উৎপাতশূন্যতন্ত্রী
প্রমা-ই জিজীবিষা যেন মনীষা কোন দুর্মতি নয়
অথচ চমকও প্রীতির ঘনিষ্ঠতা অব্যক্ত রাখেনা
তথা মগ্ন হতে হলেও অন্যমনস্ক হতে হয়: নির্ধূত
হওয়াই প্রশ্রয় যেন মনোজ্ঞ হলেও অধিগ্রহণকে
বুঝি প্রতিহনন অর্থাৎ জিহীর্ষা কখনো অভিধর্ম
হয় না মূলত শান্ত্রী যা চিৎপ্রকর্ষের মত বিবিক্ত-
যথা নির্বিশঙ্ক ইতিহর্ষে রফামূর্ত থাকে রধিকার;
উৎপাতশূন্য হলে সন্তাড়িত হয় চিৎকণার ভ্রমা-
যেন ক্ষিপ্রতা নয় সম্মূঢ় কোন ঈপ্সার কলুষ যা
শীল মূলত চিরানুরক্ত খোশে উদ্ভূত হয় বৈক্লব্য
সমস্ত শিশুশ্বাসের ছায়াপর্ব
পেঁচার দিকে লোকবিশ্বাস নিয়ে তাকিয়ে থাকি; কে যেন
আমাকে স্বপ্নে দেখায় নিকটবর্তী সকল বিপর্যয়–ক্ষয়, মৃত্যু,
ভাঙনে দেখি রসিকতা ও দ্বিধানৃত্য ছাড়া কিছুই নেই; চর্চা
করি ছায়াপ্রতিবিম্ব দেখে, বিতর্ক করি, দেহের জলশুষ্কতাই
কী তাহলে আমার দুঃস্বপ্ন তৈরি করে? যে দৌড়দেহ হয়রান
করে প্রতিপক্ষকে তার হাড়কাঠামো ও অপরাধপ্রবণমুখ
কেবল মনে থাকে; কোথাও সংক্ষিপ্ত হয় বাঘভক্ষনস্মৃতি,
যেন ইঙ্গিত সকলই প্রহসন হয়ে উঠতে চায়। স্ত্রীগমনপ্রিয়
কিছু উদ্বেগশূণ্যতা এখনো অনুরঞ্জকরূপে টিকে আছে;
এই যে পরিণত সন্তাপহীনতা, শিশুশ্বাস, কোথাও কোনো
অশ্লেষা নেই-এ সবই তো বিদ্রুপ; হে অন্ধিসন্ধি, তোমাকে
চমকে দিয়ে দেখো প্রাণীদেহে আজ আত্মশ্লাঘা জন্মাচ্ছে
ফণাসদৃশ গিরিসমূহের অনুকম্পা
কেন যে মুখরতা পতনের পূর্বেই জন্ম নেয়! অদৃষ্টি গুলোও
কুরঙ্গগঞ্জনের মতোন জড়তাহীন তাই বিভ্রম হয়ে উঠে; যেন
নিম্নভূমি থেকে উদ্ভূত এক গিরি, যার জলপ্রমাণ ঘূর্ণির ন্যায়
বিষণ্ণ ফণাগুলো শিকারপিপাসায় উন্মুখ-সেই ফণা গুলো
নেমে আসে দূর নক্ষত্রের ভগ্নশিখর থেকে; আর তখনই
আমরা, গোরখোদকের মতো অতিপরিচিত শত্রুতে পরিণত
হই। অপঘাতে মৃত্যুর জন্য যেন একত্রিত হয় আমাদের সমস্ত
উচ্চতাভীতি ও উগ্রবীর্য। তখন চোখের দিকবোধ ভেঙে গিয়ে
আদ্যাশক্তির নিরপেক্ষতাকে ভেদ করে সমস্ত প্রমাণ ও
প্রত্নস্মৃতি পরিণত হয় শল্যচিহ্নে-যেন অবসন্ন পুরুষাঙ্গের
মতোন সহৃদয় নিয়ে থেমে গেলো ঐকবাদন ও অনুকম্পা—
ক্ষরণ ও সংবেদন পদ্ধতি
চোখের মণি উলম্ব দেখে ভেবো না আমি বিষধর যদিও
ধূসর সবুজ আতা ফলের ভেতর খোপে খোপে বিভক্ত হয়ে
আমার মনগুলো রেড়ির বীজের মতোন গুপ্তহত্যা প্রিয় হয়ে
লুকিয়ে আছে আজ তবুও দেখো মুখে পুরে নিয়ে দিনকানা
পাখির ডিম ঝরাপাতায় বসে ছানা ফুটাচ্ছি; ফোঁস ফোঁস
করি বলে ভেবো না আমি দ্রুতগামী বরং খসখসে ও ফাটল
যুক্ত আমার বাঁকল দেখে বুঝি এখনো অনুভূতি আছে, তাই,
তোমাকে মনে পড়া আজও দোয়েলের ডিমের মতো ফিকে
সবুজ ও বাদামী বর্ণের ছিটে হয়ে থাকে; তখন এনট্রপির
মতোন বিশৃঙ্খল হয়ে উঠি, খোলস পাল্টানোর আগে সাপের
মতোন সাঁতার কেটে ক্লান্ত হয়ে নিই, নির্জনে চলে যাই
শূন্যতাগর্ভে অগস্ত্যযাত্রা
পঞ্চভূতের নেই চিৎরূপাশক্তি; অথচ সন্তানসম্ভবা কল্পনা
নিয়ে একা কামকুমুকি চেয়ে আছে অগস্ত্যযাত্রার দিকে, যেন
ফণীর অপেক্ষারত প্রতীক্ষা হয়ে উঠতে চায় বজ্রচমকের
কদর্যরুচিরূপ-যার পঙ্কশরীরের রন্ধ্রে রন্ধ্রে জমে আছে
বিস্মৃত উৎসভ্রান্তি, ডুবে থাকতে চায় জলকণ্টকের মতোন,
যেখানে নেই কোন সঙ্গ কিংবা যাত্রার গৃহপথ; দেখা দেও
এখন কমলযোনি, বাহ্যজগতের প্রতিক্রিয়ায় নিঃশেষ হয়ে
এলো সাধনাচ্যুতি-কেন সকল মিথ্যাপর্ব শেষে আত্মগরজশূন্য
গান্ধর্ববিদ্যা ফেলে শূন্যতাগর্ভে পৌঁছে দেও গতিশূন্য করে?
বি. দ্র : লেখকের বানান হুবহু রাখা হয়েছে।