জানুয়ারিতে বাড়ল রফতানি আয়

নিজস্ব প্রতিবেদক

অর্থনীতি

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রতিকূলতা সত্ত্বেও গত মাস জানুয়ারিতে বাংলাদেশের রফতানি কার্যক্রমে স্থিতিশীলতা ও বাণিজ্যে গতি ফেরার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। মাসওয়ারি হিসাবে

2026-02-02T19:26:12+00:00
2026-02-02T20:22:00+00:00
 
  সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬,
৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
অর্থনীতি
জানুয়ারিতে বাড়ল রফতানি আয়
আয় ৪.৪১ বিলিয়ন ডলার
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:২৬ পিএম  আপডেট: ০২.০২.২০২৬ ৮:২২ পিএম
বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে কমেছে রফতানি আয়। ছবি : সংগৃহীত
বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রতিকূলতা সত্ত্বেও গত মাস জানুয়ারিতে বাংলাদেশের রফতানি কার্যক্রমে স্থিতিশীলতা ও বাণিজ্যে গতি ফেরার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। মাসওয়ারি হিসাবে ডিসেম্বরের তুলনায় জানুয়ারিতে রফতানি আয় বেড়েছে ১১ দশমিক ২২ শতাংশ।

গতকাল সোমবার রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) প্রকাশিত সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি মাসে দেশের রফতানি আয় দাঁড়িয়েছে ৪৪১ কোটি ডলারের বেশি, যা আগের মাস ডিসেম্বর ২০২৫-এ ছিল ৩৯৭ কোটি ডলার। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে রফতানিতে দুই অঙ্কের প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। তবে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-জানুয়ারি সময়ে মোট রফতানি আয় হয়েছে ২ হাজার ৮৪১ কোটি ডলার, যা আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ের ২ হাজার ৮৯৭ কোটি ডলারের তুলনায় কম। এতে বিশ্ববাণিজ্য পরিস্থিতির বিরূপ প্রভাব বাংলাদেশের সামগ্রিক রফতানি পারফরম্যান্সে এখনও বিদ্যমান রয়েছে বলেই ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

আজ প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ইপিবি জানায়, তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাত আগের মতোই তার শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে। আলোচ্য সময়ে এই খাত থেকে আয় হয়েছে ২ হাজার ২৯৮ কোটি ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ১১ দশমিক ৭৭ শতাংশ বেশি। এটি বিশ্ববাজারে পোশাকের চাহিদা স্থিতিশীল থাকা এবং খাতটির প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়ার ইঙ্গিত দেয়।

আরএমজি খাতের বাইরে শীর্ষ ছয়টি রফতানি খাত- চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, কৃষি ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্য, হোম টেক্সটাইল, হালকা প্রকৌশল এবং হিমায়িত মাছের পারফরম্যান্স ছিল মিশ্র। এসব খাতে কোথাও প্রবৃদ্ধি, কোথাও আবার নেতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে।


ইপিবি জানায়, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্লাস্টিক ও প্লাস্টিকজাত পণ্য এবং হালকা প্রকৌশল পণ্যে বছরওয়ারি ও মাসওয়ারি- উভয় হিসাবেই রফতানি আয় বেড়েছে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-জানুয়ারি সময়ে প্রধান রফতানি গন্তব্যগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাজার হিসেবে অবস্থান ধরে রেখেছে। এই সময়ে দেশটিতে রফতানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫২২ কোটি ডলার।

যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি আয় একই সময়ে ১ দশমিক ৬৪ শতাংশ, বছরওয়ারি ভিত্তিতে ৩ দশমিক ৫৯ শতাংশ এবং মাসওয়ারি ভিত্তিতে ২ দশমিক ২৪ শতাংশ বেড়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বাজারেও রফতানিতে ইতিবাচক ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষণ দেখা গেছে বলে জানিয়েছে ইপিবি।

রফতানি আয়ের হিসাবে জার্মানি ও যুক্তরাজ্য যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় বৃহত্তম গন্তব্য হিসেবে রয়েছে। এ দুই দেশে রফতানি আয় হয়েছে যথাক্রমে ২৮৫ কোটি ডলার ও ২৭৮ কোটি ডলার। ইপিবির তথ্যে আরও দেখা যায়, গ্রেট ব্রিটেন, স্পেন ও নেদারল্যান্ডসে রফতানি আয় সংশ্লিষ্ট সময়, বছরওয়ারি এবং মাসওয়ারি- সব ক্ষেত্রেই বৃদ্ধি পেয়েছে।

খাত-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈশ্বিক মন্দা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, দেশে রাজনৈতিক সরকার না থাকা এবং মার্কিন শুল্ক আরোপের কারণে পোশাক রফতানিতে কিছুটা ভাটা পড়েছে। এর জন্য গত বছরের চেয়ে কিছুটা কমেছে। কারণ বৈশ্বিক মন্দায় মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমছে। বায়াররা অর্ডার কমিয়ে দিয়েছে। এ ছাড়া মার্কিন শুল্কনীতির কারণে ভারত-চীনের ব্যবসায়ীরা ইউরোপের বাজারে নজর দিয়েছে। তারা কম দামে পোশাক অর্ডার নিচ্ছে। তাই ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রফতানি কমেছে। এর বাইরে দেশের সার্বিক অনিশ্চয়তার কারণে আন্তর্জাতিক ক্রেতারা নতুন করে রফতানি আদেশ দিতে দ্বিধাগ্রস্ত হচ্ছেন। ফলে সার্বিকভাবে পোশাকের রফতানি কমেছে। তবে জানুয়ারি মাসে বেড়েছে, এটি স্বস্তির বিষয়।

সময়ের আলো/কেএইচও


  বিষয়:   জানুয়ারি  রফতানি আয় 


Loading...
Loading...
অর্থনীতি- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: