ঝরে পড়াদের ফেরানো হচ্ছে শিক্ষার আলোয়

আদিল সরকার

কেউ দরিদ্রতার কারণে ঝরে পড়েছে স্কুল থেকে, কেউ প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবের কারণে স্কুলছাড়া হয়েছে। আবার কারও ভাগ্যে

2026-02-02T02:00:52+00:00
2026-02-02T02:00:52+00:00
 
  মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬,
৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
ঝরে পড়াদের ফেরানো হচ্ছে শিক্ষার আলোয়
১৫০ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ
আদিল সরকার
প্রকাশ: সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২:০০ এএম 
সংগৃহীত ছবি
কেউ দরিদ্রতার কারণে ঝরে পড়েছে স্কুল থেকে, কেউ প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবের কারণে স্কুলছাড়া হয়েছে। আবার কারও ভাগ্যে জোটেনি স্কুলের গণ্ডিতে পা রাখার সুযোগ। 

এভাবে নানা কারণে শিক্ষার সুযোগবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে সরকার শিক্ষার আলোয় ফেরানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এ জন্য ১৫০ কোটি টাকারও বেশি ব্যয়ের একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। দুই ভাগে ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সি এবং ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সিদের এ প্রকল্পের আওতায় শিক্ষাদান করা হবে। পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্রে জানা গেছে, ১৫৮ কোটি ৭৩ লাখ ৫৮ হাজার টাকা ব্যয়ে নেওয়া এ প্রকল্পের কার্যক্রম তিন বছর ধরে চলবে দেশের প্রতিটি জেলায়। প্রকল্পটির বেশিরভাগ অর্থের জোগান দেওয়া হবে সরকারের নিজস্ব কোষাগার থেকে। আর কিছুটা আসবে বিশ্বব্যাংকের অনুদান থেকে। প্রকল্পটির মাধ্যমে লক্ষ্যগোষ্ঠীকে শিক্ষার মূলধারায় ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি একবিংশ শতাব্দীর চাহিদা পূরণের উপযোগী করে গড়ে তুলতে সহায়তা করবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট দফতর।

তবে দৃষ্টিকাড়া এ প্রকল্পে সারা দেশের উদ্দিষ্ট জনগোষ্ঠীকে নিয়ে আসতে পারা নিয়ে শঙ্কার কথা জানিয়েছেন শিক্ষাবিদরা। এ ছাড়া শিক্ষাক্ষেত্রে সরকারি-বেসরকারি এমন একাধিক প্রকল্প দেশে চলমান থাকলেও সঠিক রূপরেখা ও শেষ পর্যন্ত ফলাফল পর্যালোচনায় জবাবদিহি কিংবা মূল্যায়ন না থাকায় খুব বেশি কার্যকর হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে এমন প্রকল্পের চেয়ে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করাকে টেকসই ও ব্যয়সাশ্রয়ী বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে নেওয়া ‘বিদ্যালয়বহির্ভূত শিশুদের জন্য বিকল্প শিক্ষার সুযোগ’ প্রকল্পটি অন্তর্বর্তী সরকারের ১৯তম জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) পাস করা হয়। প্রকল্পে প্রথম ক্যাটাগরিতে ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সি ১৯ হাজার ২০০ জন বিদ্যালয়বহির্ভূত শিশুকে উপানুষ্ঠানিক প্রাথমিক শিক্ষাদান করা হবে। তবে সেখানে কমপক্ষে ৫০ শতাংশ মেয়েশিশু থাকবে (যদি মেয়েশিশু পাওয়া যায়) বলে জানানো হয়। 

এ ছাড়া দ্বিতীয় ক্যাটাগরিতে ১৫-২৪ বছর বয়সি ১৯ হাজার ২০০ জন প্রান্তিক এবং  পিছিয়ে পড়া কিশোর-কিশোরী ও তরুণদের মধ্যে যারা ইতিমধ্যে স্বাক্ষর, অর্ধস্বাক্ষর অথবা অষ্টম শ্রেণির নিচে স্কুল ড্রপআউট তাদের প্রয়োজনভিত্তিক ও বাজার চাহিদা রয়েছে এমন বিষয়ে উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো (বিএনএফই)।

এ দিকে প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয়ের ১৪৭ কোটি ৩ লাখ ৫৮ হাজার টাকা জিওবি থেকে এবং বিশ্বব্যাংকের অনুদান থেকে দেওয়া হবে ১১ কোটি ৭০ লাখ টাকা। এর বাস্তবায়ন কাল নিয়ে দুটি প্রস্তাব এসেছে। এর মধ্যে জুলাই ২০২৫ থেকে ২০২৮ সালের মধ্যে শেষ করার কথা বলেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়; অন্যদিকে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২০২৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের প্রস্তাব দেয় পরিকল্পনা কমিশন।

এ প্রকল্প বাস্তবায়নে দেশের সব জেলা থেকে ৬৪টি উপজেলা নির্বাচন করা হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ দিকে প্রধান কার্যক্রমের ৩৮ দশমিক ৬১ শতাংশ ব্যয় হবে শিশুদের শিক্ষায় এবং ৪১ দশমিক ৫৭ শতাংশ ব্যয় হবে উপার্জনের জন্য দক্ষতা উন্নয়নে। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী প্রকল্পটির জন্য ব্যক্তি পরামর্শকের মাধ্যমে সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

প্রকল্পের বিষয়ে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, এ প্রকল্পের জন্য ইউনিসেফ ডিজাইন করে কিছু অনুদান দিয়েছেন। যারা বিদ্যালয় থেকে ঝরে যায় বা শিক্ষার বাইরে আছে তাদের আবার ফিরিয়ে আনতে এটি বেশ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে তাদের দক্ষতা বাড়াতেও সাহায্য করবে। এটি একটি সম্ভাবনাময় প্রকল্প।

তবে প্রকল্পটির বিষয়ে জানতে শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, শিক্ষা নিয়ে এ ধরনের প্রকল্প দেশে অনেক আগে থেকেই আছে, তবে সাধারণত সফলতা খুব কম। 

এর কারণ প্রকল্পগুলোতে জবাবদিহি ও কমিশনের মূল্যায়ন ঠিকমতো হয় না এবং অল্প কিছু কেন্দ্র উদাহরণ হিসেবে দেখিয়ে বহু কেন্দ্র চালানো হয়। এ ছাড়া এ খাতের তহবিলের অপব্যবহারও হয়। তিনি মনে করেন, বিকল্প প্রকল্পের বদলে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইনকে শক্ত করা উচিত। নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করলে শিক্ষার মান বাড়বে এবং খরচ কম হবে। অল্প সময়ের প্রকল্পের কার্যকারিতা কম হওয়ার কারণে দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নেওয়াই কার্যকর।

সময়ের আলো/এআর

  বিষয়:   শিক্ষা  আলো 


Loading...
Loading...
- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: