কিন হামলার আশঙ্কায় আগামী সপ্তাহে হরমুজ প্রণালীতে সরাসরি গোলাবর্ষণসহ নৌ মহড়া চালানোর ঘোষণা দিয়েছে তেহরান।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, এই মহড়া পরিচালনা করবে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) নৌবাহিনী। পাশাপাশি দেশটির সামরিক বাহিনীতে যুক্ত করা হয়েছে এক হাজারের বেশি উন্নতমানের ড্রোন।
এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে আরও একটি যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, গত ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইউএস নৌবাহিনীর ডেস্ট্রয়ার ইউএসএস ডেলবার্ট ডি. ব্ল্যাক ওই অঞ্চলে প্রবেশ করেছে। এর ফলে বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ডেস্ট্রয়ার যুদ্ধজাহাজের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ছয়টিতে। এছাড়া সেখানে একটি বিমানবাহী রণতরী ও তিনটি লিটোরাল কমব্যাট শিপও মোতায়েন রয়েছে।
মার্কিন হামলার সম্ভাবনার মধ্যে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, তারা যেকোনো সামরিক পরিস্থিতি মোকাবেলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনাকে দেওয়া বক্তব্যে আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলি মোহাম্মদ নায়েনি বলেন, শত্রুপক্ষের যেকোনো সামরিক পদক্ষেপ ও শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড মোকাবেলায় ইরানের বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রস্তুত রয়েছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে তা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে। তিনি বলেন, ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, সে লক্ষ্যেই প্রয়োজন হলে মার্কিন সামরিক বাহিনী ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখনো সব বিকল্প খোলা রয়েছে।
এদিকে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে তাতে যুক্তরাজ্য সহযোগিতা নাও করতে পারে।
একই সঙ্গে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটম জানিয়েছে, প্রয়োজনে ইরানের বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে তাদের কর্মীদের সরিয়ে নিতে মস্কো প্রস্তুত রয়েছে।
উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক তৎপরতাও চলছে। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান হবে ভুল সিদ্ধান্ত এবং এখনো আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের সুযোগ রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি আঙ্কারা সফরে যাচ্ছেন।
এদিকে সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে কঠোর দমন-পীড়নের অভিযোগে ইরানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। পাশাপাশি ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে সমর্থন দেওয়ার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। একই দিনে ইইউর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা আইআরজিসিকে আনুষ্ঠানিকভাবে সন্ত্রাসী সংগঠনের তালিকাভুক্ত করার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছান।
/ইউএমএইচ