প্রকাশনা শিল্পের অস্তিত্ব রক্ষা ও অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলার লক্ষ্যে একুশে বইমেলা ২০২৬ নিয়ে ৪ দফা দাবি জানিয়েছে সৃজনশীল প্রকাশকেরা।
সম্প্রতি একটি স্মারকলিপিতে প্রকাশকরা উল্লেখ করেন, বিগত দেড় বছরে দেশে বইয়ের বিক্রি ৬০ শতাংশেরও বেশি হ্রাস পেয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ফেব্রুয়ারির শেষে পবিত্র রমজান মাস ও ঈদের ছুটি শুরু হওয়ায় এবং অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় মেলায় পাঠকদের উপস্থিতি ও বই বিক্রির পরিমাণ কমে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
দাবিগুলো হলো, বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি এবং ২৬২ প্রকাশকের স্বাক্ষরিত দাবির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এবং বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় এবারের বইমেলা পবিত্র ঈদুল ফিতরের পরে আয়োজন করা; স্টল ও প্যাভিলিয়ন ভাড়া মওকুফ; শিক্ষার্থীদের জন্য ‘বই-ভাতা’, পহেলা বৈশাখের উৎসব ভাতার আদলে বইমেলা উপলক্ষে মানসম্মত বই কেনার জন্য পাঠক—বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সরকারিভাবে আর্থিক প্রণোদনা বা ভাউচার ব্যবস্থা চালু করা; সরকারি বই ক্রয় নীতির সংস্কার করে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র ও গণগ্রন্থাগারের মাধ্যমে মানসম্মত বইয়ের ন্যূনতম ৩০০ কপি কেনা।
স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, নির্বাচনী প্রচারণার কারণে প্রেস ও বাইন্ডিং খাত ব্যস্ত থাকায় এবং কাগজের সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির কারণে সঠিক সময়ে মেলা প্রাঙ্গণ প্রস্তুত করা কঠিন হবে।
ওই স্মারকলিপিতে সর্বস্তরের প্রকাশকদের পক্ষে স্বাক্ষর করেছেন মেসবাহউদ্দীন আহমেদ (আহমেদ পাবলিশিং হাউস), এ কে নাসির আহমেদ (কাকলী), মাজহারুল ইসলাম (অন্যপ্রকাশ), মনিরুল হক (অনন্যা), সৈয়দ জাকির হোসাইন (অ্যাডর্ন), মাহরুখ মহিউদ্দীন (ইউপিএল; সদস্য, অমর একুশে বইমেলা কমিটি ২০২৬) এবং মাহবুব রহমান (আদর্শ; সদস্য, অমর একুশে বইমেলা কমিটি ২০২৬)।
চিঠির অনুলিপি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক, গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালকের কাছেও প্রেরণ করা হয়েছে।
সময়ের আলো/এআর